দ্য ওয়াল ব্যুরো লোকসভা ভোটের ফল বেরোনর পরে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির প্রথম বৈঠকেই রাহুল গান্ধী পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি আর দলের সভাপতি থাকতে চান না। তারপর হাজার অনুরোধ-উপরোধেও পদত্যাগের সিদ্ধান্ত থেকে সরানো যায়নি তাঁকে। এর পরে শোনা গিয়েছে, যে রাজ্যগুলিতে বিধানসভা ভোট আসন্ন, সেখানকার কংগ্রেস প্রধানদের সঙ্গে তিনি বৈঠক করবেন। কংগ্রেস কর্মীরা আশা করছেন, রাহুল হয়তো সিদ্ধান্ত বদলে কংগ্রেসের সভাপতি থেকেও যেতে পারেন।
চলতি সপ্তাহের শেষের দিকেই ভোটমুখী রাজ্যগুলির কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন রাহুল। তারপরেই বসবে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির আর একটি বৈঠক। সেখানেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে, রাহুল কংগ্রেসের শীর্ষ স্থানে থাকবেন কিনা। তিনি অবশ্য নিজে এখনও অবধি বলে চলেছেন, তাঁর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। কিন্তু পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরে এই প্রথমবার তিনি দলের সাংগঠনিক কাজে যুক্ত হতে চলেছেন। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তিনি দলের কোনও নেতার সঙ্গে দেখা করেননি। তুঘলক রোডে নিজের বাড়িতেই ছিলেন।
রাহুল পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি পদত্যাগ করার পরে তাঁর মা অথবা বোনকে যেন দলের শীর্ষপদে বসানোর চেষ্টা না করা হয়। তবে দল যতদিন পর্যন্ত নতুন কাউকে সভাপতি পদের জন্য খুঁজে না পাচ্ছে, ততদিন তিনি ওই পদে থাকতে রাজি আছেন। পদত্যাগের পরেও তিনি কংগ্রেসের বিশ্বস্ত সৈনিক হিসাবে কাজ করে যাবেন।
একটি সূত্রের খবর, ২৭ জুন মহারাষ্ট্রের কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে দেখা করবেন রাহুল। পরদিন দেখা করবেন হরিয়ানা ও দিল্লির নেতাদের সঙ্গে। আসন্ন বিধানসভা ভোটে দলের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হবে। প্রতিটি ভোটমুখী রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত কংগ্রেস নেতাদের বলা হয়েছে, লোকসভা ভোটে দলের ফলাফল নিয়ে একটি রিপোর্ট জমা দিতে হবে। তার ভিত্তিতে কয়েকটি রাজ্যে নেতৃত্বে রদবদল করা হতে পারে।
সোমবার উত্তরপ্রদেশ ও কর্ণাটক প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। ওই রাজ্যগুলিতে কংগ্রেসে বড় রদবদল আসন্ন। চলতি বছরের শেষদিকেই দুই রাজ্যে বেশ কয়েকটি আসনে উপনির্বাচন হবে।