
শেষ আপডেট: 20 August 2024 14:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো, মুর্শিদাবাদ: আরজি কর কাণ্ড নিয়ে এবার মুখ খুললেন মৃত ডাক্তার অনির্বাণ দত্তের স্ত্রী অর্চিতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দোষীদের শাস্তি চেয়ে তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন তিনি। একই সঙ্গে সমাজ ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন অর্চিতা।
গত ২৫ জুন বহরমপুরের ইন্দ্রপ্রস্থ এলাকার শ্বশুরবাড়িতে "অস্বাভাবিক মৃত্যু" হয় ডাক্তার অনির্বাণ দত্তের। এরপরেই ৩৯ বছরের ডাক্তারের মৃত্যু নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। অর্চিতা ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ এনেছিলেন মৃতের প্রাক্তন স্ত্রী। এখনও সেই ঘটনার তদন্ত চলছে। তার মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় আরজিকর কাণ্ডের ঘটনা নিয়ে পোস্ট করেছেন অর্চিতা।
সেখানে অর্চিতা বলেছেন, "আমি অর্চিতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আমি একজন সরকারি কর্মচারি। আমার পরিচয়, আমি মৃত ডাক্তার অনির্বাণ দত্তের বিধবা স্ত্রী। আজকে আমি হাসপাতালে এসেছি। সত্যি, আমার হারানোর কিছু নেই। আমি সম্পূর্ণরূপে এই প্রতিবাদকে সমর্থন করি। কিন্তু হাসপাতালে এসে দুটো মানুষের মুখ দেখে অনির্বাণের যন্ত্রণাকে কিছুক্ষণের জন্য ভুলে থাকা আমার খুব দরকার। এই জন্য আমি হাসপাতালে এসেছি। আমি চাই, অভয়া মামলায় আসল দোষীরা যেন শাস্তি পায়।"
এরপরেই অর্চিতা ক্ষোভ উগরে বলেন, " অনির্বাণ মারা যাওয়ার পর আমি সমাজের যে, জঘন্য রূপ দেখেছি, এমন কোনওদিন ভাবিনি। সমাজ আমাকে ভার্চুয়ালি গণধর্ষণ করেছে।"
অর্চিতা জানিয়েছেন, ২০২২ সালে ডাক্তার অনির্বাণের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়েছিল। তার আগেই ২০২০ সালে শর্মি চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে অনির্বাণের ডিভোর্স হয়ে গেছিল। অনির্বাণ ও শর্মি এক সন্তান আছে, সেটা তিনি জানতেন। ডাক্তার অনির্বাণের বাইপোলার ডিসঅর্ডার ছিল। এর ফলে ব্রেজ ড্রিঙ্কিংয়ের অভ্যাস ছিল তাঁর। প্রতি তিন-চার মাস অন্তর বিশৃঙ্খল হয়ে উঠতেন অনির্বাণ। এই মানসিক সমস্যার চিকিৎসাও চলছিল। সেরেও উঠে ছিলেন অনেকটাই। ৯ মাস পরে আবার সমস্যা দেখা দিয়েছিল। মৃত্যুর আগে দুদিন ধরে বাড়িতে আসেননি অনির্বাণ। একটি হোটেলে ছিলেন। সেখান থেকে অর্চিতা তাঁকে মদ্য অবস্থায় বাড়িতে এনেছিলেন। ওই দিন রাতে বাড়ি মাটিতে শুয়েছিলেন অনির্বাণ।
অর্চিতার দাবি, অনির্বাণ মদ্যপ অবস্থায় কখনই খাটে শুতেন না। সকালে অনির্বাণ ঘুম থেকে না ওঠায় তিনি প্রথম বুঝতে পেরেছিলেন অনির্বাণ মারা গেছেন। তবুও বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য অনির্বাণকে বহরমপুরে মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শও দেন অর্চিতা। কিন্তু অনির্বাণের পরিচিতরাই তাঁকে সেখানে না নিয়ে গিয়ে ওই নার্সিংহোমে নিয়ে যায়।
ডাক্তার অর্চিতার কথায়, "অনির্বাণ যেদিন মারা যায় আমার কাছে সকালটা বিভীষিকার ছিল। আমাদের একটা সুন্দর সংসার হবে, এটাই চেয়েছিলাম। মেঘালয় যাওয়ার টিকিট কাটা ছিল। কিন্তু এ ঘটনা যে ঘটবে, কোনদিন ভাবিনি। এরপর থেকে একাধিকবার আমাকে কর্দয্যভাষা আক্রমণ করা হয়েছে। এটা একপ্রকার ভার্চুয়ালি মানসিকভাবে গণধর্ষণ।"
সমাজে যেকোনও ধরণের অপরাধমূলক ঘটনা ঘটলে গানের মাধ্যমে প্রতিবাদ করতেন ডাক্তার অনির্বাণ দত্ত। প্রতিবাদী কন্ঠ ছিলেন তিনি।