
শেষ আপডেট: 23 January 2024 17:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পুরুলিয়া: কারখানার বিক্ষোভ রুখতে গিয়ে মাথা ফাটল থানার আইসির! এই ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে পুরুলিয়ার রঘুনাথপুর থানা এলাকায়।
অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের ছোড়া ইট পাথর ও লাঠির আঘাতে থানার আইসি অর্ঘ্য মণ্ডলের মাথা ফেটে যায়। তাঁর সঙ্গে বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মীও আহত হয়েছেন। আপাতত গুরুতর জখম অবস্থায় দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন অর্ঘ্যবাবু। তাঁর মাথায় ১৬টি সেলাই পড়েছে। পুলিশের উপর হামলা চালানোর অভিযোগে ১৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অশান্তি এড়াতে এলাকায় বসানো হয়েছে পুলিশ পিকেট।
কী হয়েছিল মঙ্গলবার?
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রঘুনাথপুর থানা এলাকার লছমনপুর গ্রামের কাছে একটি বেসরকারি স্টিল ফ্যাক্টরিতে কাজ চলছিল। সোমবার কাজের দাবিতে একটি "স্থানীয় ও জমিহারা" নামে একটি সংগঠন আন্দোলন শুরু করে। এই সংগঠনের বেশির ভাগ মানুষ স্থানীয় বাসিন্দা। অনেকেই কারখানার জন্য জমি দিয়েছিলেন। অভিযোগ, তাঁদের কাজে নেয়নি কারখানা কর্তৃপক্ষ। বহিরাগতরা কারখানায় কাজ পেয়েছেন।
সোমবার থেকে লাগাতার আন্দোলন চলছিল। ওই দিন কারখানায় কোনও শ্রমিককে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। কারখানায় কোনও গাড়ি ঢুকতে বা বেরতে পারেনি। কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও কোনওরকম আলোচনায় বসেনি আন্দোলনকারীরা। সংগঠনের সদস্যরা মঙ্গলবার সকালে ফের কারখানার গেটের সামনে অবরোধ আন্দোলন শুরু করেন।
অবরোধের খবর পেয়ে পুলিশবাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন রঘুনাথপুর থানার আইসি অর্ঘ্য মণ্ডল। তাঁর নেতৃত্বে আন্দোলনকারীদের মূল গেট থেকে হটিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে পুলিশ। সেই সময়ে আন্দোকারীরা সাময়িকভাবে পিছু হটে যায়।
অভিযোগ, বেশক্ষণ পরে লছমনপুর গ্রামের শতাধিক গ্রামবাসী লাঠি, ইট,পাথর নিয়ে কারখানার মূল গেটে চড়াও হয়। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট, পাথর ছুড়তে থাকে। সেই সময় মাথায় পাথরের আঘাত লেগে মাটিতে পড়ে যান আইসি অর্ঘ্য মণ্ডল। সেই সময় বেশ কয়েকজন গ্রামবাসী মিলে তাঁকে লাঠি দিয়ে মারতে শুরু করে।
বাকি পুলিশকর্মীরা আইসিকে বাঁচাতে গেলে তাঁরাও আহত হন। তবুও অর্ঘ্যবাবুকে তাঁরা উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠান। খবর পেয়ে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অম্লান কুসুম ঘোষ বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন। লছমনপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১৫ জনকে গ্রেফতার করেন। ধৃতদের মধ্যে কয়েকজন মহিলাও রয়েছেন। কয়েকটি বাইক ও সাইকেল বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
কারখানার জিএম বিপুল পানিগিরি বলেন, ''সম্পূর্ণ অনৈতিকভাবে কয়েকজন গেট বন্ধ করে আন্দোলন চালাচ্ছিল। বিষয়টি আমরা প্রশাসনকে জানিয়েছিলাম। প্রশাসন পদক্ষেপ করেছে।''