
শেষ আপডেট: 6 March 2023 09:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০২৪-এর লোকসভা ভোটে বিরোধীরা কি জোট বেঁধে (alliance) লড়াই করবে? এই প্রশ্নে ক্রমেই ধোঁয়াশা তৈরি হচ্ছে বিজেপি বিরোধী দলগুলির নানা অবস্থান ঘিরে। আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়ালের পর বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ঘোষণা করেছেন, ২৪-এর ভোটে তাঁর দলও একলা লড়াই করবে। অন্যদিকে, জোটের মুখ হতে সক্রিয় একাধিক নেতা ও মুখ্যমন্ত্রী। এই পরিস্থিতিতে জোট সম্ভাবনা নিয়ে তৈরি হওয়া সংশয়ের আবহে (atmosphere of doubts) নতুন কথা শোনালেন রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)।
লন্ডন সফররত রাহুল গান্ধী সেখানে এক সভায় বলেছেন, ‘বিরোধীদের একত্রিত করতে কংগ্রেসের কাছে কিছু অভিনব ফরমুলা রয়েছে। তবে এখনই সেগুলি প্রকাশ করে আকর্ষণ নষ্ট করতে চাই না।’
লন্ডনে ইন্ডিয়ান জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে আলাপচারিতায় ওয়েনাডের কংগ্রেস সাংসদ বিবিসি ডকুমেন্টারি নিষিদ্ধ করার বিতর্ক, সীমান্তে চিনের আগ্রাসন, মোদী সরকারের পরিচালনা, ভারত জোড়ো যাত্রার অভিজ্ঞতা এবং বিরোধী রাজনীতি নিয়ে কথা বলেছেন। ফের বলেছেন, ‘ভারতে গণতান্ত্রিক কাঠামো নৃশংস আক্রমণের মুখে পড়েছে।’
কংগ্রেস নেতার কথায়, দেশে মিডিয়া, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, বিচার বিভাগ, সংসদ শাসকের আক্রমণের মুখে। বিরোধীদের কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, চলতি পরিস্থিতির অভিজ্ঞতা থেকেই বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি, কতিপয় মানুষের দেশের সম্পদ হস্তগত করা এবং নারীর প্রতি সহিংসতার মতো সমস্যাগুলি লোকসভা নির্বাচনের অন্যতম ইস্যু হয়ে উঠবে।
তবে এত কথার মধ্যেও বিরোধী জোট নিয়ে রহস্য বজায় রাখেন কংগ্রেস নেতা। বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ করতে কংগ্রেস কী ভাবছে তা স্পষ্ট করেননি প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি।
তাঁর ভারত জোড়ো যাত্রা সফল হলেও তারপর থেকে কংগ্রেস গুটিয়ে আছে বলে একাধিক বিরোধী দল ইদানীং সরব হয়েছে। তাঁদের মধ্যে অন্যতম কংগ্রেসের ঘরের লোক বলে পরিচিত বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার। পাটনায় এক সভায় এই ব্যাপারে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, ‘আমরা সবাই কংগ্রেসের মুখ চেয়ে আছি। অথচ তারা কোনও উচ্চবাচ্যই করছে না।!
কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে রায়পুরের মহা সমাবেশ থেকে কংগ্রেস মোদী সরকারের বিরোধিতা এবং বিরোধী জোট নিয়ে জোরালো কোনও বার্তা দেয়নি। তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর সমালোচনা শুরু হয়েছে। সেই সমালোচনায় হ্রাস টানতেই রাহুল বিরোধী জোট নিয়ে রহস্য তৈরি করলেন কিনা তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
গত সপ্তাতে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রীর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে ঘোষণা করেন, বিরোধী শিবিরের মুখ্যমন্ত্রী মুখ কে হবেন তা নিয়ে কংগ্রেসের কোনও মাথাব্যথা নেই। খাড়্গে এই কথা বলে বিরোধীদের প্রতি জোটবার্তা দিতে চাইলেও রায়পুরের অধিবেশনে কংগ্রেস ২০০৪-থেকে ২০১৪ পর্যন্ত ক্ষমতাসীন ইউপিএ সরকারের মডেলে নতুন বিকল্প সরকার গঠনের প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। যার অর্থ জোটের নেতৃত্ব ছাড়তে নারাজ শতাব্দী প্রাচীন দলটি।
রাজনৈতিক মহলের কারও কারও ধারণা, পরিস্থিতি আঁচ করে কংগ্রেস রায়পুরের ঘোষণা থেকে সরে এসে জোটের নেতৃত্ব নিয়েও নরম অবস্থান নিতে পারে। কারণ, দল বুঝতে পারছে বিরোধী শিবিরে তারা ক্রমশ একঘরে হয়ে পড়ছে। কংগ্রেসকে বাদ রেখে বিরোধী জোট তৈরির পথে এগিয়ে গিয়েছে বেশ কিছু দল। সেই তালিকায় এমনকী নীতীশ কুমার, তেজস্বী যাদবেরাও আগ্রহী হয়ে উঠেছে বলে খবর।
এমন পরিস্থিতিতে লন্ডনের সভায় রাহুল বলেছেন, আমি মনে করি আমরা যদি বিজেপির চেয়ে ভিন্ন ধারণা নিয়ে বিরোধীদের একত্রিত করতে পারি তবে নির্বাচনে খুব ভাল ফল করব। কংগ্রেস কি এই উদ্যোগে নেতৃত্বের আসন স্বেচ্ছায় ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা করতে চলেছে? রাজনৈতিক মহলে আপাতত এই প্রশ্নই ঘোরাফেরা করছে।
মদ দুর্নীতি: সিসোদিয়ার ১৪ দিনের জেল হাফেজত, প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রীকে রাখা হবে তিহাড়ে