দ্য ওয়াল ব্যুরো: সেনা অফিসার হওয়ার স্বপ্ন ছিল কৈশোরেই। পঞ্জাব পাবলিক স্কুলের মেধাবী ছাত্রের লক্ষ্য ছিল ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমি। দ্বাদশের পরীক্ষার আগেই এনডিএ এন্ট্রান্স টেস্টে দারুণ র্যাঙ্ক করে ফেলেন অনুজ সুদ। স্কুলের শেষ দিনে এনডিএ-র চিঠি হাতেই উল্লাসে কাছের বন্ধুদের বলেছিলেন, “আমি পেরেছি। দেশের জন্য কাজ করতে যাচ্ছি। সেনা অফিসার হব।”
মেজর অনুজ সুদ। ৩১ বছরের ঝকঝকে তরুণ আজ দেশের বীর শহিদের সম্মান পেয়েছেন। জঙ্গিদের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছেন অকুতোভয়ে। শ্বাস থেমে যাওয়ার আগে অবধি লড়াই করেছেন বীর বিক্রমে। নিকেশ করে গেছেন দুই ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ জঙ্গিকে। মেজর অনুজের মৃত্যুর খবর নাড়া দিয়েছে পঞ্জাব পাবলিক স্কুলকেও। স্কুলের প্রাক্তনী অনুজের কাছের বন্ধুরা তো বটেই চোখের জলে মেধাবী ছাত্রকে মনে করছেন স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারাও।
স্কুলে সহপাঠীদের সঙ্গে কিশোর অনুজ
“অনুজ খুব ভাল ছাত্র ছিল। পড়াশোনায় তুখোড়, মৃদুভাষী। কথা শুনে চলত। ছোট থেকেই নিয়ম শৃঙ্খলা মেনে চলার চেষ্টা ছিল ওর মধ্যে”, বলেছেন স্কুলের ইংরাজি শিক্ষিকা। অনুজের বাবা প্রাক্তন সেনা ব্রিগেডিয়ার চন্দ্রকান্ত সুদও এই স্কুলেরই প্রাক্তনী। আইএসসি পরীক্ষার টপার ছিলেন চন্দ্রকান্ত। ছেলেও ছিল বাবার মতোই পড়াশোনায় ভাল, খেলাধূলায় দুরন্ত।
অ্যাঞ্জেলিনা জোলির সঙ্গে ঘুরতে যাবে বলেছিল, অনুজের ডায়রি পড়ে জানিয়েছেন তাঁর কাছের বন্ধু মানজোৎ সিং চাড্ডা। মানজোৎ ও অনুজের বাবারাও ছেলেবেলার বন্ধু। দুই পরিবারের ঘনিষ্ঠতাও রয়েছে। মানজোৎ বলেছেন, অনুজের প্রিয় সিনেমা ছিল ‘ওম শান্তি ওম’, ‘লক্ষ্য’ ও ‘ডাই হার্ড’। স্কুলের শেষ দিনে ফেয়ারওয়েলের অনুষ্ঠানে অনুজ বলেছিলেন তিনি দেশ রক্ষা করতে যাবেন। ২০০৮ সালে দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষার আগেই ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমির প্রবেশিকা পরীক্ষায় দারুণ র্যাঙ্ক করে ফেলেন অনুজ। ডায়রিতে তিনি লিখেছিলেন, “এনডিএ-তে প্রশিক্ষণ নিতে যাব। চিঠি এসে গেছে। সেনা অফিসার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে।”
স্কুলের ফেয়ারওয়েলের দিনে কাছের বন্ধুদের সঙ্গে
স্কুলের শেষ দিনটা ভুলতে পারছেন না তাঁর সহপাঠীরা। বন্ধুদের নোটবুকে অনুজ লিখেছিলেন, “ভারতীয় সেনাদের সাহস ও বীরত্বে আমি গর্বিত। আমাদের পাঞ্জাবি স্পিরিটও কম নয়। আমরা পারব দেশ রক্ষা করতে।”
গত দু’বছর ধরে জম্মু-কাশ্মীরে পোস্টেড ছিলেন মেজর অনুজ। মার্চেই বদলি নিয়ে পাঞ্জাবে চলে আসার কথা ছিল তাঁর। লকডাউনের কারণেই কাশ্মীরে থেকে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন। এপ্রিলের শুরুতে লস্কর জঙ্গিদের উপত্যকায় ঢোকার খবর পেয়ে কর্নেল আশুতোষের সঙ্গেই তাদের কব্জা করার পরিকল্পনা করেছিলেন মেজর অনুজ। বাড়ি ফেরা বা পরিবারের চিন্তা তখন তাঁর লক্ষ্যে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। “পাঞ্জাবে ফিরে আসবে বলেছিল। জঙ্গি অনুপ্রবেশের খবর পেয়ে বলেছিল কাজ সেরে তবেই ফিরবে,” বলেছেন শহিদ ছেলের গর্বিত বাবা প্রাক্তন সেনা ব্রিগেডিয়ার চন্দ্রকান্ত সুদ। তিনিও দীর্ঘদিন কাশ্মীরে ছিলেন। ছেলে জঙ্গি দমন অভিযানে যাচ্ছে যেনে বুক গর্বে ভরে উঠেছিল। প্রাক্তন সেনা ব্রিগেডিয়ার বাবাও হয়ত জানতেন পরিণতি সুখের নাও হতে পারে, কিন্তু ছেলে বীর সম্মান নিয়েই ফিরবে। শক্ত করেছিলেন মনকে। ছেলে ফিরছে, বীর শহিদের সম্মান নিয়েই।