দ্য ওয়াল ব্যুরো : পুদুচেরির কংগ্রেস সরকারের সঙ্গে লেফটেন্যান্ট গভর্নর কিরণ বেদির সংঘাত চলছে বেশ কিছুদিন ধরে। সংঘাত চরমে পৌঁছাল প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে। রবিবার মঞ্চেই মেজাজ হারিয়ে রাগারাগি করলেন মুখ্যমন্ত্রী ভি নারায়ণস্বামী। তারপর নেমে গেলেন মঞ্চ থেকে। কিরণ বেদি বলেছেন, এই আচরণের জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে ক্ষমা চাইতে হবে। বিপরীতে কংগ্রেসের দাবি, প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী অপমানিত হয়েছেন। সেজন্য রাজ্যপালকেই ক্ষমা চাইতে হবে।
পুদুচেরির পদ্ম সম্মান প্রাপকদের সংবর্ধনা দেওয়া নিয়ে বিরোধ শুরু হয়। এবার ওই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের দু'জন পদ্ম সম্মান পেয়েছেন। তাঁদের একজন হলেন লেখক মনোজ দাস। অপরজন টেরাকোটা শিল্পী ভি কে মুনুস্বামী কৃষ্ণপাথকর। তাঁদের সম্মান জানানোর জন্য প্রজাতন্ত্র দিবসে লেফটেন্যান্ট গভর্নরের বাসস্থান রাজ নিবাসে আহ্বান জানানো হয়েছিল। সেখানেই প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। দুই পদ্ম প্রাপককে সম্মান জানানোর জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে আহ্বান করা হয়। তাঁদের দু'টি শাল দেওয়ার কথা ছিল। মুখ্যমন্ত্রীকে বলা হয়, আপনি শালদু'টি দু'জনের হাতে তুলে দিন।
তাতেই রেগে যান নারায়ণস্বামী। তাঁর অভিযোগ, পদ্ম সম্মান প্রাপকদের যে শাল দেওয়া হবে আগে তাঁকে জানানো হয়নি। তাই তিনি শাল না দিয়েই মঞ্চ থেকে নেমে যান। সোমবার কিরণ বেদি বিবৃতি দিয়ে বলেন, "আমরা দুই পদ্ম প্রাপককে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম, পুদুচেরিয়ানরা এই সুযোগে তাঁদের দুই হিরোকে সম্মান জানাবেন। খুব অল্প সময়ের নোটিশে তাঁরা রাজ নিবাসে উপস্থিত হন। এখানকার কন্ট্রোলার আশা গুপ্ত মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছিলেন, আপনি দু'জনের হাতে শাল তুলে দিন।"
এরপর সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "আশা গুপ্ত ভেবেছিলেন, মুখ্যমন্ত্রী যখন মঞ্চে উপস্থিত আছেন, তাঁর হাত দিয়েই পদ্ম সম্মান প্রাপকদের শাল দেওয়া উচিত। মুখ্যমন্ত্রীকে সম্মান জানানোই তাঁর উদ্দেশ্য ছিল। কিন্তু নারায়নস্বামী টেরাকোটা শিল্পী মুনিস্বামীর সামনেই চেঁচিয়ে ওঠেন, আগে আমার অনুমতি নেওয়া হয়নি কেন? রাজ নিবাসের অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর আচরণে সকলে অস্বস্তিতে পড়েন।"
এর পরেই কিরণ বেদি দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রীকে ক্ষমা চাইতে হবে।