দ্য ওয়াল ব্যুরো : শুক্রবার দুপুরে জামা মসজিদের কাছে ভীম আর্মির বিক্ষোভ সামাল দিতে হিমসিম খেয়েছে পুলিশ। সন্ধ্যার অন্ধকার নামার সঙ্গে সঙ্গে নতুন করে উত্তাল হয়ে উঠল রাজধানী। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে পথে নামলেন কয়েকশ মানুষ। ভারতের পতাকা ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে তাঁরা জামা মসজিদ থেকে যন্তর মন্তরের দিকে যেতে চেষ্টা করেন। প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, সেভ দ্য কনস্টিটিউশন। পুলিশ দিল্লি গেটের কাছে ব্যারিকেড করে তাঁদের আটকে দেয়।
বিক্ষোভকারীরা ফিরে যেতে রাজি হননি। প্রতি মিনিটে তাঁদের সংখ্যা বাড়তে থাকে। উত্তেজনা চরমে উঠলে গাড়িতে আগুন লাগানো শুরু হয়। দরিয়াগঞ্জ থানার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা একটি গাড়িতেও আগুন লাগানো হয়। পুলিশ তখন বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে জলকামান ছোঁড়ে। লাঠিচার্জ করে।
হিংসার জেরে দিল্লি মেট্রো ১৭ টি স্টেশন বন্ধ করে দেয়। ব্যস্ত রাজীব চৌক, প্রগতি ময়দান এবং খান মার্কেট স্টেশনও সন্ধ্যার পর ছিল বন্ধ।
গত রবিবার থেকে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে দিল্লি। এদিন রাজধানীর জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের বিক্ষোভ হিংসাত্মক হয়ে ওঠে। পুলিশও বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ঢুকে অনেককে আটক করে। মঙ্গলবার পূর্ব দিল্লির সিলামপুরে হিংসা ছড়ায়। ২ হাজার বিক্ষোভকারী পুলিশের উদ্দেশে পাথর ছুঁড়তে থাকেন। পুলিশ পাল্টা কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায়।
শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর জামা মসজিদের কাছে আন্দোলনকারী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। মসজিদের চারপাশে এদিন কড়া পাহারা ছিল। কিন্তু শুক্রবারের নমাজ শেষ হওয়ার পরে দেখা যায়, ভীর আর্মির প্রধান চন্দ্রশেখর আজাদ দরজার কাছে দাঁড়িয়ে স্লোগান দিচ্ছেন। তাঁর হাতে ছিল সংবিধানের কপি ও বাবাসাহেব ভীমরাও আম্বেদকরের একটি ছবি। তাঁর মুখ ছিল নীল কাপড়ে ঢাকা। ৩১ বছর বয়সী চন্দ্রশেখর সংবিধানের প্রস্তাবনা পাঠ করছিলেন। আরও অনেকে তাঁর সঙ্গে গলা মেলাচ্ছিল।
এই সময় পরিস্থিতির দিকে নজর রাখার জন্য ড্রোন বিমান পাঠানো হয়। খুব দ্রুত মসজিদের আশপাশের সরু গলি দিয়ে অনেক বিক্ষোভকারীকে আসতে দেখা যায়। তাঁদের হাতে ছিল ফ্ল্যাগ ও প্ল্যাকার্ড। পুলিশের চেয়ে বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ছিল অনেক বেশি। তখন পুলিশ ধর্মগুরুদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। এরপর তারা চন্দ্রশেখর আজাদকে পাকড়াও করে। কলার ধরে তাঁকে পুলিশের ভ্যানে তোলার চেষ্টা হয়। এমন সময় তিনি পুলিশের হাত ছাড়িয়ে ফের ভিড়ে মিশে যান।
জামা মসজিদের কাছে এদিন পুলিশ কয়েকশ বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করেছে। ওই অঞ্চলে বৃহস্পতিবার থেকেই জারি করা হয়েছিল ১৪৪ ধারা। শুক্রবার নমাজ পড়ার জন্য সেই নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়।
এদিন দিল্লির পাশাপাশি বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়েছে উত্তরপ্রদেশের নানা প্রান্তে। মুজফফরপুর, বাহরাইচ, বুলন্দশহর, গোরক্ষপুর, ফিরোজাবাদ, আলিগড় এবং ফারুখাবাদ জেলা থেকে এদিন বিক্ষোভ ও হিংসার খবর এসেছে।