দ্য ওয়াল ব্যুরো : পুদুচেরিতে আস্থাভোটের দাবি তুলেছিলেন বিরোধীরা। তাঁদের বক্তব্য, ওই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে কংগ্রেস সরকার সংখ্যালঘু হয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার লেফটেন্যান্ট গভর্নর তামিলিসাই সুন্দররাজন ঘোষণা করলেন, বিধানসভায় শক্তিপরীক্ষা হবে সোমবার। সম্প্রতি পুদুচেরি বিধানসভা থেকে চার কংগ্রেস বিধায়ক পদত্যাগ করেন। তার পরেই সরকার গরিষ্ঠতা হারিয়েছে বলে অনেকে মনে করছেন।
পুদুচেরিতে এর আগের লেফটেন্যান্ট গভর্নর কিরণ বেদিকে আচমকাই সরিয়ে দেওয়া হয়। বুধবার তাঁর জায়গায় আসেন সুন্দররাজন। তিনি বলেন, কংগ্রেস সরকারের এখনও গরিষ্ঠতা আছে কিনা জানার জন্য বিধানসভায় শক্তিপরীক্ষা হওয়া জরুরি। সোমবার বিকাল পাঁচটায় শক্তিপরীক্ষা হবে। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, লেফটেন্যান্ট গভর্নর এদিন মুখ্যমন্ত্রী ভি নারায়ণস্বামীকে জানিয়েছেন, একটি কারণেই সোমবার বিধানসভার অধিবেশন বসবে। সেখানে পরীক্ষা হবে, এখনও বিধানসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য নারায়ণস্বামীকে সমর্থন করেন কিনা।
পুদুচেরি বিধানসভায় নির্বাচিত বিধায়কের সংখ্যা ৩০। কংগ্রেসের ছিল ১৪ জন বিধায়ক। এছাড়া ডিএমকে-র দু'জন ও এক নির্দল বিধায়ক কংগ্রেসকে সমর্থন করেছিলেন। সরকার গড়তে সেখানে চাই ১৬ জন বিধায়কের সমর্থন। কংগ্রেসের পক্ষে ছিলেন ১৭ জন।
কংগ্রেসের চারজন ইস্তফা দেওয়ার পরে সরকার ও বিরোধী, উভয়পক্ষেই ১৪ জন করে বিধায়ক আছেন। এখন কংগ্রেস বিধায়কের সংখ্যা ১০। বিধানসভায় আছেন মোট ২৮ জন বিধায়ক। এই অবস্থায় গরিষ্ঠতা পেতে হলে ১৫ জন বিধায়কের সমর্থন চাই।
কংগ্রেসের যে চারজন ইস্তফা দিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে এ নমোশিবম এবং এ থেপ্পাইনজান বিধায়ক পদ ছাড়েন ২৫ জানুয়ারি। দু'জনেই বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। সোমবার বিধায়ক পদ ছেড়েছিলেন মাল্লাদি কৃষ্ণা রাও। মঙ্গলবার পদ ছেড়েছেন জন কুমার। এন ধনভেলু নামে এক বিধায়ক গত বছরেই দলবিরোধী কার্যকলাপের জন্য ডিসকোয়ালিফায়েড হয়েছিলেন।
মাল্লাদি কৃষ্ণ রাও গত সপ্তাহে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লি গিয়েছিলেন। তাঁরা কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আবেদন করেন, লেফটেন্যান্ট গভর্নর কিরণ বেদিকে পুদুচেরি থেকে ফিরিয়ে আনা হোক। তার পরেই তিনি ইস্তফা দেওয়ায় অবাক হয়েছেন অনেকে। এ নমোশিবম একসময় পুদুচেরিতে কংগ্রেসের প্রধান ছিলেন। কেন্দ্রশাসিত ওই অঞ্চলে কংগ্রেসের শক্তি সংহত করার কাজে তাঁর বিশেষ ভূমিকা ছিল। তাঁর সঙ্গে আরও কয়েকজন কংগ্রেসকর্মী দল ছেড়েছেন।
কয়েক বছর ধরেই কংগ্রেসে বিক্ষুব্ধ ছিলেন নমোশিবম। ২০১৬ সালে ভোটের সময় শোনা গিয়েছিল, তিনিই মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন। কিন্তু সেই পদ পান ভি নারায়ণস্বামী। তিনি ভোটেই প্রার্থীই ছিলেন না। পরে প্রদেশ কংগ্রেস প্রধানের দায়িত্বও নমোশিবম পাননি। সেই পদটি পেয়েছিলেন এ ভি সুব্রহ্মণ্যম।