দ্য ওয়াল ব্যুরো : পরপর তিনবার মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলোটের অনুরোধ ফিরিয়ে দিয়েছিলেন রাজ্যপাল কলরাজ মিশ্র। চতুর্থবার অনুরোধ করার পরে তিনি অনুমোদন দিলেন। বুধবার রাজভবন থেকে বিবৃতিতে জানানো হল, ১৪ অগাস্ট থেকে বিধানসভার পঞ্চম অধিবেশন বসার জন্য রাজ্যপাল অনুমতি দিয়েছেন।
বুধবার সকালেই রাজ্যপাল প্রশ্ন করেছিলেন, মুখ্যমন্ত্রী ৩১ জুলাই থেকে বিধানসভার অধিবেশন চাইছেন কেন? তাঁর মতে, ২১ দিনের নোটিশ ছাড়াই বিধানসভার অধিবেশন ডাকা উচিত নয়। কেন এখনই অধিবেশন ডাকা উচিত, মুখ্যমন্ত্রী তার কোনও গ্রহণযোগ্য কারণও দেখাতে পারেননি। একমাত্র সরকার যদি আস্থাভোট নিতে চায়, তাহলেই অল্পদিনের নোটিশে অধিবেশন ডাকা যেতে পারে। কিন্তু এই করোনা পরিস্থিতিতে অধিবেশনের সময় সবরকম নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিতে হবে।
অশোক গেহলোট আগে বলেছিলেন, মন্ত্রিসভার অনুরোধ মানতে বাধ্য রাজ্যপাল। ওপর থেকে চাপ আছে বলেই রাজ্যপাল অধিবেশন ডাকার অনুমতি দিচ্ছেন না। কিন্তু পরে তিনি নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেন। রাজ্যপালের কথামতো বেশ কিছুদিন দেরি করে অধিবেশন ডাকতে রাজি হন। সেইমতো তিনি প্রথম যেদিন রাজ্যপালকে অনুরোধ করেছিলেন, তার ২১ দিন বাদে শুরু হবে অধিবেশন।
চলতি মাসের শুরুতে কংগ্রেস নেতা শচীন পাইলট বিদ্রোহ করলে রাজস্থানে রাজনৈতিক অস্থিরতা শুরু হয়। আরও ১৮ জন কংগ্রেস বিধায়ক শচীনের সঙ্গে বিদ্রোহ করেন। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় শক্তিপরীক্ষা দিতে চান।
২০০ সদস্যের রাজস্থান বিধানসভায় গরিষ্ঠতা পেতে হলে চাই ১০১ টি আসন। কংগ্রেসের বিধায়কের সংখ্যা এর চেয়ে সামান্য বেশি। বিজেপির বিধায়কের সংখ্যা ৭২। এছাড়া কয়েকটি ছোট দল ও নির্দল বিধায়ক মিলিয়ে বিধানসভায় বিরোধীদের পক্ষে আছেন ৯৭ জন। এর মধ্যে বিএসপি নেত্রী মায়াবতী রাজস্থানে তাঁর দলের ছ'জন বিধায়ককে নির্দেশ দিয়েছেন, তাঁরা যেন কংগ্রেসের বিপক্ষে ভোট দেন। যদিও সেই ছয় বিধায়ক গত সেপ্টেম্বর মাসে যোগ দিয়েছেন কংগ্রেসে। বিজেপি থেকে আদালতে অভিযোগ করা হয়েছে, সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন ছয় বিএসপি বিধায়ক। আদালতে একই অভিযোগ করেছে বিএসপি-ও।
কংগ্রেস থেকে বার বার অভিযোগ করা হয়েছে, বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে রাজস্থানে সরকার ফেলতে চান শচীন। তিনি অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাঁরা কংগ্রেস ছাড়ছেন না। দলের নেতৃত্ব পরিবর্তন করাই তাঁদের উদ্দেশ্য। অশোক গেহলোট অভিযোগ করেছেন, বিজেপি টাকা দিয়ে বিধায়ক কিনতে চায়। কংগ্রেসের বহু বিধায়ককে বিপুল অঙ্কের অর্থ দিতে চাওয়া হয়েছে। বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত কংগ্রেস বিধায়কদের সঙ্গে ডিল করছেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বিরুদ্ধে তদন্ত করছে রাজস্থান পুলিশের স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ।