
শেষ আপডেট: 11 April 2024 14:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পুরুলিয়া: ভাগ্যিস সরকার থেকে তৈরি করে দেওয়া হয়েছিল শৌচালয়। সেই শৌচালয়ই এখন মাথা গোঁজার ঠাঁই পুরুলিয়া এক নম্বর ব্লকের সুন্দ্রাডি গ্রামের বৃদ্ধা মিথিলা মাহাতোর। খড়ের চাল দেওয়া মাটির বাড়ি ছিল। বৃষ্টিতে কবেই পড়ে গেছে। আবাস যোজনার ঘরও মেলেনি। জানালেন, ঘর নেই জানিয়ে বার কয়েক হাঁটাহাঁটি করেছেন পঞ্চায়েত অফিসে। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। একটা প্লাস্টিক দিয়ে দায় সেরেছে পঞ্চায়েত। অগত্যা ভরসা ৪ ফুট বাই ৩ ফুটের অপরিসর শৌচালয়টিই। অসহায় বৃদ্ধার এখন ঠাঁই হয়েছে সেই শৌচালয়ে।
পুরুলিয়া ১ নম্বর ব্লকের ডুঁড়কু গ্রাম পঞ্চায়েতের সুন্দ্রাডি গ্রামের বাসিন্দা মিথিলা। ৬৬ বছরের সেই বৃদ্ধা বাড়িতে একাই থাকেন। দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। স্বামীও মারা গেছেন বেশ কয়েক বছর আগে। খড়ের চাল দেওয়া মাটির বাড়ি গত বছর বৃষ্টিতে পড়ে গেছে। মাথা গোঁজার একমাত্র ঠাঁইটুকু চলে যাওয়ার পর অসহায় সেই মহিলা পঞ্চায়েতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। কিন্তু লাভ হয়নি কোনও। উপায় না দেখে সরকারের তৈরি করে দেওয়া শৌচালয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন ওই বৃদ্ধা। এখনও সেই অপরিসর ছোট্ট ঘরটাতে তার সংসার। সোজা হয়ে বসা যায় না, শোওয়া যায় না। তবু সেখানেই তিনি দিন কাটান বাধ্য হয়ে।
মিথিলা বললেন, "খড়ের চাল দেওয়া মাটির ঘর ছিল। গত আশ্বিনে পড়ে যায়। তারপর অনেকবার পঞ্চায়েতে হাঁটাহাঁটি করেছি। একটা ঘর করে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছি। কিন্তু কেউ কথা শোনেনি। অনেকবার বলার পর একটা প্লাসটিক দিয়েছিল। এখন ওটার নীচে দুটো ফুটিয়ে খাই। আর এইখানে ঘুমাই। রোদ-বৃষ্টি লাগে না। কিন্তু নড়াচড়া করতে পারি না।"
অসহায় বৃদ্ধার প্রতি তাঁর প্রতিবেশীরা সহানুভূতিশীল। গ্রামের পুরুষ থেকে মহিলা সকলেরই বক্তব্য একটা মাথা গোঁজার আশ্রয় দরকার ছিল ওঁর। এর ওর বাড়িতে কাজ করে কোনওমতে পেট চালান। কিন্তু মাথা গোঁজার তো একটা আস্তানা লাগে। প্রশাসন একটু মানবিক হোক।
মিথিলা মাহাতোর বাড়ি থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরে ডুঁড়কু গ্রাম পঞ্চায়েত। তৃণমূলের পঞ্চায়েতের প্রধান জানেনই না তাঁর এলাকায় এক মহিলা শৌচালয়ে বসবাস করেন। আর পঞ্চায়েতের সচিব এ বিষয়ে বললেন, "ঘর ভাঙার পর প্লাস্টিক দেওয়া হয়েছিল ওই বৃদ্ধাকে। আবাস যোজনার তালিকায় নামও নেই। তাই এর বেশি কিছু করা যায়নি।"
ওই এলাকা থেকে নির্বাচিত হয়েছেন পুরুলিয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি নিবেদিতা মাহাত। পঞ্চায়েতের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে তিনিও দায় এড়ালেন। বললেন, "ওঁর বিষয়টি অনেক আগেই আমি জানতে পেরেছি। ওঁকে একটা ত্রিপল দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আবাস যোজনার তালিকায় ওঁর নাম নেই, তাই বাড়ি কী করে দেব! আর কেন্দ্রের বরাদ্দও এখন পুরো বন্ধ। তবে এই অসহায় অবস্থা দেখে পঞ্চায়েতের তরফে কিছু করা উচিত ছিল। কেন করা হয়নি তা দেখছি।"
অনেক দিন কেটে গেছে। এখন আর কিছু আশা করেন না মিথিলা। শুধু পায়খানার উপর চাদর চাপা দিতে দিতে মনে হয় আরেকটু যদি বড় হত জায়গাটা, তাহলে পা দুটোকে গুটিয়ে ঘুমোতে হত না।