দ্য ওয়াল ব্যুরো : ১২ দিন ধরে পুদুচেরির সরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন কোভিডে আক্রান্ত এক বৃদ্ধ। সেই সঙ্গে তাঁর ডায়াবিটিস ছিল। বৃহস্পতিবার ৮০ বছরের ওই বৃদ্ধ মারা যান। তাঁর ছেলে পুলিশ ইনস্পেকটর। বৃদ্ধ মারা যাওয়ার পরে তিনি ও তাঁর পরিবারের লোকজন হাসপাতালে হামলা চালান। তিনজন ডাক্তার এবং এক নার্স আক্রান্ত হন। পরে ওই ঘটনায় এফআইআর হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত ইনস্পেকটরের নাম সনমুগা সুন্দরম। তিনি আত্মগোপন করেছেন।
বৃহস্পতিবার হাসপাতালের ডাক্তাররা সনমুগা সুন্দরমকে গ্রেফতারের দাবি তোলেন। তাঁদের বক্তব্য, রোগীর গ্যাংগ্রিন হয়ে গিয়েছিল। তাঁর একটি পায়ের পাতার সামনের অংশ অপারেশন করে বাদ দেওয়া হয়। হাসপাতালের ডায়রেক্টর মোহন কুমার বলেন, ডাক্তারদের মারধর করার পাশাপাশি অভিযুক্তরা একটি মোবাইল ফোন নিয়ে গিয়েছে। এই ঘটনায় চিকিৎসক ও নার্সরা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়েছেন।
পুদুচেরির স্বাস্থ্য সচিব টি এস অরুণ বলেন, "তদন্ত চলছে। ডাক্তার ও নার্সরা এখন কঠিন পরিশ্রম করছেন। এমন সময় এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটে গেল।"
শুক্রবার সকালে জানানো হয়েছে, পুদুচেরিতে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ২৮ হাজার জন। এখন অ্যাকটিভ কেসের সংখ্যা ৪৯৯৪। মারা গিয়েছেন ৫২৫ জন।
শুক্রবার ২ অক্টোবর সকাল ৮টা পর্যন্ত ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৬৩,৯৪,০৬৮। কোভিড সংক্রমণে এ যাবৎ দেশে মৃত্যু হয়েছে ৯৯,৭৭৩ জনের। সংক্রমণ সারিয়ে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৫৩,৫২,০৭৮ জন। ভারতে এখন অ্যাকটিভ রোগীর সংখ্যা ৯,৪২,২১৭।
গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৮১,৪৮৪ জন। সংক্রমণে মৃত্যু হয়েছে ১০৯৫ জনের। আর সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ৭৮,৮৭৭ জন। ভারতে এখন সুস্থতার হার ৮৩.৭০ শতাংশ। আর মৃত্যুহার ১.৫৬ শতাংশ। গত ২৪ ঘনাতয় দেশে ১০,৯৭,৯৪৭ জনের কোভিড টেস্ট করা হয়েছে।
বিশ্বের কোভিড পরিসংখ্যানে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভারত। এখানে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৬৪ লক্ষ। সংক্রমণে মৃতের সংখ্যা এক লক্ষ ছুঁইছুঁই। তবে সুস্থও হয়েছেন সাড়ে ৫৩ লক্ষের বেশি মানুষ।
ভারতের কোভিড পরিসংখ্যানে শীর্ষে থাকা মহারাষ্ট্রে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১৩,৮৪,৪৪৬। সংক্রমণে মৃত্যু হয়েছ ৩৬,৬৬২ জনের। সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১০,৮৮,৩২২ জন। মহারাষ্ট্রে অ্যাকটিভ কেস ২,৫৯,৪৬২।
দ্বিতীয় স্থানে থাকা অন্ধ্রপ্রদেশে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৬,৯৩,৪৮৪ জন। কোভিড সংক্রমণে মৃত্যু হয়েছে ৫৮২৮ জনের। সংক্রমণ সারিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ৬,২৯,২১১ জন। অন্ধ্রপ্রদেশে অ্যাকটিভ রোগীর সংখ্যা ৫৮,৪৪৫।
তৃতীয় স্থানে রয়েছে কর্নাটক। এখানে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৬,০১,৭৬৭। কোভিড সংক্রমণে মৃত্যু হয়েছে ৮৮৬৪ জনের। সংক্রমণ সারিয়ে সুস্থ হয়েছেন ৪,৮৫,২৬৮ জন। কর্নাটকে অ্যাকটিভ কেস ১,০৭,৬৩৫।
চতুর্থ স্থানে রয়েছে তামিলনাড়ু। এখানে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৫,৯৭,৬০২। সংক্রমণে মৃত্যু হয়েছে ৯৫২০ জনের। সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৫,৪১,৮১৯ জন। তামিলনাড়ুতে অ্যাকটিভ কেস ৪৬,২৬৩।