
ঘটনাস্থলে পুলিশ সুপার
শেষ আপডেট: 15 October 2024 15:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পুরুলিয়া: দুর্গাপুজোর ভাসানযাত্রা চলছে। সেই সময়ে ব্যালকনি দাঁড়িয়ে আতসবাজির প্রদর্শনী দেখছিলেন স্ত্রী। আচমকাই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে সেই ব্যালকনি। ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয় স্ত্রীর। সমস্তটাই ঘটেছিল স্বামীর চোখের সামনে। তখনই তিনতলা বাড়ি থেকে বিদ্যুতের তার জড়িয়ে মরণঝাঁপ দেন স্বামীও। গায়ে কাঁটা দেওয়া সেই ভয়ঙ্কর দৃশ্যই এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। এই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি দ্য ওয়াল।
পুরুলিয়ার রাসমেলার এলাকায় সোমবার রাতে প্রতিমা বিজর্সন চলছিল। সেই সময়ে একের পর এক আতশবাজি ফাটানো চলছিল। আত্মীয়ের বাড়ির তিনতলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিলেন ৪২ বছরের সোনালি ধীবর। তাঁর স্বামী ৫১ বছরের মোহন ধীবর সহ অনেকেই দাঁড়িয়েছিলেন। প্রদর্শনী শেষ হওয়ার মুখে আচমকাই তিনতলা বাড়ির সেই বারান্দার একাংশ ভেঙে পড়ে নীচে। সোনালিও পড়ে যান। চোখের সামনে স্ত্রীর এমন মর্মান্তিক পরিণতি দেখেই বিদ্যুতের তার জড়িয়ে ঝাঁপ দেন মোহনও। এই ঘটনায় জখম হন বাড়ির মালিক মিঠু ধীবরও। মাথা ফেটে গেছে তাঁর। মিঠু ধীবর দেবেন মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আত্মীয়রা জানিয়েছেন, সোনালী ও মোহনের বাড়ি ঝাড়খণ্ডের বোকারো জেলার ঝরিয়াতে। তাঁরা পুরুলিয়ায় আত্মীয় মিঠু ধীরের বাড়িতে পুজোর ছুটি কাটাতে এসেছিলেন। মিঠুদের বাড়ির পাশেই জেলেপাড়া সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটির মন্দির। সেখানে প্রতিবছর আতসবাজির প্রদর্শনী হয়। এবার প্রচুর ভিড় হয়েছিল। আতশবাজির প্রদর্শনী দেখতে মানুষজন বাড়ির দেওয়াল, ছাদের কার্নিশে এবং বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিলেন।
দুর্ঘটনার পরে সেখানে গিয়েছিলেন পুরুলিয়ার পুরপ্রধান নবেন্দু মাহালি, রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী শান্তিরাম মাহাতো। পরে আহতকে দেখতে হাসপাতালেও যান শান্তিরামবাবু। তাঁর সঙ্গে ছিলেন পুরুলিয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি নিবেদিতা মাহাতো।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই বাড়ির বারান্দা আগে থেকেই দুর্বল ছিল। তারমধ্যেই আতসবাজি প্রদর্শনী দেখতে বহু মানুষ সেখানে ভিড় করেছিলেন। ফলে বারান্দার একাংশ ভেঙে পড়ে। বেশ কয়েকজন জখম হন।দুর্ঘটনার পরেই পুরুলিয়া জেলা পুলিশের এই উদ্ধার কাজে নামে। আপাতত ওই দুর্ঘটনাস্থল গার্ড রেল দিয়ে ঘিরে রেখেছে পুলিশ।
এই ঘটনা প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আতসবাজি প্রদর্শনীর সময় ব্যালকনি ভেঙে পড়ায় এক মহিলার মৃত্যু হয়। স্ত্রীর শোকে তাঁর স্বামীও ব্যালকনি থেকে ঝাঁপ দেন। ভাইরাল ভিডিও দেখে প্রাথমিকভাবে এই ঘটনাই উঠে এসেছে। ওই ব্যক্তিও মারা গিয়েছেন। সমস্ত বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”