
শেষ আপডেট: 30 October 2024 14:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো, বাঁকুড়া: কয়েকদিন আগেও হাতির দলের দাপাদাপিতে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন চাষিরা। ফসল ভরা খেতে হাতি তাড়াতে মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন তাঁরা। অভিযোগ পেয়ে বনকর্মীরাও হাতি তাড়াতে তৎপর হয়েছিলেন। কিন্তু এতেও তাঁদের হিমশিম খেতে হচ্ছিল। এমন অবস্থায় এক হস্তিশাবকের জন্মে রাতারাতি বদলে গেল গোটা ছবিটা।
এই ঘটনা ঘিরে চাষি, বনকর্মী থেকে এলিফ্যান্ট স্কোয়াড- সকলেই মা হাতি ও নবজাতকের যত্নে তৎপর হয়ে উঠলেন। গোটা এলাকা ঘিরে রাখলেন গ্রামের মানুষ ও বনকর্মীরা। এমনকি, সদ্যোজাতকে নিয়ে ফেরার পথে হাতির দল যে ধান নষ্ট করল, তাতেও বিশেষ আমল দিলেন না চাষিরা। যে জঙ্গলমহল হাতি-মানুষ সংঘাত দেখতেই অভ্যস্ত, সেখানেই বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরে দেখা গেল ভিন্ন ছবি।
স্থানীয় সূত্রে জানাগিয়েছে, প্রায় ৪০টি হাতির দলটি পাঞ্চেত ডিভিশনে ঢুকে পড়েছিল। সোমবার সন্ধেয় জন্মের প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পরে সদ্যোজাতকে নিয়েই রূপনারায়ণ ডিভিশনের দিকে চলে যায় হাতির দলটি।
সোমবার বিকেল তিনটে নাগাদ বাঁকাদহ রেঞ্জের আমডহরা বিটের চক উপরশোল মৌজার চিলিং বাঁধের কাছে শাবকের জন্ম দেয় একটি মা হাতি। তখন জঙ্গলের চারদিকে ঘিরে দাঁড়িয়ে ছিল দলের বাকি সদস্যরা। সন্ধে ৭টা নাগাদ সদ্যোজাত শাবককে সঙ্গে নিয়ে হাতির দলটি রূপনারায়ণ ডিভিশনের দিকে রওনা দেয়। জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার হাতিগুলি দুই ডিভিশনের মাঝে জঙ্গলের কলাবাগানে আশ্রয় নিয়েছিল। সদ্যোজাতকে ঠেলে ঠেলে মাহাতি প্রায় ১৫ কিলোমিটার পথ গিয়েছে। শাবকটি মেয়ে হাতি। জয়রামবাটি সড়কের কাছে তার জন্ম হওয়ায় তার নাম রাখা হয়েছে সারদা।