
শেষ আপডেট: 26 January 2024 19:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পুরুলিয়া: বৃহস্পতিবার রাত এগারোটা। বেজে ওঠে কাঞ্চন সূত্রধরের মোবাইল ফোন। বাঘমুন্ডির চড়িদা গ্রামে তখন মাঝরাত। কাঞ্চন জানতে পারেন মরণোত্তর পদ্মশ্রী পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে তাঁর বাবা প্রয়াত নেপাল সূত্রধরকে। প্রথমে অবাক হওয়ার পালা। তারপরেই চোখ ভেসে যায় জলে। “যদি বেঁচে থাকতেন বাবা কতটা আনন্দ পেতেন।”
সেই কোন ছোটবেলায় শিল্পীসত্ত্বার প্রকাশ ঘটেছিল। মূর্তিই হোক আর মুখোশ, দক্ষ হাতে তৈরি করে যেতেন তিনি। ভিতরে যে লুকিয়ে রয়েছে এক নৃত্যশিল্পীও! তাও সামনে আসে পরে। গম্ভীর সিং মুড়ার সঙ্গে মঞ্চ কাঁপাতেন একসময়। পরে গড়েছিলেন নিজের দল। একাধারে মুখোশ শিল্পী, অন্যদিকে ছৌ শিল্পী- বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এই মানুষটি প্রয়াত হয়েছেন গত নভেম্বর মাসে। এবার মুখোশ শিল্পী হিসেবে মরণোত্তর পদ্ম সম্মান দেওয়া হল। সেই খবর আসার পরেই চোখের জল বাঁধ মানছে না শিল্পীর স্ত্রী ও পুত্রের।
নভেম্বর মাসে ৭৫ বছর বয়সে প্রয়াত হন নেপালবাবু। তাঁর ছেলে, কাঞ্চন বলেন, “বাবা জীবিত থাকলে আজ বড় আনন্দ হত। ১৫ বছর বয়স থেকে মুখোশ তৈরি করেছেন। ছৌ শিল্পী হিসেবেও দারুণ সফল। পাঁচবারের বেশি বিদেশে গেছেন কর্মশালা করতে। আমেরিকা, সাউথ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ডে মুখোশের কর্মশালা করেছেন।” বাবার পদ্মশ্রী পাওয়ার খবরে গর্বিত কাঞ্চন। একইসঙ্গে ভারাক্রান্তও।
এদিকে নেপালবাবু মরণোত্তর পদ্মশ্রী সম্মান পেয়েছেন এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই গ্রামের লোক ভিড় করেন। আনন্দ আর দুঃখ মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় বাঘমুন্ডির চড়িদা গ্রামে।