শেষ আপডেট: 22 January 2020 13:38
রাজ্য কৃষি দফতরের তরফে সতর্কতা জারি করা হয়েছে পঞ্জাবের চারটি জেলায়। রাজস্থান সীমানা সংলগ্ন মুক্তাসার, উরিদকোট, ফিরোজপুর এবং ফজিলকা জেলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। সেখানকার চাষিদের সতর্ক করা হচ্ছে এই পঙ্গপালের সঙ্গে লড়াই করার বিষয়ে। সরকারি কর্তারা গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেও এসেছেন।
পঞ্জাবের কৃষিসচিব কাহান সিং পান্নু জানিয়েছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সবরকম প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। ছড়ানো হচ্ছে কীটনাশক, প্রয়োগ করা হচ্ছে নানা ওষুধ। কৃষকরাও নিজেদের উদ্যোগে রাত-দিন জেগে ফসল পাহারা দিচ্ছেন সপরিবারে। স্টিলের প্লেট পিটিয়েও পঙ্গপাল তাড়ানোর চেষ্টা করছেন তাঁরা। কারণ স্থানীয়দের বিশ্বাস, বিকট শব্দে এই উপদ্রব কমে যায়।
রাজস্থানে এসবের পাশাপাশি বসানো হয়েছে এক ধরনের অত্যাধুনিক মেশিন, যা রাতের বেলায় পঙ্গপালের দলের ওপর বিশেষ কীটনাশক ছড়িয়ে দেয়। তারপর সকালে রোদ্দুর ওঠার পর তারা উড়তে গেলেই তার প্রতিক্রিয়ায় পঙ্গপাল মরে যায়।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণত এত দিন পর্যন্ত পঙ্গপালের হামলা নভেম্বরের মধ্যে শেষ হয়ে যেত। কিন্তু এ বার দেখা যাচ্ছে শীত আসার পরেও পঙ্গপালের হামলা থামছে না। আগে রাতের বেলায় কীটনাশক ছড়িয়ে রাখলে সকালে রোদ্দুর ওঠার পর পঙ্গপাল ওড়ার চেষ্টা করত এবং সঙ্গে সঙ্গে মারা যেত। শীতে তা হয় না। শীতে যে সময়টা বেছে নিতে হচ্ছে, সেটা ভোরবেলা। পঙ্গপালের সঙ্গে যুদ্ধরত কর্মী-বাহিনী মেশিনের সাহায্যে একদম ভোরবেলায় কীটনাশক ছড়িয়ে দিচ্ছে। তারপর সকালে পঙ্গপাল মরছে।
পঙ্গপালের বিশেষত্ব হচ্ছে তাদেরকে যদি একবারে খতম না করা যায়, তা হলে তারা এত দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে যে তাদের প্রতিরোধ করা মুশকিল হয়ে পড়ে। এমনিতেই রাজস্থান খরাপ্রবণ রাজ্য। কম বৃষ্টিপাতের কারণে জমি অত্যন্ত রুক্ষ, ফলে চাষবাস করাও কষ্টসাপেক্ষ। তার মধ্যে যদি এভাবে ফসল নষ্ট হয়ে যায়, তবে তা কৃষকদের জন্য খুবই সমস্যার বিষয়।