দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুখে সাদা মাস্ক। বিধিমতো সামাজিক দূরত্ব রেখে ফুটপাতেই ঘর ফিরতি শ্রমিকদের মুখোমুখি বসলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। দিল্লি থেকে ট্রাকে চাপিয়ে এই শ্রমিকদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল তাদের গন্তব্যে। সুখদেব বিহার ফ্লাইওভারে ট্রাক থামলে কয়েকজন ফুটপাতে গিয়ে বসেন। তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে ফুটপাতেই বসে পড়েন রাহুল।
কী সমস্যা হচ্ছে? কেন এত পথ হাঁটছেন? অভিবাসীদের সমস্যা বোঝার চেষ্টা করেন কংগ্রেস নেতা। শনিবার দুপুরে দীর্ঘক্ষণ শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় তাঁকে। কেন্দ্র যখন স্পেশাল ট্রেনের ব্যবস্থা করছে, তখন এত কষ্ট করে পায়ে হেঁটে ঘরের পথ ধরছেন কেন শ্রমিকরা, এই কথাও জানতে চান তিনি।
দেশের নানা রাজ্য থেকে অভিবাসী শ্রমিকদের ঘরে ফেরাতে স্পেশাল ট্রেন, বাসের বন্দোবস্ত করেছে কেন্দ্র। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, ট্রেনে বা বাসে ঠাঁই মেলেনি যাঁদের, তাঁরা পায়ে হেঁটেই বাড়ির পথ ধরেছেন। কোথাও অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে ঠেলায় চাপিয়ে, কোথাও বৃদ্ধা মাকে কাঁধে ফেলে, শিশু কোলে মাইলের পর মাইল হাঁটতে দেখা গেছে শ্রমিকদের। অসুস্থ হয়েছেন অনেকে, মৃত্যু হয়েছে অসংখ্য। একের পর এক দুর্ঘটনার মুখে পড়ছেন শ্রমিকরা। এদিন পরিযায়ী শ্রমিকদের একটি দলের মুখোমুখি হয়ে রাহুল গান্ধী জানতে চান, সমস্যা কোথায় হচ্ছে। লকডাউনের মধ্যেই কেন এত কষ্ট করে বাড়ি ফিরতে চাইছেন তাঁরা।
হরিয়ানা থেকে ঝাঁসি ফিরছিলেন মনু। তিনি বলেন, "রাহুলজী আমাদের সঙ্গে কথা বলেন। আমাদের সমস্যা বোঝার চেষ্টা করেন।" এক ঘণ্টা কথা বলেছেন রাহুল গান্ধী, জানিয়েছেন আরও এক শ্রমিক দেবেন্দ্র। তিনি বলেন, "আমাদের বাড়ি ফেরার গাড়ির বন্দোবস্ত করে দিয়েছেন। সকলকে খাবার ও মাস্কও দিয়েছেন।"
লকডাউনের মধ্যেও দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে গত ১২ মে ২০ লক্ষ কোটি টাকার বিশেষ আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রকল্পের নাম দেওয়া হয় ‘আত্মনির্ভর ভারত অভিযান’। লকডাউনের জেরে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ক্ষুদ্র, অতিক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের। সেই ক্ষেত্রকে চাঙ্গা করতে গত ১৩ মে বড়সড় আর্থিক প্যাকেজের ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক প্যাকেজের কটাক্ষ করে রাহুল বলেন, আর্থিক প্যাকেজের বদলে কৃষক-শ্রমিকদের টাকার বেশি প্রয়োজন। গরিবদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা দিলে তাঁরা বেশি উপকৃত হবেন। তিনি আরও বলেন, এই আর্থিক প্যাকেজ অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য খুব একটা স্বস্তির কারণ হবে না।