দ্য ওয়াল ব্যুরো : এক সপ্তাহের মধ্যে দু'বার কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) ও তাঁর বোন প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরার সঙ্গে দেখা করলেন রাজস্থানের কংগ্রেস নেতা শচীন পাইলট। এর ফলে প্রশ্ন ওঠে, পাঞ্জাবের মতো রাজস্থানেও কি রদবদল আসন্ন হয়ে উঠেছে? গতবছর কংগ্রেস ত্যাগ করার জন্য প্রায় প্রস্তুত হয়ে গিয়েছিলেন শচীন। রাহুলের সঙ্গে বৈঠকের পরে তিনি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন। গত জুন মাসে ফের শোনা যায় শচীন বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন। শচীন অবশ্য বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেন। কিন্তু সেই সঙ্গে বলেন, রাহুল তাঁকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, রাজস্থান সরকারে কিছু রদবদল করা হবে। সেই প্রতিশ্রুতি এখনও পালিত হয়নি।
এআইসিসি-র তরফে রাজস্থানের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা অজয় মাকেন সম্প্রতি বেশ কয়েকবার রাজস্থানে গিয়েছেন। মন্ত্রিসভার রদবদল নিয়ে তিনি আলোচনা করেছেন বিধায়কদের সঙ্গে। একটি সূত্রের খবর, পাইলট রাহুলকে বলেছেন, তাঁর অনুগামী কয়েকজন বিধায়ককে মন্ত্রী করতে হবে। সেই সঙ্গে রাজ্যের বিভিন্ন বোর্ড ও কর্পোরেশনের শীর্ষেও বসাতে হবে তাঁর ঘনিষ্ঠদের।
অজয় মাকেন কয়েকবার রাজস্থানে যাওয়ার পরেও মন্ত্রিসভায় রদবদল হয়নি। যদিও পাইলটকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, শীঘ্র রদবদল হবে। পাঞ্জাবে সম্প্রতি ক্যাপটেন অমরিন্দর সিং-কে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। রাজস্থানের কর্মীরা ভাবছেন, এবার তাঁদের রাজ্যেও কড়া পদক্ষেপ নেবে হাইকম্যান্ড।
এআইসিসি-র সদস্যরা অবশ্য বলছেন, পাঞ্জাব আর রাজস্থানের পরিস্থিতি এক নয়। রাজস্থানে সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়ক মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলোটের পক্ষেই আছেন। মুখ্যমন্ত্রী এখন মন্ত্রিসভার রদবদলে রাজি নন।
গত রবিবার পাঞ্জাবে নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে নিযুক্ত হন চরণজিৎ সিং চান্নি। সেদিন সন্ধ্যায় হাইকম্যান্ডের তরফে পাঞ্জাবের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা হরিশ রাওয়াত টুইট করে বলেন, "আমি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, চরণজিৎ সিং চান্নি সর্বসম্মতভাবে পাঞ্জাবে কংগ্রেস পরিষদীয় দলের নেতা নির্বাচিত হয়েছেন।"
সম্প্রতি পাঞ্জাবের সংখ্যাগরিষ্ঠ কংগ্রেস বিধায়ক ক্যাপটেন অমরিন্দর সিং-এর বিরুদ্ধে চলে গিয়েছিলেন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, ভোটের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পালন করতে ব্যর্থ হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা পাঞ্জাব প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি নভজ্যোৎ সিং সিধু অভিযোগ করেছিলেন, কৃষকদের থেকে বিদ্যুতের বেশি দাম নিচ্ছে পাঞ্জাব সরকার। এছাড়া ধর্মের অবমাননার মামলাতেও যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারেননি ক্যাপটেন। শনিবার পদত্যাগ করার আগে সনিয়াকে একটি চিঠি লেখেন অমরিন্দর। তাতে প্রতিটি অভিযোগেরই জবাব দিয়েছেন বর্ষীয়ান নেতা।