
অনুব্রত ও সুকন্যা।
শেষ আপডেট: 24 September 2024 12:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বান্ধবী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের ফ্ল্যাট থেকে নগদ ৫০ কোটি টাকা উদ্ধার হওয়া নিয়ে তোলপাড় পড়ে গেছিল। তৃণমূলের রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ জহর সরকার সে সময়ে বলেছিলেন, দেখে গা শিরশির করে উঠছিল তাঁর! কিন্তু এর পরে সিবিআইয়ের সূত্র জানায়, অনুব্রত কাঁচা টাকা বিশেষ রাখেনি। তা দিয়ে নানা ঘুরপথে সম্পত্তি করেছেন। এবং সেই সম্পত্তির বহর পার্থর চেয়ে বেশি বই কম মোটেও না।
বছর দুয়েক জেল খাটার পরে তিহাড় থেকে মুক্তি পেয়ে, আজ, মঙ্গলবার বীরভূমে ফিরেছেন অনুব্রত মণ্ডল। সেদিনই অনেকের মনে পড়ে গেছে, এত আয়বহির্ভূত সম্পত্তির যে অভিযোগ ছিল বীরভূমের দোর্দণ্ডপ্রতাপ এই নেতার বিরুদ্ধে, তার কী হল?
সিবিআই সূত্র জানিয়েছিল, অনুব্রত মণ্ডলের একার নামেই ২৪টি সম্পত্তি রেজিস্ট্রি করা রয়েছে। তাঁর মেয়ে তথা সরকারি প্রাথমিক স্কুল শিক্ষিকা সুকন্যা মণ্ডলের নামে রয়েছে ২৬টি সম্পত্তি। তাঁর স্ত্রী ছবি মণ্ডলের নামে রয়েছে ১২টি সম্পত্তি। আর অনুব্রতর দেহরক্ষী সায়গল হোসেন, যাকে কিনা গরু পাচারকারীরা ‘সাইকেল’ বলে ডাকত তার নামে নথিভুক্ত রয়েছে ৪৭টি স্থাবর সম্পত্তি।
ব্যাপারটা এখানেই শেষ হয়নি। অনুব্রত মণ্ডলকে বাবা বলে ডাকতেন স্থানীয় বিদ্যুৎবরণ গায়েন নামে এক ব্যক্তি। তিনি আগে বোলপুর পুরসভার জঞ্জাল ফেলার গাড়ির খালাসি ছিলেন। অনুব্রতই নাকি তাঁকে পুরসভায় পাকা চাকরি করে দেন। পরে অনুব্রতর পরিবারের প্রায় সদস্য হয়ে ওঠেন বিদ্যুৎ। তিনি কতটা ঘনিষ্ঠ ছিলেন তা সুকন্যা মণ্ডলের ফেসবুক পেজের পুরনো ছবি থেকে স্পষ্ট বোঝা যেতে পারে। সেই বিদ্যুতের নামে ৩২টি প্রপার্টি। বিদ্যুতের স্ত্রীর নামে রয়েছে দু'টি প্রপার্টি। আর অনুব্রতর ঘনিষ্ঠ কমলকান্তি ঘোষ এবং তাঁর পরিবারের ১৮টি সম্পত্তির খোঁজ পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি সিবিআইয়ের।
বছর দুয়েক আগে অনুব্রত গ্রেফতার হওয়ার সময়ে সিবিআইয়ের এক অফিসার বলেছিলেন, নজর করলে দেখা যাবে অনুব্রত সাংবাদিকদেরও একটা কথা চিৎকার করে বলছেন। তা হল, যা সম্পত্তি রয়েছে তার জন্য আয়কর তথা ইনকাম ট্যাক্স দেওয়া আছে। কিন্তু উনি হয়তো জানেন না যে কর দেওয়াই শেষ কথা নয়। আয়ের উৎস দেখাতে হয়।
পাশাপাশি সিবিআই সন্দেহ প্রকাশ করেছিল, এক শ্রেণির চার্টার্ড অ্যাকাউনট্যান্টের সাহায্যে অনুব্রত বিভিন্ন খাতে আয় দেখিয়ে ওই সব সম্পত্তি করেছেন। বীরভূমের কিছু চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের বাড়িতে হানাও দিয়েছিল সিবিআই। প্রচুর কাগজপত্র বাজেয়াপ্তও করা হয়।
আজ, মঙ্গলবার অনুব্রত জামিন পেয়ে বাড়ি ফেরার পরে সে প্রসঙ্গে কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরীও বলেন, 'অনুব্রত জামিনে মুক্ত পেলেন মানেই তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো মিথ্যা হয়ে যায় না। সিবিআই ও ইডি তদন্তের সময়ে অনুব্রত মণ্ডল ও তাঁর মেয়ের নামে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তির হদিশ পাওয়া গিয়েছে। সেগুলো তদন্ত এজেন্সি চার্জশিটেও লিখেছে। এই হিসাব বহির্ভূত আয়ের উৎস্য কী? কোথা থেকে এসেছিল এই বিপুল টাকা? একটা লোক মাছ মাছ বেচতে বেচতে এতগুলো চাল কলের মালিক হয়ে গেল, এমনি এমনিই!'