
ক্যারাটে স্যারের হাট
শেষ আপডেট: 18 November 2024 18:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো, বীরভূম: শীত তেমন পড়েনি এখনও। তবুও রবিবারের সকালটা জমে উঠেছিল রীতিমতো। আসলে হাট বসেছিল যে। আর সেই হাট থেকে ২ টাকায় জামাকাপড় কিনলেন প্রায় ৪০০ গ্রামবাসী।
বোলপুরের রজতপুর পূর্ব বাহাদুরপুরের বাসিন্দা বুদ্ধিশ্বর মণ্ডল। পেশায় মার্শাল আর্ট ট্রেনার তিনি। জেলার বিভিন্ন প্রান্তে শতাধিক ছেলে মেয়েকে তাইকন্ডু শেখান তিনি। গত ২ বছর ধরে বুদ্ধিশ্বরই আয়োজন করছেন দুই টাকার জামাকাপড়ের হাটের। প্রতিবছর তিন থেকে চারবার বিভিন্ন আদিবাসী গ্রামে বসে এই হাট। মার্শাল আর্টের ট্রেনিং দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গা থেকে নতুন ও পুরনো জামাকাপড় সংগ্রহ করে এই হাটের আয়োজন করেন তিনি । এই উদ্যোগের সঙ্গী হন তাঁর ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে অসংখ্য সহৃদয় মানুষ।
রবিবারের হাটে এসেছিলেন বোলপুর সংলগ্ন সাহেবডাঙা, দোনাইপুর, নীলডাঙা, পারুলডাঙা ও বাগানপাড়ার মানুষজন। ৮ থেকে ৮০ প্রায় সকলে মিলে কেনাকাটা করলেন দারুণ উৎসাহ নিয়ে। কেনাকাটার পর উপরি পাওনা হিসেবে নিয়ে গেলেন একটি করে দশ টাকার ডিটারজেন্ট পাউডারের প্যাকেট।
বুদ্ধিশ্বরবাবু জানান, তিনিও ছোট থেকে পুরনো জামাকাপড় পড়ে বড় হয়েছেন। কারণ অভাবী পরিবারে বেড়ে উঠেছেন তিনিও। তাই এমন একটা একটা হাট তৈরির ভাবনা ছিল তাঁর। মার্শাল আর্ট ট্রেনিং দেওয়ার মাঝে যে সময়টুকু পান, সেই সময়টায় বাড়ি বাড়ি ঘুরে, ছাত্র-ছাত্রীদের সহায়তায়, এবং সোশ্যাল মিডিয়াকে হাতিয়ার করে এই জামাকাপড়গুলো সংগ্রহ করেন। এবং বছরে তিন থেকে চারবার আদিবাসী গ্রামগুলিতে এমন হাটের আয়োজন করেন।
কেন দু-টাকার বিনিময়ে বিলি করেন জামাকাপড়, সেটাও জানালেন বুদ্ধিশ্বরবাবু। বললেন,"যদি বিনামূল্যে এই জামা কাপড়গুলো দিই তাহলে হয়তো গ্রামবাসীরা এটাকে দান ভাববে। আমি চাই তারা এটাই ভাবুক তাদের নিজেদের কষ্টার্জিত টাকায় তারা এই জামাকাপড় কিনছেন। সঙ্গে ডিটারজেন্ট পাউডার দিচ্ছি জামা কাপড়গুলোকে ভালো করে ধুয়ে নিয়ে পরার জন্য।"