শেষ আপডেট: 30 April 2020 14:25
জানা গেছে, প্রতিটি নন-এসি ট্রেন এক এক ট্রিপে হাজার জন করে যাত্রী বহন করতে পারবে। সাধারণ সময়ে এই সংখ্যাটা থাকে দু'হাজার। এখন সামাজিক দূরত্ব রক্ষার তাগিদে অর্ধেক করা হবে যাত্রী সংখ্যা। এক সরকারি আধিকারিকের কথায়, "এখন এক একটি বাস ২৫ জন করে যাত্রী বহন করতে পারবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কারণে। রেলওয়ের ক্ষেত্রেও সুচিন্তিত ও কঠোর নিয়মের কাঠামো তৈরি করা হবে।"
একটি সূত্র বলছে, অভিবাসীদের ফেরানোর জন্য ট্রেনের চেয়ে বাসের উপরেই বেশি জোর দেওয়া হতে পারে, যাতে একসঙ্গে অনেক জন না হয়ে যান। কিন্তু সত্যি যাঁরা অনেক দূরের রাজ্যে আটকে আছেন, অসুবিধায় পড়েছেন, বাড়ি ফেরা জরুরি, তাঁদের জন্যই এই সুযোগ দেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে বাস খুব ভাল ব্যবস্থা নয়।
এই অবস্থায় অনেকেই মনে করছেন, প্রথমে বাস চালিয়ে কিছু মানুষকে ফেরানোর ব্যবস্থা করে জল মাপবে সরকার। তারপরে চাহিদা ও প্রয়োজন বুঝে ট্রেন চালানোর বিষয়ে পাকাপাকি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তবে বাসে করে যে এটা সম্ভব হবে না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে রাজ্য সরকারগুলি। রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট যেমন টুইট করেছেন ইতিমধ্যেই: অভিবাসী শ্রমিকদের ফেরানোর জন্য অনেক দিন ধরে যে দাবি করছি আমরা, তা পূরণ হতে চলেছে। কিন্তু ট্রেন না চালালে তা সম্ভব নয়। দূরদূরান্ত থেকে বাসে করে বিনা বাধায় ঘরে ফেরা খুব মুশকিল। রাজস্থান সরকারের কাছে বিভিন্ন রাজ্য থেকে ইতিমধ্যেই ৬ লক্ষ শ্রমিকের আবেদন এসেছে ফিরতে চেয়ে। তামিলনাড়ু, কেরালা, তেলেঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, পশ্চিমবঙ্গ, অসম-- সব জায়গায় ছড়িয়ে আছেন তাঁরা। আমি সরকারের কাছে অনুরোধ করছি, রেল ব্যবস্থা চালু করার জন্য।
ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনও বলেন, যে তিনি রেলমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলকে জানিয়েছেন, ছাত্র ও শ্রমিকদের ফেরানোর জন্য বিশেষ ট্রেন চালালে ভাল হয়। প্রসঙ্গত, বিহারের প্রায় সাড়ে ছ'লক্ষ শ্রমিক সারা দেশে ছড়িয়ে আছেন। পড়ুয়া আছেন তিন লক্ষ।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আগেই এই অনুরোধ করেছেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে ও কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। ওড়িশা, উত্তরপ্রদেশ, পঞ্জাব সরকারেরও একই দাবি।
যদিও বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার বলেছেন, কেন্দ্র যা সিদ্ধান্ত নেবে ভেবেচিন্তে, সেটাই ঠিক হবে।
শ্রমিকদের ফেরানোর সিদ্ধান্তকে অভিবাদন জানিয়েছেন কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরমও। তিনি জানিয়েছেন, ঠিক মতো জীবাণু নিষ্ক্রিয় করে এক জায়গা থেকে অন্য গন্তব্যে ট্রেন চালানে উচিত। বাস দিয়ে সেটা সম্ভব হবে না। এপ্রিল থেকেই এই দাবি করছে কংগ্রেস।
গত মাসের ১৪ তারিখে প্রায় হাজারখানেক শ্রমিক জমা হয়েছিলেন মুম্বইয়ের বান্দ্রা স্টেশনের বাইরে। তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগই দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করেন। পুলিশ জানিয়েছিল, তাঁদের সকলেই ভিন্ রাজ্যের শ্রমিক। অভিযোগ, তিন সপ্তাহের লকডাউনের জেরে ইতিমধ্যেই কাজ হারিয়েছেন প্রায় সকলেই। সরকারের তরফে দু’বেলা খাবার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও অনেকেই ঠিকমত খাবার পাননি। তার মধ্যে ফের বেড়েছে লকডাউনের মেয়াদ। আর তাতেই ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে পড়েন।
এই ঘটনা যাতে আর ভবিষ্যতে না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে সেই সময় থেকেই সমস্ত রাজ্য সরকারগুলোই কেন্দ্রের কাছে নানা ভাবে দাবি জানিয়েছে শ্রমিকদের ফেরানোর। কিন্তু লকডাউনের জেরে তা সম্ভব হয়নি। এবার লকডাউন উঠলেই যাতে সেই ব্যবস্থা হয়, সে জন্য সচেষ্ট কেন্দ্র।