
শেষ আপডেট: 1 April 2024 19:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: কড়া রোদ তেমন বেগ দিতে পারছে না রচনাকে। কষ্টও হচ্ছে না তেমন। সোমবার বলাগড় বিধানসভার চন্দ্রহাটিতে প্রচারে এসেছিলেন হুগলির তৃণমূল প্রার্থী রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই তিনি বললেন, "এত বছর ধরে তো রোদেই দাঁড়াচ্ছি। রোদে দাঁড়িয়েই কেরিয়ার তৈরির লড়াইটা লড়েছি। এসিতে আছি তো শেষ ১২ বছর। তাই রোদের পরোয়া করি না। মানুষের ভালবাসায় ভেসে যাচ্ছি রোজ। গরমে কষ্ট পাওয়ায় ফুরসতই পাচ্ছি না।"
এর আগে প্রচারে বেরিয়ে সিঙ্গুরের দই আর পাণ্ডুয়ার ঘুগনি খেয়ে বলেছিলেন, 'দারুন'। এবার বলাগড়ে এসে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কতটা বেড়েছে তার হিসেব দিলেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। জীবনদায়ী ওষুধের দাম নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে রচনা বলেন, "শুধু ওষুধ নয়। প্রতিটা জিনিসের দাম বাড়ছে। আগে ৫০০ টাকায় এক ব্যাগ বাজার করা যেত। এখন একটা ছোটো প্যাকেট ভর্তি হয় না।" বাজার দর সম্পর্কে তিনি যে ওয়াকিবহাল সেটা জানিয়ে রচনা বলেন, "আগে ডালের দাম ছিল ৪০ টাকা, এখন ১৩০ টাকা। আদার দাম ছিল ৫০ টাকা এখন ১৫০ টাকা। পেট্রোল আগে বিক্রি হত ৭০ টাকায় এখন ১২০ টাকা। কেরোসিন ৪০ টাকা ছিল এখন ১০০ টাকা।" এরই বিরুদ্ধে তাঁদের লড়াই বলে মন্তব্য করেন রচনা। এই লড়াইয়ে জনগণ যে তাঁদের পাশে থাকবেন, তা নিয়ে শতকরা একশো ভাগ নিশ্চিত তিনি।
বলাগড়ের বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারী। আগেও একাধিকবার বেসুরো গেয়ে খবরের শিরোনাম হয়েছেন তিনি। সেই বলাগরে আদৌ কি দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব চাপে ফেলতে পারে তাঁকে? এ প্রশ্নে রচনা বলেন, "কোনও জায়গায় গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নেই। সব জায়গায় কিছু না কিছু সমস্যা আছে। পরিবারের মধ্যেও কত সমস্যা থাকে। স্বামী-স্ত্রীতে সমস্যা আছে, ননদ-বৌদিতে সমস্যা আছে। সমস্যা সব জায়গায় থাকে। তার মধ্যে এতবড় একটা দল। হাতের পাঁচটা আঙুল সমান হয় না। প্রত্যেকের চিন্তাভাবনা সব আলাদা। সেই আঙুলগুলো দিয়েই একটা মুঠি তৈরি হয়। আর সেটাই করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হাতের চেটোটা হল তৃণমূল কংগ্রেস।"
রচনার সুরই শোনা গেল মনোরঞ্জনবাবুর গলাতেও। তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কথা স্বীকার করে নিয়ে দাবি করলেন, "দ্বন্দ্ব থাকবে। সব দলেই আছে। আমাদের দলেও আছে। তবে আমাদের লক্ষ্য বিজেপিকে পরাস্ত করা। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে আমরা এক হয়ে লড়াই করব। যদি কোনও ঝগড়াঝাঁটি থাকে তা মিটিয়ে নেব।"