দ্য ওয়াল ব্যুরো : কয়েক মাস ধরে দফায় দফায় আলোচনা ও বৈঠকের পরে হাইকম্যান্ডের উদ্দেশে চিঠি লিখেছিলেন ২৩ জন প্রথম সারির কংগ্রেস নেতা। বৃহস্পতিবার একটি সর্বভারতীয় টিভি চ্যানেলকে একথা জানিয়েছেন কংগ্রেসের এক প্রবীণ নেতা। ওই চিঠিটিকে গান্ধী পরিবারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ বলেই দেখছেন অনেকে। চিঠিতে স্বাক্ষরকারী নেতারা সকলেই পরবর্তীকালে প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বের প্রতি আস্থা জানিয়েছেন। কিন্তু তার পরেও চিঠি-বিতর্ক মিটছে না কংগ্রেসে।
চিঠিতে বলা হয়েছিল, কংগ্রেসের শীর্ষস্থানে এমন কাউকে চাই যিনি সর্বক্ষণ দলের জন্য সময় দেবেন। যাঁকে দলের কর্মীরা মাঝে মাঝে দেখতে পাবে। এদিন সর্বভারতীয় টিভি চ্যানেলকে ওই প্রবীণ কংগ্রেস নেতা জানান, জানুয়ারি থেকে চিঠি লেখার প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল। বিক্ষুব্ধরা ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে বৈঠক করতেন। কখনও একসঙ্গে পাঁচ জনের বেশি আলোচনায় বসতেন না।
মূলত তিন প্রথম সারির নেতা গুলাম নবি আজাদ, কপিল সিব্বল ও আনন্দ শর্মার বাড়িতে ওই বৈঠকগুলি হত। মধ্যপ্রদেশ কংগ্রেসে বিদ্রোহের পরে বিক্ষুব্ধরা স্থির করেন, কিছু একটা করতেই হবে। এপ্রিল, মে মাসে তাঁরা আরও ঘন ঘন বৈঠকে বসতে থাকেন।
বয়স্ক কংগ্রেস নেতাদের ধারণা, রাহুল গান্ধী তাঁদের দেখতে পারেন না। প্রবীণ কংগ্রেস নেতার মতে, যাঁরা সনিয়া গান্ধীর ঘনিষ্ঠ ছিলেন, রাহুল পারলে তাঁদের যমুনায় ছুড়ে ফেলে দেবেন।
বিক্ষুব্ধরা চেয়েছিলেন, কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধীর সঙ্গে দেখা করে পরিস্থিতিটা বুঝিয়ে বলবেন। কিন্তু সনিয়া তাঁদের সময় দেননি। তাই তাঁরা চিঠি লেখার পরিকল্পনা করেন। গোপনীয়তা বজায় রাখার জন্য চিঠির একাধিক কপি করা হয়নি। স্বাক্ষরকারীদের কাছে চিঠির বক্তব্য পড়ে শোনানো হয়েছিল।
জুন-জুলাই মাস নাগাদ ২০ জন নেতা চিঠিতে সই করতে রাজি হন। তাঁদের কেউ কেউ চাইছিলেন, আরও কয়েকজনকে দিয়ে সই করানো হোক। কেউ আবার বলছিলেন, বেশি লোকের সঙ্গে চিঠি নিয়ে আলোচনা করতে গেলে আগেই সব ফাঁস হয়ে যাবে।
বিক্ষুব্ধরা আগে স্থির করেছিলেন, ১০ অগাস্ট চিঠি দেওয়া হবে। কারণ অন্তর্বর্তীকালীন কংগ্রেস সভানেত্রী হিসাবে ওই দিন সনিয়ার একবছর পূর্ণ হচ্ছে। ৭৩ বছর বয়সী সনিয়া জুলাইয়ের শেষে হাসপাতালে ভর্তি হন। শোনা যায়, তিনি রুটিন চেক আপ করাতে গিয়েছেন।
২ অগাস্ট সনিয়া হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরেন। ৮ অগাস্ট তাঁকে চিঠি পাঠানো হয়। সেই চিঠির কোনও জবাব আসেনি। এক সপ্তাহ বাদে তাঁকে আর একটি চিঠি দেওয়া হয়। তাতে আর্জি জানানো হয়েছিল, চিঠির বিষয়বস্তু বিবেচনা না করে আপনি কোনও বড় সিদ্ধান্ত নেবেন না।