
শেষ আপডেট: 2 May 2022 17:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পিছু হটলেন রাজ ঠাকরে (Raj Thackeray)। মহারাষ্ট্র নব নির্মাণ সেনার প্রধান দাবি তুলেছিলেন, ৩ মে মঙ্গলবারের মধ্যে রাজ্যের সমস্ত মসজিদ থেকে মাইক খুলে নিতে হবে অথবা এমনভাবে ব্যবহার করতে হবে যাতে আওয়াজ বাইরে না আসে। ৩ মে' র মধ্যে এই দাবি পূরণ না হলে মসজিদে আজানের সময় তাঁর সমর্থকেরা বাইরে হনুমান চালিশা পাঠ করবে।
আরও পড়ুন: ক্যানভাসে তুলি ছোঁয়ালেন গ্যাবারন, স্প্যানিশ শিল্পীকে নিয়ে জমজমাট কলাভবন
আজ বিকালে রাজ (Raj Thackeray) বলেন, আমি মুসলিমদের বিরুদ্ধে নই। বিরুদ্ধে নই আজানের। আমার দাবির সঙ্গে ধর্মের কোনও সম্পর্ক নেই। এটা সামাজিক ইস্যু। অনেক মুসলিমও মসজিদে মাইক বাজানোর বিরুদ্ধে। কাল মঙ্গলবার ইদ শান্তিতে কাটুক। অনুগামীদের বলছি, কাল কেউ মসজিদের সামনে গিয়ে হনুমান চালিশা পাঠ করবেন না।
রাজের এই ভালমানুষির পিছনে অবশ্য আছে অন্য কাহিনি। গতকাল রবিবারও ঔরঙ্গাবাদের সভায় হুমকি দিয়েছেন। তাঁকে পুলিশ শর্ত দিয়েছিল, সভা থেকে উস্কানিমূলক কথা বলা যাবে না। রাজ সভায় উদ্ধবের সরকারকে হিন্দুদের শত্রু বলে সমালোচনা করেছেন। আবার এনসিপি প্রধান শরদ পাওয়ারকে হিন্দু বিরোধী নেতাদের পাণ্ডা বলেছেন। উদ্ধবের সরকারকে শরদ পাওয়ার চালান, এমন রাজনৈতিক অভিযোগে সিলমোহর দিতেই এনসিপি নেতাকে নিশানা করেন এমএনএস সুপ্রিমো, মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
আজ দুপুরে মহারাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এনসিপির নেতা দিলীপ ওয়াঘলে জানিয়ে দেন, রাজের ঔরঙ্গাবাদের ভাষণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মঙ্গলবার পদস্থ অফিসারদের বৈঠকে ডাকা হয়েছে। ভাষণ নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ কাল দুপুরের মধ্যে নেবে সরকার।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যে রাজকে প্রয়োজনে গ্রেফতারের ইঙ্গিত ছিল। গ্রেফতার এড়াতেই তিনি হনুমান চালিশা নিয়ে আপাতত পিছু হটলেন বলে মনে করা হচ্ছে।
গত কয়েকদিন ধরেই রাজের ঘোষণাকে ঘিরে মহারাষ্ট্রের রাজনীতি উত্তপ্ত ছিল। মুখ্যমন্ত্রী তথা রাজের খুড়তুতো ভাই উদ্ধব ঠাকরে জানিয়ে দেন, ২০০৫ সালে সুপ্রিম কোর্ট মাইকের শব্দসীমা বেঁধে দিতে বলে। কেন্দ্রীয় সরকারের দায়িত্ব সব রাজ্যকে বলা, যাতে রায় কার্যকর করা হয়। শুধু মহারাষ্ট্র কেন তা বলবৎ করতে যাবে?