
শেষ আপডেট: 25 August 2023 16:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আর পাঁচটা অবিজেপি শাসিত রাজ্যের মতো পাঞ্জাবেও (Punjab) রাজ্য সরকারের সঙ্গে রাজভবনের বিবাদ লেগেই আছে (Raj Bhavan and State Government Clash)। রাজ্যপাল বানোয়ারিলাল পুরোহিতের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের সাপে-নেউলে সম্পর্ক সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে। চলমান বিরোধকে শুক্রবার নয়া মাত্রা গিয়েছেন রাজপাল।
এর আগে রাজ্য বিধানসভার অধিবেশন ডাকতে অস্বীকার করে রাজ্যপাল পুরোহিত সুপ্রিম কোর্টের ভৎসর্নার মুখে পড়েন। শীর্ষ আদালত বলে বিধানসভার অধিবেশন কবে বসবে সে ব্যাপারে রাজ্য সরকারই শেষ কথা বলার অধিকারী। রাজ্যপাল অধিবেশনের সিদ্ধান্ত অনুমোদন না করলে তা অসাংবিধানিক হবে।
এবার রাজ্যপালের অভিযোগ, রাজ্যে মাদক ব্যবসা আটকাতে রাজ্য সরকার কী পদক্ষেপ করছে তা জানতে চেয়ে তাঁর চিঠির জবাব মুখ্যমন্ত্রী দিচ্ছেন না। একাধিকবার চিঠি পাঠিয়েও জবাব মেলেনি। পুরোহিতের বক্তব্য, চিঠির জবাব না দিয়ে রাজ্যপালের কাজে বাধা সৃষ্টি করছেন মুখ্যমন্ত্রী। ভগবন্ত মানের (Bhagwant Mann) বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাজ্যপাল।

মাস তিনেক আগে তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল এন রবি মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিনকে চিঠি লিখে এক মন্ত্রীকে বরখাস্ত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই চিঠির খবর জানাজানি হতে দেশ জুড়ে শোরগোল পড়ে যায়। হস্তক্ষেপ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর পরামর্শে রাজ্যপাল মাঝরাতে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি পাঠিয়ে আগের চিঠিটি প্রত্যাহার করে নেওয়ার কথা জানান। সংবিধান অনুযায়ী কোনও মন্ত্রীকে বরখাস্ত করার ক্ষমতা শুধু মাত্র মুখ্যমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর আছে। রাজ্যপাল, রাষ্ট্রপতিরা এই ব্যাপারে নাক গলাতে পারেন না।
পাঞ্জাবের রাজ্যপাল যে কাণ্ড ঘটিয়েছেন তাও নজিরবিহীন। একথা ঠিক, ৩৫৬ নম্বর অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করে রাজ্য সরকারকে বরখাস্ত করতে রাজ্যপাল কেন্দ্রের কাছে সুপারিশ করতে পারেন। অতীতে এমন দৃষ্টান্ত অসংখ্য আছে। কিন্তু কোনও রাজ্যপালকে ৩৫৬ নম্বর অনুচ্ছেদ প্রয়োগের হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখতে দেখা যায়নি। তাও মুখ্যমন্ত্রী চিঠির জবাব না দেওয়ার সরকাররে বরখাস্তের হুঁশিয়ারি দিয়ে চিঠি অভাবনীয় ঘটনা বলেই মনে করছে রাজ্যনৈতিক মহল।
আরও পড়ুন: কে আগে কথা বলতে চেয়েছিলেন, মোদী না শি? কূট-তর্কে ভারত-চিন