আফগানিস্তানে নিহত ভারতীয় ফোটোগ্রাফার দানিশ সিদ্দিকির দেহ সমাহিত করা হবে দিল্লির জামিয়া কবরখানায়। জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, নিয়ম ভেঙেই দানিশকে এই সম্মান দেবেন তাঁরা। কারণ জামিয়ার কবরস্থান কেবল বিশ্বববিদ্যালয়ের কর্মী ও তাঁদের পরিবারের জন্যই সংরক্ষিত। সেখানেই চিরনিদ্রায় সমাহিত হবেন পুলিৎজার-জয়ী, জামিয়ার প্রাক্তনী এই চিত্র-সাংবাদিক।
কন্দহরে আফগান সেনা এবং তালিবানের সংঘর্ষের ছবি তুলছিলেন দানিশ। সেখানেই গুলির মাঝে পড়ে নিহত হয়েছেন তিনি। এই ঘটনার জন্য আবার বিবৃতি দিয়ে দুঃখ প্রকাশও করেছে তালিবান। কিন্তু দেশের সংবাদমহল বলছে, অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল চিত্রসংবাদের জগতে। দানিশের সেরা কাজগুলিই কেবল চিরকাল থেকে যাবে ইতিহাসের পাতায়।
জানা গেছে, জামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে দানিশ ও তাঁর পরিবারের সম্পর্ক বহুদিনের। দানিশের বাবা মহম্মদ আখতার সিদ্দিকী জামিয়ার অধ্যাপক ছিলেন। এবং জামিয়া নগরেই থাকতেন। দানিশ নিজে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা করেছেন। তাই দানিশের মর্মান্তিক মৃত্যুর পরে তাঁর পরিবার জামিয়াকে অনুরোধ করেন, দানিশের শেষশয্যার ব্যবস্থা সেখানেই করতে। রাজি হয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

দানিশের মর্মান্তিক মৃত্যুতে বিশ্বের একটা বড় অংশ যখন শোকাচ্ছন্ন, তখন আশ্চর্যজনক ভাবে চোখে পড়েছে দেশের শাসক দলের অর্থাৎ বিজেপির নীরবতা। এক লাইনের দুঃখপ্রকাশও দেখা যায়নি তাদের তরফে। এর পেছনেও সুস্পষ্ট কারণ রয়েছে বলেই মনে করছে আলোকচিত্রী মহল ও বিরোধীরা।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বিজেপি-র একটা বড় অংশ গোড়া থেকেই মনে করে এসেছে, দানিশ সিদ্দিকী হিন্দুত্বকে উগ্রপন্থার কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে। দানিশের কাজগুলি তেমনই ধারণার প্রকাশ বলে মনে করেন তাঁরা। এই নিয়ে একাধিক বিজেপি নেতা টুইটও করেছেন। সেই কারণেই রাষ্ট্রীয় স্তরে বা তথ্যমন্ত্রকের তরফে কোনও রকম কোনও শোকজ্ঞান বা উচ্চবাচ্য শোনা যায়নি। যেন আকারে ইঙ্গিতে এটাই আরও একবার স্পষ্ট, দানিশ যেন হিন্দুদের উগ্রবাদী দেখানোর চেষ্টা করতেন, অথচ মারা গেলেন মুসলিম উগ্রবাদের গুলিতে।