দ্য ওয়াল ব্যুরো : কিছুদিন আগেই আর্থিক উপদেষ্টা পরিষদ থেকে রথীন রায় ও শমীকা রবিকে সরিয়ে দিয়েছে মোদী সরকার। অভিযোগ, তাঁরা সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা করেছিলেন। তাই তাঁদের সরে যেতে হল। এরপর রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রাক্তন গভর্নর রঘুরাম রাজন কড়া ভাষায় নিজের ব্লগে লিখলেন, যাঁরা ক্ষমতায় আছেন, তাঁদের সমালোচনা সহ্য করা উচিত। কারণ কেউ সমালোচনা করলে তবেই তাঁরা বুঝতে পারেন, কোথায় ভুল হচ্ছে।
তাঁর কথায়, যাঁরা সরকারের পলিসি তৈরি করেন, তাঁরা ভাবেন বিরূপ সমালোচনাকে চাপা দেওয়া দরকার। কিন্তু একমাত্র সমালোচনার মুখে পড়লেই সরকার বুঝতে পারে, তার পলিসির মধ্যে কোথায় ভুলভ্রান্তি আছে।
এরপর পরোক্ষে সরকারের সমালোচনা করে রাজন লিখেছেন, অনেক সময় সরকারপক্ষের লোকেরা সমালোচকদের ফোন করে। তাঁদের বলা হয়, আর সমালোচনা করবেন না। শাসক দলের 'ট্রোল আর্মি' তাঁদের টার্গেট করে। তাদের চাপে অনেকে সুর নরম করতে বাধ্য হন। সরকার তখন স্বস্তিবোধ করে। তারা ভাবে সব ঠিকঠাক চলছে। কিন্তু শেষ অবধি এমন সময় আসে যখন আসল কথাটাকে কিছুতেই চেপে রাখা যায় না।
রাজনের বক্তব্য, সমালোচকরা অনেক সময় ভুলভাল বলেন। কিন্তু তবুও সমালোচনা চলতে দেওয়া উচিত। তাঁর কথায়, অনেকে ভুল তথ্যের ভিত্তিতে সমালোচনা করেন। অনেক সময় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কারও নিন্দা করা হয়। কোনও ব্যক্তির চরিত্রহনন করা হয়। অনেক সময় সংবাদপত্রও উল্টোপাল্টা লেখে। আমিও কখনও সখনও এমন সমালোচনার শিকার হয়েছি।
এরপর শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক রাজন লিখেছেন, যে সরকার সমালোচনা চাপা দেয়, সে নিজেরই ক্ষতি করে।
কিছুদিন আগে যে আমলাদের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাঁদের মধ্যে শমীকা রবি হলেন ব্রুকিংস ইন্ডিয়ার ডায়রেক্টর অব রিসার্চ। রথীন রায় হলেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব পাবলিক ফিনান্স অ্যান্ড পলিসির ডায়রেক্টর। তাঁরা সরকারের সমালোচনা করে বলেছিলেন, সরকার যেভাবে সভারিন বন্ড বিক্রি করে বিদেশ থেকে ঋণ নিচ্ছে, তা ঠিক হচ্ছে না।