
শেষ আপডেট: 7 June 2023 12:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডিভোর্স চাই? আদালতে আসুন। অবশ্যই আসবেন। আদালত তা যথাযোগ্য মর্যাদা দিয়ে দেখবে। কিন্তু সেই মামলার বোড়ে হিসেবে শিশুকে ব্যবহার করবেন না। প্রায় এইভাবেই এক মামলায় সাফ জানিয়ে দিল রাজস্থান হাইকোর্ট।
উপলক্ষ, এক ব্যক্তির করা একটি বিবাহবিচ্ছেদের মামলা। ২০১০ সালে তাঁর বিয়ে হয়। ২০১৮ সালে এই দম্পতি বাবা-মা হন। কিন্তু মাত্র এক বছর পরেই রাজস্থানের ভিলওয়ারা পরিবার-আদালতে সেই ব্যক্তি বিবাহবিচ্ছেদের মামলা দায়ের করেন।
নিম্ন আদালতে মামলাটি চলাকালীন সন্তানের পিতৃত্ব নিয়ে ডিএনএ পরীক্ষা করানো হয়। দেখা যায়, ওই ব্যক্তি শিশুটির জৈবিক পিতা নন।
ওই ব্যক্তি যদিও শুরুতে 'নির্মমতা' বা 'ক্রুয়েলটি'র ভিত্তিতে বিবাহবিচ্ছেদ চেয়ে মামলা করেছিলেন। কিন্তু ডিএনএ পরীক্ষার ফল আসতেই তিনি এর সঙ্গে 'পরকীয়া'-র ধারা জুড়তে চান। কিন্তু আদালত তাঁর আবেদন মানেনি। ওই ব্যক্তি তখন এর বিরুদ্ধে সরাসরি রাজস্থান হাইকোর্টে আবেদন করেন।
কিন্তু হাইকোর্ট এবার তাঁর ডিএনএ পরীক্ষা করানো নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিল। বিচারপতি পুষ্পেন্দ্র সিং ভাটির সিঙ্গল বেঞ্চ জানিয়েছে, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পিতৃত্ব নির্ধারণ পদ্ধতি কেবলমাত্র বিশেষ পরিস্থিতিতেই ব্যবহার করা যাবে। সাধারণত এই ধরণের পরীক্ষায় কোনও শিশুর ওপর চরম মানসিক প্রভাব পড়ে, তার সম্পত্তির অধিকার, সম্মান, 'প্রাইভেসি' বা গোপনীয়তা ও মানসিক শান্তি ও খুশির মত একাধিক বিষয় খর্ব হয়। আদালত জানিয়েছে, 'এই মামলাকে দুই অভিভাবকের ঝগড়ার মধ্যে দিয়ে না দেখে শিশুটির প্রেক্ষিতে আমাদের বিচার করতে হবে।'
বিচারপতি পাশাপাশি তুলে ধরেছেন ২০২৩ সালের একটি সুপ্রিম কোর্টের রায়কে। যে রায়ে বলা হয়েছে, ডিএনএ পরীক্ষা কোনওভাবেই উপযুক্ত কারণ ছাড়া রুটিন কাজ হিসেবে চালানো যাবে না। আইন অনুসারে কোনও শিশুর পিতৃত্ব নিয়ে অযাচিত খোঁজখবর করা যায় না, বিশেষ করে যদি তার দুই অভিভাবক তার জন্মের আগে থেকেই একে অন্যের ঘনিষ্ঠ থাকেন।
হাইকোর্ট মামলাটি খারিজ করে দিয়েছে।
মানুষের পা পড়ে না, ড্রোন ক্যামেরায় ধরা পড়ল ৭ হাজার বছর আগে আদিম মানবের আঁকা ছবি