দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেউ সেজেছেন তাঁতের শাড়িতে, কেউ সিল্কে। শাড়ির সঙ্গে মানানসই গয়না। কারও চোখে হাল্কা কাজল, কেউ ঠোঁট রাঙিয়েছেন লিপস্টিকে। সলজ্জ হাসিতে তুলে ধরছেন লিঙ্গসাম্যের কথা। না, কেউ নারী নন, সবাই পুরুষ। নারী সেজেই পুরুষতন্ত্রের প্রথাগত ধারণার বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছেন। লিঙ্গবৈষম্যের বিরুদ্ধে বার্তা দিতে এমনই অভিনব কর্মসূচী নিয়েছে পুণের একটি কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্ররা।
‘টাই অ্যান্ড শাড়ি ডে’ এই কর্মসূচীর নাম এমনটাই। পুণের ফার্গুসন কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রেরা সেজেছেন শাড়ি-গয়নায়। ছাত্রীরা শার্ট-প্যান্ট-টাইতে। গার্হস্থ্য হিংসা, অশিক্ষা, ধর্ষণ, নির্যাতনের বিরুদ্ধে তাঁদের প্রতিবাদের ভাষা অহিংস। ছাত্রেরা বলেছেন, “ছেলেদের ছোটবেলা থেকে শিভালরি শেখানো উচিত। নারী ও দুর্বলের প্রতি কী ভাবে দয়া দেখাতে হয়, কী ভাবে তাদের রক্ষা করতে হয়, সেটাই শেখানো দরকার। নারীরা ভোগের বস্তু নন, তাঁরা সম্মানের যোগ্য, সেটাই শেখানো উচিত ছেলেদের।”
আকাশ পাওয়ার, সুমিত হোনওয়াদাজকর ও রুশিকেশ সানাপের ছবি ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। আকাশ বলেছেন, “আমাদের সহপাঠী বান্ধবীরাই শাড়ি পরিয়ে সাজিয়ে দিয়েছেন আমাদের। দিনে দিনে মহিলাদের উপর যেভাবে নির্যাতন বাড়ছে, স্কুলে-কলেজে হেনস্থার শিকার হতে হচ্ছে মহিলাদের, আমাদের প্রতিবাদ সমাজের এই অন্ধকার দিকগুলিরই বিরুদ্ধেই।”
https://twitter.com/Vishalverma111/status/1213384437993529345?ref_src=twsrc%5Etfw%7Ctwcamp%5Etweetembed%7Ctwterm%5E1213384437993529345&ref_url=https%3A%2F%2Fwww.timesnownews.com%2Fthe-buzz%2Farticle%2Fpune-college-boys-drape-sarees-on-traditional-day-to-advocate-gender-equality-picture-goes-viral%2F535863
সুমিতের কথায়, গ্রামে বা আধাশহর, মফস্বলের স্কুল-কলেজগুলিতে এখনও নারী শিক্ষকদের গ্রহণযোগ্যতা ততটা বাড়েনি। ফলে গ্রামের স্কুলে শইক্ষকদের অধিকাংশ খালি থেকে যায়। তার কারণ, শিক্ষাক্ষেত্রে মহিলা কর্মকর্তার অভাব থাকায় পুরুষতান্ত্রিক প্রভাবও আগাগোড়া বজায় রয়েছে। নারীদের অজ্ঞতা, মা-কন্যা-স্ত্রী হিসেবে বাড়ির গণ্ডীর মধ্যে নিজেকে দেখার মানসিকতা এবং বহির্জগতের সঙ্গে যোগাযোগের অভাব মনস্তাত্ত্বিক বাধা তৈরি করে। অনেকেই চিরাচরিত ধ্যানধারণা থেকে বেরিয়ে নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হন না। গ্রামগঞ্জে এখনও অল্প বয়সেই মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার রেওয়াজ রয়েছে। আইনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে চোরাগোপ্তা পথেই চলে বাল্যবিবাহ। অভাবের তাড়নায় নিজের মেয়েকে বেচে দেওয়ার নজিরও রয়েছে অজস্র। যাদের ভাগ্য এতটা খারাপ নয়, তাদেরও পেট ও পরিবার চালাতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে শিশু শ্রমিক হিসেবে পরিচারিকার কাজ, ইটভাটায় কাজ, কাগজ কুড়ানির কাজ বা নানা ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতে হয়।
‘‘নারীদের শিক্ষা, সামাজিক অধিকার যদি একটা ছায়াবৃত্তেই আটকে থাকে, তাহলে সেখানে সূর্যোদয় কোনওদিনই সম্ভব নয়। নারীদের মর্যাদা দিতে এগিয়ে আসতে হবে পুরুষদেরই, সেই বার্তাই দিতে চেয়েছি আমরা,’’ বলেছেন পুণের কলেজের ছাত্ররা।