দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফাঁসির দড়ি তৈরি। ‘ডামি’ মহড়াও হয়ে গিয়েছে কয়েকদিন আগেই। ফাঁসুড়ের জন্য নির্দেশ পাঠানো হয়েছে নানা রাজ্যে। প্রয়োজন পড়লেই চাহিদা মতো ফাঁসুড়েকে পাঠিয়ে দেওয়া হবে বলে জেল কর্তৃপক্ষকে যোগী আদিত্যনাথ সরকারের তরফে জবাবি চিঠিতে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। দিল্লির তিহাড় জেল কর্তৃপক্ষের মধ্যেও দেখা গেছে ব্যস্ততা। সব মিলিয়ে তাই সম্ভাবনা আরও তীব্র হয়েছে। খুব দ্রুতই নির্ভয়ার ধর্ষক ও খুনিদের ফাঁসির সাজা কার্কর হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
তিহাড় জেলের এক কর্তা জানিয়েছেন, বক্সারের জেল থেকে ১০টি ফাঁসির দড়ি এসে গিয়েছে তিহাড়ে। কিন্তু সেখানে ফাঁসুড়ে না থাকায় অন্য জেল থেকে ফাঁসুড়ে নিয়ে আসা হবে। নির্ভয়া কাণ্ডের চার দোষী অক্ষয় ঠাকুর, মুকেশ সিংহ, বিনয় কুমার এবং পবন গুপ্ত এখন তিহাড় জেলে বন্দি। চারজনেরই সাজা মকুবের আর্জি খারিজ হয়ে গেছে। তারপর একসঙ্গে ১০টি ফাঁসির দড়ি তৈরির বায়না পাওয়ার পর থেকেই শুরু হয়ে গেছে জোর জল্পনা।
উত্তরপ্রদেশ কারা দফতরের ডিরেক্টর জেনারেল আনন্দ কুমার জানিয়েছেন, তিহাড় জেল কর্তৃপক্ষের তরফে গত ৯ ডিসেম্বর করে ফ্যাক্স করে দু’জন ফাঁসুড়ে চেয়ে পাঠানো হয়েছে। কবে এই ফাঁসির সাজা কার্যকর হবে সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি।
ইতিমধ্যেই সাজা মকুবের আর্জি জানিয়ে দোষী অক্ষয় ঠাকুর শীর্ষ আদালতে ১৪ পাতার রিভিউ পিটিশন পেশ করেছে। আর এই রিভিউ পিটিশনে আইনজীবীকে দিয়ে সে যেভাবে তার যুক্তি সাজিয়েছে সেটা সামনে আসার পরে ক্ষোভের পারদ আরও বেশি চড়েছে। রিভিউ পিটিশনে অক্ষয় ঠাকুর দাবি করেছে, “বেদ, পুরাণ, উপনিষদ অনুযায়ী যুগের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের আয়ুও কমে। আগে মানুষ হাজার বছরের বেশি বাঁচত, এখন কলিযুগ। এই যুগে মানুষের আয়ু কমে ৫০-৬০ বছরে এসে ঠেকেছে। খিব কম মানুষই ৮০-৯০ বছর পর্যন্ত বাঁচেন। আয়ুই যখন কম, তখন আর মৃত্যুদণ্ডের সাজা দিয়ে কী হবে!”
যুক্তির শেষ এখানেই হয়নি। মহাত্মা গান্ধীর উদ্ধৃতি তুলে ধরে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে চেয়েছে দোষী অক্ষয় ঠাকুর। রিভিউ পিটিশনে উঠে এসেছে দিল্লির দূষণের কথাও। অক্ষয় ঠাকুরের দাবি, “বায়ুদূষণ রাজধানী দিল্লিকে গ্যাস চেম্বারে পরিণত করেছে। শুধু তাই নয় দিল্লির জলও বিষাক্ত। সে কথা সরকারও স্বীকারও করেছে। সবাই জানে দিল্লির বাতাস কতটা দূষিত, জল কতটা খারাপ। এই দূষণ আমাদের আয়ু দিন দিন আরও কমিয়ে দিচ্ছে। তাহলে আর ফাঁসির সাজা কেন!”

দোষীদের মধ্যে বিনয় কুমার দিল্লি সরকার ও কেন্দ্রের কাছে প্রাণভিক্ষার আর্জি জানিয়েছিলেন। কিন্তু গত সপ্তাহে দু’পক্ষই তা খারিজ করে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠিয়েছে। অন্য দিকে সুপ্রিম কোর্টে ফাঁসির সাজা বহাল রাখার পর রায় পুনর্বিবেচনার আর্জি জানিয়ে রিভিউ পিটিশন দাখিল করেছিল তিন দোষী বিনয়, মুকেশ ও পবন। কিন্তু শীর্ষ আদালত সেই আর্জি খারিজ করে দিয়েছে।
২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর রাজধানী শহর দিল্লিতে গভীর রাতে ফাঁকা বাসে জোর করে তুলে নেওয়া হয় বছর কুড়ির এক তরুণীকে। মেডিক্যালের ওই ছাত্রীর উপর চলে অমানবিক অত্যাচার। নৃশংশতার সীমা পেরিয়ে ছ’জন মিলে তরুণীকে গণধর্ষণ করে। এই ঘটনায় ৫ অভিযুক্তের ফাঁসির আদেশ দেয় নিম্ন আদালত। আর এক দোষী অপরাধের সময় নাবালক হওয়ায় সর্বোচ্চ তিন বছর জেল খাটার পর ছাড়া পেয়ে যায়। জেলে থাকাকালীনই এক দোষী রাম সিং আত্মহত্যা করে। দিল্লি হাইকোর্টে ফাঁসির পরিবর্তে যাবজ্জীবন সাজার আর্জি জানায় বাকি তিন দোষী। দিল্লি হাইকোর্টে সেই আর্জি খারিজ হয়। পরে সুপ্রিম কোর্টেও খারিজ হয় এই আবেদন।