দ্য ওয়াল ব্যুরো: শাহিনবাগের আন্দোলনকারীদের বিকল্প জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছিল সুপ্রিম কোর্ট। দেশের শীর্ষ আদালত দু’জন মধ্যস্থতাকারীকেও ঠিক করে দিয়েছিল আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলার জন্য। সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত সেই দুই মধ্যস্থতাকারী বর্ষীয়ান আইনজীবী সঞ্জয় হেগড়ে ও সাধনা রামচন্দ্রন যান শাহিনবাগে। কিন্তু আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আন্দোলন চলবেই।
দু’মাসের বেশি সময় হয়ে গেল শাহিনবাগে রাস্তাজুড়ে ম্যারাপ বেঁধে সিএএ বিরোধী আন্দোলন চলছে। এই আন্দোলনে সাধারণ মানুষের অসুবিধে হচ্ছে এই অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হয়েছে জনস্বার্থ মামলা। সেই শুনানিতেই রাস্তা আটকে আন্দোলন নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে শীর্ষ আদালত।
শাহিনবাগের আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে আদালত বলে, “আজকে আপনারা আন্দোলন করছেন, কালকে শহরের অন্য একটি জায়গায় সমাজের অন্য একটি অংশের মানুষ ধর্নায় বসবে। তখন কী হবে? ট্রাফিকের গতি তো আর আন্দোলনের জন্য শ্লথ হতে পারে না!”
মধ্যস্থতাকারীরা জানিয়েছেন, তাঁরা সমস্ত আন্দোলনকারীদের সঙ্গে একে একে কথা বলবেন। তারপর সুপ্রিম কোর্টকে জানাবেন। আগামী সোমবার অর্থাৎ ২৪ ফেব্রুয়ারি শাহিনবাগ মামলার ফের শুনানি হবে আদালতে।
সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে আন্দোলন চলছে দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লির শাহিনবাগে। মূলত সংখ্যালঘু মহিলারাই সেই আন্দোলনের সামনের সারিতে। গত দু’মাসের বেশি সময়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরের কেন্দ্রে ছিল শাহিনবাগ। সুপ্রিম কোর্টেও মামলা উঠেছিল দিল্লির ভোটের আগে। কিন্তু শীর্ষ আদালত বলে, ভোটের আগে কোনও ভাবেই আদালত শাহিনবাগ মামলার শুনানি শুনবে না। তাতে প্রভাব পড়তে পারে ভোটে।
অনেকের মতে, বৃহস্পতিবার ফের শাহিনবাগে যেতে পারেন দুই মধ্যস্থতকারী। এখন দেখার বিকল্প জায়গার প্রস্তাব গ্রহণ করে কিনা তাঁরা। আদালতই বা কী নির্দেশ দেয় সোমবার।