
শেষ আপডেট: 26 July 2020 18:30
চিনের সঙ্গে সীমান্ত সংঘাতের আবহে রাফালের মতো মাল্টিরোল কমব্যাট এয়ারক্রাফ্ট হাতে পাওয়া বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই জানিয়েছেন বায়ুসেনার এক আধিকারিক। প্রথম দফায় পাঁচটি রাফাল আসার কথা ফ্রান্স থেকে। তবে সেই সংখ্যা ছ’টিও হতে পারে।
৩৬টি রাফাল ফাইটার জেটের জন্য ফ্রান্সের দাসো অ্যাভিয়েশনের সঙ্গে ৫৯ হাজার কোটি টাকার চুক্তি হয়েছিল ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরেই। বায়ুসেনা সূত্রে খবর, ভারতের জন্য ১০টি রাফাল জেট তৈরি রেখেছে ফরাসি সংস্থা। তার মধ্যে পাঁচটি চলে আসবে এ বছরেই। মে মাসেই প্রথম চারটি রাফাল ভারতের হাতে আসার কথা ছিল। কিন্তু করোনা মহামারীর কারণে এই সময় পিছিয়ে যায়।
সেই ২০০৭ সাল থেকেই মাঝারি ওজনের যুদ্ধবিমান কেনার প্রক্রিয়া শুরু হয়। আমেরিকা, রাশিয়া, সুইডেনের মোট ছ’টি বিমান সংস্থা প্রতিযোগিতায় নেমেছিল। লকহিড মার্টিনের এফ-১৬ ফ্যালকন, বোয়িংয়ের এফ-১৮ হর্নেট, সাব গ্রিপেন, মিগ-৩৫-কে বাদ দিয়ে শেষে প্রতিযোগিতা এসে দাঁড়ায় ইউরোফাইটার সংস্থার টাইফুন এবং রাফালের মধ্যে। কিন্তু ইউরোফাইটার-এর তুলনায় কম দর হেঁকে বাজি ছিনিয়ে নেয় দাসো।
চিনের সঙ্গে সীমান্ত উত্তেজনার এই পরিস্থিতিতে জরুরি ভিত্তিতে ফ্রান্স থেকে হ্যামার মিসাইল সিস্টেমও আনতে চলেছে ভারত। ‘হাইলি অ্যাজাইল মডিউলার মিউনিশন এক্সটেন্ডেড রেঞ্জ’ মিসাইল সিস্টেম আকাশ থেকে ভূমিতে ছোড়া যায়। ৩ মিটার দৈর্ঘ্যের এই মিসাইল সিস্টেমের পাল্লা ৬০ কিলোমিটার। উঁচু পার্বত্য এলাকা, সমতলভূমি যে কোনও জায়গা থেকে আবহাওয়ার যে কোনও পরিস্থিতিতে ছোড়া যায়। একসঙ্গে অনেকগুলো নিশানায় আঘাত করতে পারে। আগে রাফাল থেকে ছোড়ার জন্য ইজরায়েলি স্পাইস-২০০০ বোমার কথা ভাবা হয়েছিল। এই স্পাইস বোমা বালাকোট এয়ারস্ট্রাইকের সময় ব্যবহার করা হয়। তবে পরে সিদ্ধান্ত বদলে মাঝারি পাল্লার হ্যামার মিসাইল সিস্টেম কেনারই পরিকল্পনা করে ভারতীয় বায়ুসেনা।
[caption id="attachment_244101" align="aligncenter" width="505"]
রাফালের জন্য কেনা হবে হ্যামার মিসাইল। মাঝারি পাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া যায় রাফাল ফাইটার জেট থেকে[/caption]
পূর্ব লাদাখের গালওয়ান, দেপসাং ও গোগরা হট স্প্রিং এলাকা থেকে সেনা পিছোলেও প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার অনেক এলাকাতেই এখনও চিনের সেনা ঘাঁটি গেড়ে রয়েছে বলে খবর। যে কোনও পরিস্থিতির মোকাবিলাতেই তাই প্রস্তুত থাকছে ভারতীয় সেনা ও বায়ুসেনা। শীতের আগে অতিরিক্ত ৩০ হাজার সেনা পাঠানো হচ্ছে লাদাখে। বায়ুসেনার শক্তি বাড়াতে ইতিমধ্যেই ২২টি অ্যাপাচে ও ১৫ টি চিনুক অ্যাটাক কপ্টার চলে এসেছে ভারতের হাতে। অ্যাপাচের এএইচ-৬৪ই মডেলের যুদ্ধবিমানগুলি এই মুহূর্তে বিশ্বের সবথেকে শক্তিশালী কমব্যাট হেলিকপ্টার। মার্কিন সেনা এই হেলিকপ্টার ব্যবহার করে। সেইসঙ্গে চিনুক যুদ্ধবিমান ব্যবহার করা হয় সেনা, অস্ত্র, রসদ এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়ার জন্য। রাশিয়ার থেকে অত্যাধুনিক ২১টি মিগ-২৯ ফাইটার জেট ও ১২টি সুখোই-৩০ এমকেআই কেনার চুক্তি হয়ে গেছে। রাশিয়ার সুখোইয়ের প্রযুক্তিতে বদল ঘটিয়ে তাকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে এই যুদ্ধবিমান থেকে নোভাটর কে-১০০ মিসাইল ছোড়ার প্রযুক্তি যোগ করেছে ভারত। সুখোইয়ের নয়া ভ্যারিয়ান্ট ব্রাহ্মস ক্রুজ মিসাইল বয়ে নিয়ে যেতে পারে। সুখোই থেকে ব্রাহ্মস ছুড়ে আকাশ থেকে ভূমিতে টার্গেট করা যায়। অন্তত ৩০০ কিলোমিটার পাল্লায় কাজ করে এই মিসাইল।