জনপ্রতিনিধিদের স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ বলে কিছু হয় না। এমন কোনও ফোন এলে ভয় না পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানাতে হবে। তাতেই ঠেকানো যাবে প্রতারণার জাল।

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 22 December 2025 20:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’, এই ভয় দেখিয়েই এ বার বিধায়ক ও সাংসদদের নিশানা করতে পারে সাইবার প্রতারকরা (Public representatives in the trap of 'digital arrest', Police warn MLAs and MPs)।
এমনই গোপন ইনপুট পেয়ে রাজ্যের বিভিন্ন জেলার জনপ্রতিনিধিদের আগাম সতর্ক করছে পুলিশ। পরামর্শ একটাই, অপরিচিত কোনও ভিডিও কল ধরবেন না।
সম্প্রতি পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের একাধিক কর্মাধ্যক্ষকে সাইবার প্রতারকরা ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ করে। উপস্থিত বুদ্ধির জোরে তাঁরা টাকা খোয়াননি ঠিকই, কিন্তু ঘটনার অভিঘাতে অনেকেরই রক্তচাপ ও পালস রেট বেড়ে যায়। এমনকি জেলা পরিষদের সভাধিপতিকেও একই ফাঁদে ফেলতে চেষ্টা করা হয়েছিল।
পুলিশের এক আধিকারিক জানান, বিধায়ক ও সাংসদদের ফোন নম্বর বিভিন্ন সরকারি ওয়েবসাইটে সহজেই পাওয়া যায়। সেখান থেকেই নম্বর সংগ্রহ করে প্রতারকরা জনপ্রতিনিধিদের টার্গেট করছে। তাই একাধিক এমএলএ ও এমপিকে ফোন করে সতর্ক করা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, কয়েক দিন আগে পূর্ব বর্ধমানের এক বিধায়ক সেক্সটরশনের শিকার হন। তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পরই তদন্ত শুরু হয়েছে।
সাইবার প্রতারণার কৌশলও ক্রমশ নিখুঁত হচ্ছে। এক পুলিশ আধিকারিকের কথায়, প্রতারকরা প্রথমে গোয়েন্দা সংস্থার অফিসার পরিচয় দিয়ে ফোন করে। কখনও বলে, আপনার নামে আসা একটি পার্সেল বাজেয়াপ্ত হয়েছে, যার মধ্যে হেরোইন বা ব্রাউন সুগার রয়েছে। তারপর ‘মুম্বই ক্রাইম ব্রাঞ্চ’-এর নাম করে ভিডিও কলে নেয় আর এক জনকে, যিনি পুলিশের পোশাক পরে নকল থানায় বসে কথা বলেন। আধার, প্যান কার্ডের তথ্য নেওয়ার পর বলা হয়, মামলা থেকে বাঁচতে হলে দিতে হবে মোটা অঙ্কের টাকা, কখনও ১ কোটি, কখনও ৫ কোটি, আবার কখনও ১০ কোটিরও বেশি।
পুলিশের দাবি, অনেক শিক্ষিত ও প্রভাবশালী মানুষও এই ফাঁদে পড়েছেন। লজ্জায় অনেকেই অভিযোগ জানান না। তাই জনপ্রতিনিধিদের স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ বলে কিছু হয় না। এমন কোনও ফোন এলে ভয় না পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানাতে হবে। তাতেই ঠেকানো যাবে প্রতারণার জাল।