দ্য ওয়াল ব্যুরো: অপেক্ষা আর কয়েক ঘণ্টার। ভারতীয় বায়ুসেনার অন্তর্ভুক্ত হতে চলেছে ফ্রান্স থেকে কেনা পাঁচ রাফাল যুদ্ধবিমান। আজ, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা নাগাদ আম্বালা বায়ুসেনা ঘাঁটির ১৭ নম্বর ‘গোল্ডেন অ্যারো’ স্কোয়াড্রনের অন্তর্ভুক্ত করা হবে পাঁচ রাফালকে।
প্রতিরক্ষা সূত্রে খবর, রীতি মেনে ‘সর্ব ধর্ম পূজা’ সম্পন্ন করেই যুদ্ধবিমানকে স্কোয়াড্রনের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আজকের অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ও ফ্রান্সের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফ্লোরেন্স পারলি। দিল্লিতে ফরাসি প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে ‘গার্ড অব অনার’ দেওয়া হবে।
সীমান্ত সংঘাতের পরিস্থিতি নিয়ে সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের বৈঠকে চিনের সঙ্গে মুখোমুখি আলোচনা করতে মস্কো উড়ে গিয়েছিলেন রাজনাথ। তিনি ফেরার পরেই রাফাল যুদ্ধবিমান আনুষ্ঠানিকভাবে বায়ুসেনায় যোগ দেওয়ার কথা ছিল। জানা গিয়েছে আজকের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ বিপিন রাওয়াত, বায়ুসেনাপ্রধান আর কে এস ভাদুরিয়া, প্রতিরক্ষা সচিব ডক্টর অজয় কুমার, ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ডিআরডিও)-এর চেয়ারম্যান ডক্টর জি সতীশ রেড্ডি। ভারতে ফরাসি রাষ্ট্রদূত এমানুয়েল লেনায়েন ও ফরাসি এয়ার জেনারেল এরিক অটেলেটও থাকতে পারেন এদিনের অনুষ্ঠানে।
https://twitter.com/IAF_MCC/status/1303876141313187840
গত ২৯ জুলাই ফ্রান্স থেকে ভারতে পৌঁছয় পাঁচ রাফাল যুদ্ধবিমান। এতদিন আম্বালা এয়ারবেসেই প্রস্তুতি চালাচ্ছিল রাফাল। ভারতীয় বায়ুসেনা জানিয়েছে, এই পাঁচ রাফালকেই পাঠানো হবে লাদাখ সীমান্তে। এখন হিমাচল প্রদেশের পাহাড়ি এলাকায় সেই প্রস্তুতি চালাছে যুদ্ধবিমানগুলি। রাতের বেলা পাহাড়ি এলাকায় নজরদারি চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন পাইলটরা। প্রয়োজন হলে কীভাবে মিসাইল ছুড়তে হবে শত্রু ঘাঁটিতে তার প্রশিক্ষণও চলছে। বায়ুসেনা সূত্র জানাচ্ছে, রাফালের বিয়ন্ড ভিসুয়াল রেঞ্জ এয়ার-টু-এয়ার মেটিওর মিসাইল ও এয়ার-টু-গ্রাউন্ড স্কাল্প মিসাইলের পরীক্ষা করা হচ্ছে। ১৫৯৭ কিলোমিটার প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা জুড়ে রাতের বেলা কড়া পাহাড়া দেবে রাফাল। মিসাইল-যুক্ত হয়েই টহলদারি চালাবে যুদ্ধবিমান।
চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ বিপিন রাওয়াত আগেই বলেছিলেন, রাফাল ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য ‘গেম চেঞ্জার’হবে। চিনের সঙ্গে সীমান্ত সংঘাতের আবহে রাফালের মতো মাল্টিরোল কমব্যাট এয়ারক্রাফ্ট হাতে পাওয়া বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। রাফালের মতো ওমনিরোল এয়ারক্রাফ্ট এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে। পাকিস্তানের এফ-১৬, জেএফ-২০ ফাইটার জেট ও চিনের তৈরি পঞ্চম প্রজন্মের স্টিলথ এয়ারক্রাফ্ট চেংড়ু জে-২০-র মুখোমুখি মোকাবিলা করার মতো ক্ষমতা আছে রাফালের।
৩৬টি রাফাল ফাইটার জেটের জন্য ফ্রান্সের দাসো অ্যাভিয়েশনের সঙ্গে ৫৯ হাজার কোটি টাকার চুক্তি হয়েছিল ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরেই। এর মধ্যে পাঁচটি এখন ভারতের মাটিতে। যে পাঁচটি রাফাল আসছে ভারতের হাতে সেগুলি থেকে মেটিওর ও স্ক্যাল্প ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া যাবে। এই এয়ারক্রাফ্ট ফরাসি বায়ুসেনা ব্যবহার করে। ডবল ইঞ্জিন মল্টিরোল কমব্যাট ফাইটার এয়ারক্রাফ্ট রাফাল আকাশ থেকে ভূমিতে ও সমুদ্রেও নির্ভুল নিশানা লাগাতে পারে। ৯ টনের বেশি যুদ্ধাস্ত্র বইতে পারে রাফাল। অনেক উঁচু থেকে হামলা চালানো, যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করা, মিসাইল নিক্ষেপ এমনকি পরমাণু হামলা চালানোর ক্ষমতাও রয়েছে রাফালের। রাফালকে আরও শক্তিশালী করার জন্য ‘মেটিওর’ এবং ‘স্কাল্প’ নামে দুটি মিসাইল যোগ করেছে দাসো অ্যাভিয়েশন। মেটিওর ও স্কাল্প মিসাইল বানিয়ছে ইউরোপিয়ান অস্ত্র নির্মাতা সংস্থা এমবিডিএ।