দ্য ওয়াল ব্যুরো : মঙ্গলবার সকালেই জানা গেল, নিজের পক্ষের বিধায়কদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসতে চলেছেন রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলোট। এর ফলে নানা মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে, খুব শীঘ্রই বিধানসভায় শক্তিপরীক্ষা দিতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিদ্রোহী নেতা শচীন পাইলট ও তাঁর অনুগামীদের পক্ষেও মঙ্গলবার দিনটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এদিনই তাঁদের সম্পর্কে রায় দিতে পারে রাজস্থান হাইকোর্ট।
গত সপ্তাহে রাজস্থান বিধানসভার স্পিকার সি পি যোশি নোটিস দিয়ে শচীন ও তাঁর অনুগামীদের কাছে জানতে চান, তাঁদের ডিসকোয়ালিফাই করা হবে না কেন। নোটিসের বিরুদ্ধে শচীনরা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন।
২০০ আসনবিশিষ্ট রাজস্থান বিধানসভায় গরিষ্ঠতা পেতে গেলে চাই ১০১ টি আসন। গেহলোটের পক্ষে আছেন ১০৩ জন বিধায়ক। গত সপ্তাহের সোমবার থেকে তাঁরা আছেন জয়পুরের ফেয়ারমন্ট হোটেলে। সেখানেই এদিন বেলা ১১ টায় কংগ্রেস পরিষদীয় দলের বৈঠক হবে।
সোমবার শচীনের হয়ে হাইকোর্টে বক্তব্য পেশ করেন আইনজীবী হরিশ সালভে। তিনি বলেন, কোনও দলের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার নিয়ে কেউ যদি ক্ষোভ প্রকাশ করেন, স্পিকার তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেন না। রাজস্থানের স্পিকার যেভাবে কয়েকজন বিধায়ককে নোটিস দিয়েছেন তাতে তাঁদের বাকস্বাধীনতা খর্ব হয়েছে।
স্পিকার সি পি যোশির হয়ে সওয়াল করেন কংগ্রেসের অভিষেক মনু সিংভি। তিনি বলেন, স্পিকারের কার্যকলাপ নিয়ে বিদ্রোহীদের হাইকোর্টে আসার অধিকার নেই। স্পিকার এখনও তাঁর সিদ্ধান্ত জানাননি। তার আগেই কীভাবে বিদ্রোহীরা আদালতের শরণাপন্ন হতে পারেন। তাছাড়া স্পিকার বা বিধানসভার কার্যকলাপে বিচারবিভাগ হস্তক্ষেপও করতে পারে না।
গত সপ্তাহে দু'বার কংগ্রেসের বৈঠকে অনুপস্থিত থাকার পর শচীন ও তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগ ওঠে। শচীনরা গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে দিল্লির কাছে দু'টি রিসর্টে আছেন। হরিশ সালভে আদালতে বলেন, কোনও বিধায়ক যদি বিধানসভার বাইরে দলের নির্দেশ অমান্য করেন, স্পিকার তাঁকে ডিসকোয়ালিফাই করতে পারেন না।
পাইলট ও তাঁর অনুগামীরা ডিসকোয়ালিফাই হলে সুবিধা হবে গেহলোটের। বিধানসভায় গরিষ্ঠতা পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যা অনেক কমে আসবে। আপাতত পাইলটের শিবিরে আছেন ১৯ জন বিধায়ক। বিজেপির বিধায়কের সংখ্যা ৭২। বিধানসভায় শক্তিপরীক্ষা হলে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার সামনে পড়বেন গেহলোট।