দ্য ওয়াল ব্যুরো : দিল্লির সীমান্তে কৃষকদের অবস্থান শুক্রবার ৭২ দিনে পড়ল। এদিনই সংসদে বিবৃতি দিয়ে কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমর বললেন, "কৃষি আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন কেবল একটি রাজ্যে সীমাবদ্ধ। কৃষকদের উস্কানি দেওয়া হচ্ছে।"
রাজ্যসভায় তোমর বলেন, কৃষক ইউনিয়ন বা কোনও বিরোধী দল কৃষি আইনগুলিতে একটাও খুঁত দেখাতে পারেনি। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় সরকার ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কৃষকদের উন্নয়নে বদ্ধপরিকর। তাঁরা বিরোধীদের প্রশ্ন করেছিলেন, কৃষি আইনগুলিতে কী খুঁত আছে? কেউ তাঁদের জবাব দেয়নি।
কৃষকরা আশঙ্কা করছেন, নতুন আইনগুলি কার্যকরী হলে তাঁরা ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য পাবেন না। কৃষিক্ষেত্র পুরোপুরি বড় ব্যবসায়ীদের দখলে চলে যাবে।
বৃহস্পতিবার সকালে ১০ টি রাজনৈতিক দলের ১৫ জন সাংসদ কৃষকদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন গাজিপুরে। দিল্লি-উত্তরপ্রদেশ সীমান্তে অবস্থিত ওই অঞ্চলে দু'মাসের বেশি সময় ধরে কৃষকরা অবস্থান করছেন। কিন্তু পুলিশ তাঁদের কৃষকদের সঙ্গে দেখা করতে দেয়নি। পরে সাংসদরা বলেন, অন্নদাতাদের প্রতি সরকার যে আচরণ করছে, তা চমকে ওঠার মতো।
সাংসদরা একটি বাসে চড়ে গাজিপুরে গিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন সদ্য এনডিএ ছেড়ে আসা শিরোমণি অকালি দলের সাংসদ হরসিমরত কাউর বাদল, এনসিপি-র সুপ্রিয়া সুলে, ডিএমকে-র কানিমোঝি এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সৌগত রায়। পরে হরসিমরত কাউর বাদল টুইট করে বলেন, "গাজিপুর বর্ডারের অবস্থা নিজের চোখে দেখে এলাম। অন্নদাতাদের প্রতি সরকার যে আচরণ করছে, তা রীতিমতো শকিং। তাঁদের চারপাশে দুর্গের মতো পাঁচিল দেওয়া হয়েছে। কংক্রিটের ব্যারিকেডের সঙ্গে রয়েছে কাঁটাতারের বেড়া। কৃষকরা যেখানে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন, সেখানে অ্যাম্বুলেন্স বা ফায়ার ব্রিগেডেরও ঢোকার রাস্তা নেই।"
কৃষকরা যে জায়গাগুলিতে অবস্থান করছেন, সেখানে পুলিশ ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়েছে। জল ও বিদ্যুতের সরবরাহও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তার প্রতিবাদে সোমবার সন্ধ্যায় কৃষকরা চাক্কা জ্যাম-এর কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। সোমবার পেশ হওয়া বাজেট নিয়েও কৃষকরা অসন্তুষ্ট হয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, বাজেটে কৃষির উন্নয়নে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।
গত প্রজাতন্ত্র দিবসে দিল্লিতে ট্র্যাক্টর মিছিলকে কেন্দ্র করে হিংসা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ও কৃষকদের মধ্যে সংঘর্ষে মৃত্যু হয় এক কৃষকের। আহত হন বহু কৃষক। চলতি বছরের প্রথম মন কি বাত অনুষ্ঠানে এদিন লালকেল্লায় সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে মুখ খোলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন লালকেল্লায় তেরঙার যে অবমাননা করা হয়েছে তাতে আমি দুঃখিত। এই ঘটনা কোনও মতেই মেনে নেওয়া যায় না।” এর আগে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, “আইন আইনের পথে চলবে।”