ব্রিটিশ আমলে চট্টগ্রাম থেকে গুসকরায় চলে আসে চোংদার পরিবার। মূলত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাজে সাহায্য করতেই তাদের ডাকা হয়। ধীরে ধীরে চোংদার বাড়ির লোকেরাই হয়ে ওঠেন ওই অঞ্চলের জমিদার।

পূর্ব বর্ধমানের সেই অন্য় বাড়ি
শেষ আপডেট: 8 September 2025 19:18
প্রায় সাড়ে চারশো বছর ধরে মহাসমারোহে সম্পন্ন হয় গুসকরার চোংদার বাড়ির পুজো। কথিত আছে সম্রাট শের শাহের আমলে গুসকরার বাড়িতে দুর্গাপুজো শুরু হয়। সেই থেকে ধারাবাহিকভাবে হয়ে আসছে এই পুজো। বর্তমানে জৌলুস কিছুটা কমলেও পরিবারের বর্তমান সদস্যরা ঐতিহ্য ও পরম্পরাকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন।
চোংদার বাড়ির দুর্গাপুজোর কথা উঠলেই মনে পড়ে যাবে এখানকার রীতি ও প্রথার কথা। যেমন, এখানে দশমীতে ঘট বিসর্জন হয় না, ঘট আহ্বান করা হয়৷ বাড়ির বধূ মল্লিকা চোংদার বলেন, ‘পরিবারের মঙ্গল কামনায় দশমীর দিন ঘট বিসর্জন হয় না আমাদের পরিবারে। ঘট বিসর্জন হয় পরের বছর ষষ্ঠীর দিন।"
গুসকরার জমিদার চতুর্ভুজ চোংদারের হাত ধরে এই পুজো শুরু হয়েছিল বলে জানা যায়। জমিদার বাড়ির কেন্দ্রস্থলে তৈরি হয় বিরাট দুর্গা মন্দির। শোনা যায়, একসময় কলকাতার নামী কোম্পানির অভিনেতারা গুসকরার এই বাড়িতে গিয়ে যাত্রাপালার আসর জমাতেন। ধুমধাম করেই কেটে যেত পুজোর চারটে দিন। এখনও পুজোর দিনগুলিতে মেতে ওঠেন বাড়ির বড়ো থেকে ছোটো সদস্যরা ৷ যাঁরা বাইরে থাকেন, পুজোর সময় তাঁরাও চলে আসেন উৎসবে সামিল হতে।
মল্লিকা চোংদার জানান, একসময় সন্ধিপুজোয় কামান দাগা হত। এখন তা বন্ধ হয়ে গেছে। তবে এখন বন্দুক দেগে তবে সন্ধি পুজো শুরু হয়। আর প্রথা মেনে সেই বন্দুকের শব্দ শুনে পুজো শুরু হয় আশেপাশের এলাকায়। এই পরিবারের দুর্গাপুজোয় আগে বলি হত। তবে ১৯৭৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় মারা যায় প্রচুর গবাদিপশু। সেই থেকে এখানে মোষ ও ছাগ বলি বন্ধ হয়ে যায়। তারপর থেকে চালকুমড়ো বলির প্রথা চালু রয়েছে। ভোগ সাজানো হয় প্রায় ৫১টি থালায়। বাড়ির মহিলারাই সাধারণত ভোগ রান্না করেন।
জানা যায়, ব্রিটিশ আমলে চট্টগ্রাম থেকে গুসকরায় চলে আসে চোংদার পরিবার। মূলত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাজে সাহায্য করতেই তাদের ডাকা হয়। ধীরে ধীরে চোংদার বাড়ির লোকেরাই হয়ে ওঠেন ওই অঞ্চলের জমিদার। দুর্গাপুজোর পাশাপাশি কালীপুজো ও জগদ্ধাত্রী পুজোও চলে আসছে বহুদিন ধরে।