
শেষ আপডেট: 2 February 2024 13:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পুরুলিয়া: সকাল তখন সাড়ে নটা বাজে। পরীক্ষার হলে পৌঁছতে হবে পৌনে ১০টায়। এমন সময়ে ভুল পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছে গেল পুরুলিয়ার এক মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। অবশেষে পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষের সাহায্যে সঠিক পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছল পরীক্ষার্থী।
জানা গিয়েছে, পুরুলিয়ার হুড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পরীক্ষা গ্রহণ কেন্দ্রে সিট পড়েছিল বর্ণালী হাঁসদার। সে হুড়া মহিলা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবার মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে। পরীক্ষা শুরুর ১০ মিনিট আগে ভুল করে লক্ষ্মণপুর জগদা সৎসঙ্গ ক্ষীরোদাময়ী বিদ্যাপীঠে পৌঁছে যায় সে।
বান্ধবীদের দেখতে না পেয়ে বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে ওই ছাত্রী। পুলিশকে অ্যাডমিট কার্ড দেখাতে বুঝতে পারে ভুল তার ভুল। বিষয়টি নজরে পড়ে হুড়া পঞ্চায়েত সমিতির শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ প্রসেনজিৎ মাহাতর। তখনই ওই পরীক্ষার্থীকে নিজের গাড়িতে করে ৫ কিমি দূরে সঠিক পরীক্ষা গ্রহণ কেন্দ্রে পৌঁছে দেন তিনি।
বর্ণালীর বাবা চিত্তরঞ্জন হাঁসদা জানিয়েছেন, ‘বাড়ি থেকে বেরনোর সময় বান্ধবীদের ফোন করে পরীক্ষা কেন্দ্রের কথা জানতে চেয়েছিল মেয়ে। তারা মেয়েকে জানিয়েছিল, যে লক্ষ্মণপুর স্কুলে তাদের সিট পড়েছে। তাই মেয়েকে নিয়ে সেখানে গিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে গিয়ে বুঝতে পারি লক্ষ্মণপুর স্কুলে নয়, মেয়ের পরীক্ষার সিট পড়েছে হুড়া মহিলা উচ্চ বিদ্যালয়ে। কর্মাধ্যক্ষ প্রসেনজিৎ মাহাত মেয়েকে নিজের গাড়ি করে পৌঁছে দিয়েছেন।‘
বিষয়টি নিয়ে হুড়া পঞ্চায়েত সমিতির শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ প্রসেনজিৎ মাহাত বলেন, ‘মাধ্যমিক পরীক্ষা চলছে। পরীক্ষার্থীরা যাতে অসুবিধায় না পড়ে সেদিকে তাকিয়ে আমরা সমস্ত ব্যবস্থা নিয়েছি। ওই পরীক্ষার্থী ভুল পরীক্ষা কেন্দ্রে চলে গিয়েছিল। তাই গাড়ি করে তাঁকে সঠিক পরীক্ষা কেন্দ্র পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।‘
পুরুলিয়াতেও মাধ্যমিকের জন্য প্রত্যেক পরীক্ষা গ্রহণ কেন্দ্রে মোতায়েন রয়েছে পুলিশ। চলতি বছরে জেলায় মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৪১ হাজার ৯২৭। ছাত্রের তুলনায় ছাত্রীর সংখ্যা বেশি। ছাত্র রয়েছে ১৯ হাজার ৮৯৮ জন এবং ছাত্রী রয়েছে ২২ হাজার ২৯ জন। জেলায় মোট পরীক্ষা গ্রহণ কেন্দ্র ১১৫টি। এর মধ্যে প্রধান কেন্দ্র রয়েছে ৪১টি। জেলার ৩৬৯টি স্কুল মাধ্যমিক পরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত। প্রত্যেক ব্লকে একটি করে অ্যাম্বুল্যান্স মোতায়েন রয়েছে। কোথাও কোনও সমস্যা যাতে না হয় তার জন্য তৎপর রয়েছে জেলা শিক্ষা দফতর ও প্রশাসন।