
শেষ আপডেট: 7 November 2022 16:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কন্যাসন্তানের (girl child) জন্ম মানেই অনেকের কাছে ঘরে লক্ষ্মী আগমন। তবে এই একুশ শতকেও এমন বহু মানুষ রয়েছেন, যাঁদের কাছে কন্যাসন্তান পুত্রসন্তানের সমতুল্য নয়। তাই ভারতের মতো দেশে আজও আইনের ফাঁক গলে কন্যাভ্রূণ (female foeticide) হত্যা হয়েই চলেছে। এই কন্যাভ্রূণ হত্যার বিরুদ্ধে বার্তা দিতে পুণের এক চিকিৎসক এমন পদক্ষেপ নিয়েছেন, তাতে তাঁকে ধন্য ধন্য করছেন নেটিজেনরা। জানা গেছে, গণেশ রাখ নামে ওই চিকিৎসক (doctor) তাঁর হাসপাতালে কন্যাসন্তানের জন্ম হলে কোনও ফি (fee) নেন না।
পুণের হাদাপসর এলাকায় ওই চিকিৎসকের একটি মাল্টি স্পেশালিটি হাসপাতাল তথা প্রসূতি ক্লিনিক রয়েছে। জানা গেছে, আজ থেকে ১১ বছর আগে প্রথম এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেন চিকিৎসক গণেশ রাখ। এযাবৎ তাঁর হাসপাতালে ২ হাজার ৪০০ এরও বেশি শিশুকন্যার জন্ম হয়েছে, যাদের কারওর পরিবারের থেকেই কোনও রকম দক্ষিণা নেননি তিনি।
আছে আরও চমক। হাসপাতালে মেয়ে জন্মালেই চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের তরফ থেকে 'গ্র্যান্ড সেলিব্রেশন' এর আয়োজন করা হয়। কেক কাটা হয়, মিষ্টি বিতরণ করা হয়, শিশুকন্যার মা-বাবার উপর ছড়ানো হয় ফুলের পাপড়ি। ডিসচার্জের পর সাজানো-গোছানো সুদৃশ্য অটোরিকশায় করে মা ও নবজাতককে বাড়ি পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
২০১২ সালে এই ঘটনা শুরুর আগে নানারকম আশ্চর্য ঘটনা সম্মুখীন হয়েছেন চিকিৎসক গণেশ। তিনি জানিয়েছেন, অনেক ক্ষেত্রেই নবজাতক কন্যা হলে বাড়ির লোকেরা তাকে দেখতে আসত না। সমাজের এই মানসিকতার পরিবর্তন এনে লিঙ্গসাম্যের বার্তা দেওয়ার জন্যই এমন অভিনব প্রয়াস, জানিয়েছেন গণেশবাবু।
তিনি আরও জানিয়েছেন, সরকারি সমীক্ষা অনুযায়ী, গত ১০ বছরে ৭ কোটিরও বেশি কন্যাভ্রূণ হত্যার ঘটনা ঘটেছে দেশে। এই ঘটনাকে 'গণহত্যা' বলেই দাবি করেছেন তিনি। তবে নয়া সমীক্ষা থেকে জানা গেছে, বর্তমানে কন্যা ভ্রূণ হত্যার ঘটনা এক ধাপে অনেকটাই কমেছে, যা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক বলেই মনে করছেন ডা: গণেশ।