দ্য ওয়াল ব্যুরো : কিছুদিন আগেই বড় ধরনের বিদ্রোহের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে রাজস্থানের কংগ্রেস সরকার। কিন্তু ডিসেম্বরে রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচনে ধাক্কা খেল রাহুল গান্ধীর পার্টি। নভেম্বরের শেষে ও ডিসেম্বরের শুরুতে চার দফায় পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা পরিষদের ভোট হয়েছিল। রাজ্যের ২১ টি জেলার বেশিরভাগ আসনে হেরে গিয়েছে কংগ্রেস। বিজেপির দাবি, নতুন কৃষি আইনের পক্ষে ভোট দিয়েছেন রাজস্থানের মানুষ।
বুধবার রাজস্থানে পঞ্চায়েত ভোটের ফল প্রকাশিত হলে দেখা যায়, বিজেপি ১৪ টি জেলা পরিষদে জিতেছে। কংগ্রেস জিতেছে পাঁচটিতে। ২২২ টি পঞ্চায়েত সমিতির মধ্যে বিজেপি পেয়েছে ৯৩ টি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর বলেন, "কেবল রাজস্থান নয়, বিহার, তেলঙ্গানা, অরুণাচল প্রদেশ, সব জায়গাতেই ভোটের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, মানুষ বিজেপির সংস্কারগুলি খুশি হয়ে মেনে নিয়েছেন। শুধু বিরোধীরাই এখন নেতিবাচক রাজনীতি করছেন। ভোটাররা তাঁদের প্রত্যাখ্যান করেছেন।" পরে মন্ত্রী বলেন, "পূর্বে, দক্ষিণে, উত্তরে, যেখানেই যান, সর্বত্র শুধু বিজেপি বিজেপি আর বিজেপি। কৃষিতে সংস্কার নিয়ে বিরোধীরা যতই সমালোচনা করুন, মানুষ বিজেপি ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে সমর্থন করেছে।"
বিজেপির সভাপতি জে পি নড্ডা এদিন টুইট করে বলেন, "গ্রামীণ ভোটদাতারা, বিশেষত কৃষক ও মহিলারা যেভাবে বিজেপিকে সমর্থন করেছেন, তাতে আমরা কৃতজ্ঞ।"
মঙ্গলবার রাতে রাজস্থানে পঞ্চায়েত ভোটে জয়ী এক প্রার্থীর বিজয় মিছিল বার করা নিয়ে গন্ডগোল বাধে। ফতেপুর থানা অঞ্চলে দুই দলের মধ্যে সংঘর্ষে একজন খুন হন। আহত হন অন্তত ১০ জন। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম কানহাইয়া লাল। এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
রাজস্থানের টঙ্ক পঞ্চায়েত সমিতিতে কোনও দলই গরিষ্ঠতা পায়নি। বিজয়ী তিন নির্দল প্রার্থী জানিয়েছেন, তাঁরা টঙ্কের বিধায়ক তথা কংগ্রেস নেতা শচীন পাইলটকে সমর্থন করেন। কংগ্রেসকে বোর্ড গড়তে তাঁরা সাহায্য করবেন। টঙ্ক পঞ্চায়েত সমিতিতে মোট আসন আছে ১৯ টি। তার মধ্যে বিজেপি পেয়েছে ন'টি, কংগ্রেস সাতটি এবং নির্দলরা পেয়েছেন তিনটি। বিজয়ী নির্দল প্রার্থী হংসদেবী গুজ্জরের স্বামী রামলাল গুজ্জর জানিয়েছেন, তাঁরা কংগ্রেসকে বোর্ড গড়তে সাহায্য করবেন।
বুধবার বিজয়ী বিজেপি প্রার্থীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজে। তিনি বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, "বিজেপি কর্মীদের কঠোর পরিশ্রমের জন্যই জেলা পরিষদ ও পঞ্চায়েত সমিতিতে এতগুলি আসন পাওয়া সম্ভব হয়েছে।"
রাজস্থানের ভোটারদের ধন্যবাদ জানিয়ে বসুন্ধরা বলেছেন, "কংগ্রেসের মিথ্যা প্রচারে না ভুলে তাঁরা বিজেপির ওপরে আস্থা রেখেছেন।" বিজেপির রাজ্য সভাপতি সতীশ পুনিয়া বলেন, "পঞ্চায়েত রাজের ভোটে পরিষ্কার, দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারের পতন ঘনিয়ে এসেছে।" তাঁর মতে, গ্রামের মানুষ বিজেপির ওপরে আস্থা রেখেছেন। বিজেপির সংগঠনিক শক্তির জন্যই এই বিজয় সম্ভব হয়েছে।
রাজস্থানে জেলা পরিষদের ভোটে প্রার্থী ছিলেন ১৭৭৮ জন। পঞ্চায়েত সমিতিতে প্রার্থী ছিলেন ১২৬৬৩ জন।