দ্য ওয়াল ব্যুরো : সোমবার কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্কা গান্ধীকে (Priyanka Gandhi) লখিমপুর-খেরিতে যেতে দেয়নি পুলিশ। মঙ্গলবার তাঁর দাদা তথা প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীকেও সেখানে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হল না। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে চিঠি দিয়ে কংগ্রেস জানিয়েছিল, রাহুল সহ কংগ্রেসের পাঁচ সদস্যের এক প্রতিনিধিদল লখিমপুর-খেরিতে যেতে চায়। একইসঙ্গে চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, অন্যায্যভাবে প্রিয়ঙ্কা গান্ধীকে আটকে রাখা হয়েছে। রাজ্য সরকার চিঠি পাওয়ার পরেই জানিয়ে দেয়, রাহুলকে লখিমপুরে যেতে দেওয়া হবে না। সেখানে বড় জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সোমবার ভোরে লখিমপুর খেরিতে যাওয়ার চেষ্টা করেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্কা। কিন্তু পুলিশ তাঁকে আটক করে। এদিন সীতাপুর গেস্ট হাউসে রাখা হয় তাঁকে। মঙ্গলবার প্রিয়ঙ্কা গেস্ট হাউস থেকেই কটাক্ষ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে। আর কিছুদিন পরেই প্রধানমন্ত্রী আসছেন লখনউতে। সেখানে তিনি 'আজাদি কা অমৃত মহোৎসব' উৎসবে অংশ নেবেন। এই প্রসঙ্গে প্রিয়ঙ্কা বলেন, মোদীজি স্বাধীনতা দিবসের উৎসবে আসছেন। কিন্তু কীসের স্বাধীনতা? কারা আমাদের স্বাধীনতা দিয়েছে?
পরে কংগ্রেস নেত্রী বলেন, কৃষকরা আমাদের স্বাধীনতা দিয়েছে। অভিযুক্ত মন্ত্রীকে বরখাস্ত না করে আপনি কীভাবে স্বাধীনতা দিবসের উৎসবে অংশ নিতে পারেন? এর পরেই প্রিয়ঙ্কা বলেন, মোদীজি, আপনি কি লখিমপুর খেরিতে যাবেন?
অভিযোগ, রবিবার লখিমপুর খেরিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অজয়কুমার মিশ্রের ছেলে আশিস মিশ্রের গাড়ি কৃষকদের ধাক্কা মেরেছিল। ওই ঘটনায় চার কৃষক সহ আটজন নিহত হন।
রবিবার কৃষকরা মৃতদেহগুলির সৎকার করেননি। তাঁরা দেহগুলি ঘিরে সারা রাত বিক্ষোভ দেখান। সোমবার সকালে তাঁদের সঙ্গে আলোচনায় বসে পুলিশ। সরকার প্রতিশ্রুতি দেয়, মৃতদের পরিবারগুলিকে ৪৫ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। যাঁরা আহত হয়েছেন, তাঁরা ক্ষতিপূরণ পাবেন ১০ লক্ষ টাকা করে। এই প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পরে আন্দোলন তুলে নেন কৃষকরা। মৃত চার কৃষকের শেষকৃত্য করার প্রস্তুতি শুরু হয়।
মঙ্গলবার এক সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের কাছে মন্ত্রী অজয়কুমার মিশ্র বলেন, যে স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকলটি চাষিদের চাপা দিয়েছিল, সেটি তাঁর ছেলেই ব্যবহার করেন। তবে চাষিদের চাপা দেওয়ার সময় তিনি গাড়িতে ছিলেন না।
মন্ত্রীর কথায়, "আমরা প্রথম দিন থেকে বলে আসছি, যে মাহিন্দ্রা গাড়িটি চাষিদের চাপা দিয়েছিল, সেটি আমাদের। আমাদের নামেই গাড়িটি রেজিস্ট্রি করা আছে। রবিবার গাড়িটিতে অপর একজনের ওঠার কথা ছিল। আমার ছেলে ওই জায়গায় ছিলই না। ওইদিন বেলা ১১ টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সে অপর এক সভায় ব্যস্ত ছিল।" মন্ত্রীর দাবি, তাঁর ছেলে যে সভায় উপস্থিত হয়েছিলেন, সেখানে হাজার হাজার লোকের সমাবেশ হয়েছিল। তার ছবি ও ভিডিও আছে। আশিসের মোবাইলের কল রেকর্ড ও লোকেশন দেখলেও সেকথাই প্রমাণিত হবে। হাজার হাজার মানুষ সাক্ষী দেবে, চাষিদের চাপা দিয়ে মারার সময় আশিস সেখানে ছিলেন না।