মাত্র ১৩ বছরের অর্পণ প্রামাণিকের হাতে গড়া তিন ফুট দুর্গা প্রতিমা পূজিত হবে নলহাটির পাড়ার ক্লাবের মণ্ডপে। গ্রামবাসীরা মুগ্ধ।

মূর্তি গড়ছে নলহাটির কিশোর। ছবি: এআই নির্মিত।
শেষ আপডেট: 24 September 2025 12:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রামপুরহাটের নলহাটির এক পাড়ায় এবার দুর্গা প্রতিমা পূজিত হবে এক কিশোর শিল্পীর হাতে তৈরি মণ্ডপে। বয়স মাত্র ১৩, তবুও শিল্পের ছোঁয়ায় তাক লাগিয়েছে অর্পণ প্রামাণিক নামের এক অষ্টম শ্রেণির ছাত্র।
শৈশবেই স্কুল থেকে ফেরার পথে প্রতিমা তৈরির দৃশ্য দেখত সে বিস্মিত চোখে। তখনই জন্ম নেয় মাটির মূর্তির প্রতি টান। সেই শখই আজ তাকে দাঁড় করিয়েছে গ্রামবাসীর প্রশংসার আসনে। সিমলান্দি গ্রামের এই কিশোর শিল্পী এখন শেষ টান দিচ্ছে তুলিতে, তার তৈরি তিন ফুটের দুর্গা প্রতিমা বসবে পাড়ার ক্লাবের পুজো মণ্ডপে।
অর্পণ ভদ্রপুর মহারাজ নন্দকুমার হাইস্কুলের ছাত্র। পড়াশোনার পাশাপাশি ছোট থেকেই তার হাতেখড়ি মাটির শিল্পে। সরস্বতীর প্রতিমা বানানোর অভিজ্ঞতা ছিল আগেই, তবে এবার প্রথমবার দুর্গা প্রতিমা গড়েছে সে। দেবী দুর্গা ছাড়াও একচালার ভেতর রয়েছে লক্ষ্মী, সরস্বতী, গণেশ, কার্তিক, সিংহ আর অসুর—সব মিলিয়ে পূর্ণাঙ্গ দশভুজা।
রথযাত্রার দিন নিয়ম মেনে কাঠামো তৈরি শুরু করেছিল অর্পণ। তারপর ধাপে ধাপে কাঠামোয় মাটি দিয়ে গড়ে তুলেছে প্রতিমা। এত অল্প বয়সে এই কাজ দেখে গ্রামবাসীরা অবাক। সকলে বলছেন, ভবিষ্যতে নামকরা শিল্পী হওয়ার যোগ্যতা তার মধ্যেই স্পষ্ট।
অর্পণের বাবা অরূপরঞ্জন প্রামাণিক পেশায় কৃষক। তিনি বলেন, “আমাদের পরিবারে কখনো কেউ মৃৎশিল্পী ছিল না। পঞ্চম শ্রেণি থেকে ও প্রতিমা তৈরি দেখতে যেত। পরে মোবাইলে নানা ভিডিও দেখে নিজেই শিখেছে।” মা-ও ছেলের প্রতিভায় খুশি।
অর্পণ নিজে বলেছে, “পাড়ার ক্লাবের শিল্পীরা প্রতিমা বানাতেন, তখন থেকেই আমার আগ্রহ। ভিডিও দেখে শিখেছি। পড়াশোনার পাশাপাশি ছবি আঁকতেও ভালোবাসি।”
প্রথমে ভেবেছিলেন, অর্পণের বানানো দুর্গা প্রতিমা বাড়িতেই পুজো হবে। কিন্তু এলাকায় পুরোহিতের টানাপড়েন আর দুর্গাপুজোর নিয়মকানুনের কারণে অবশেষে ঠিক হয়, পাড়ার ক্লাবেই হবে দেবী স্থাপনা। সেই সিদ্ধান্তে ভীষণ খুশি গ্রামবাসী।
অরূপরঞ্জন বলেন, “ছেলে যদি বড় হয়ে প্রতিমা গড়াকে পেশা করে নেয়, তাতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।” অর্পণের স্বপ্ন, প্রতিমা তৈরিই হবে তার ভবিষ্যতের পথ। সে চায় একদিন বড় শিল্পী হিসেবে নিজের জায়গা করে নিতে।