
শেষ আপডেট: 1 June 2022 02:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঘোর করোনার আগে-পরে ক’য়েক হাজার যৌনকর্মী শহর ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। সেই শূন্যস্থান পূরণ হয়েছে নতুন যৌনকর্মীরা আসায় (Prostitution)। সোনাগাছি, রবীন্দ্রসরণি, রামবাগান, শেঠবাগান, বউবাজার, কালীঘাট সর্বত্রই।
মঙ্গলবার সোনাগাছি গিয়ে জানা গেল, সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া রায় নিয়ে একদিকে আশাবাদী, অন্যদিকে চিন্তিত যৌনকর্মীরা (Prostitution)। যৌনপেশা অপরাধ নয়, এই রায় দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। কেন্দ্র সরকারের কাছে আদালতের পরামর্শগুলির উত্তর চাওয়া হয়েছে। কেন্দ্রর ওপর খুব একটা ভরসা করতে পারছেন না সেখানকার কেউই। তাই আগামী শুনানির অপেক্ষায় সোনাগাছির প্রায় ৬০ হাজার যৌনকর্মী। তাঁদের মধ্যে অনেকের দাবি, সরকার বিষয়টির মান্যতা না দিলে তাঁদের ওপর বঞ্চনা ও অত্যাচার আরও বাড়বে।
কে কে-র মৃত্যুতে মামলা দায়ের, তদন্তে নিউমার্কেট থানা, ময়নাতদন্ত হবে এসএসকেএমে
কীভাবে সমস্যায় ফেলে পুলিশ? উত্তরে অনিতা চৌধুরী (নাম পরিবর্তিত) নামে এক যৌনকর্মী বললেন, ‘বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পুলিশ খদ্দেরদের ধরে গাড়িতে তুলে কিছুটা দূর নিয়ে যায় (Prostitution)। তারপর টাকা তোলে। এই হেনস্থা চলতেই থাকে। অথচ এখানকার কোনও সমস্যায় পাওয়া যায় না। আমাদের কাজ যদি বৈধ হয়, তাহলে আমাদের পরিষেবা নিতে আসা ব্যক্তিকেও নিরাপত্তা দিতে হবে পুলিশকেই।
সোনাগাছিতে এবছর সবথেকে বেশি যৌনকর্মী এসেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে (Prostitution)। এর কারণ হিসেবে মোহিনী দাস (নাম পরিবর্তিত) বললেন, ‘আমিও ওই জেলার বাসিন্দা। আমাদের জেলায় কাজের খুবই অভাব। অভাবী মহিলারা বেশিরভাগই লোকের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করতে কলকাতায় আসে। কেউ কেউ নির্মাণ শ্রমিক হয়ে। এখানে এসে অন্তত ৭০ শতাংশ মেয়ে শরীরের বিনিময়ে কাজ বা অর্থের প্রস্তাব পায় ঠিকাদার বা বাড়ির মালিকের কাছে। অনেকেই কাছেই অন্য কোনও বিকল্প না পেয়ে এটাকেই মূল পেশা করে নিয়েছে।'
নাবালিকা পাচার রুখতে একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে দুর্বার। দুর্বারের মুখপাত্র সঙ্ঘমিত্রা মুখোপাধ্যায় বললেন, 'বয়স বোঝার কোনও প্রমাণপত্র না পেলে বোন ম্যারো টেস্ট করে বয়স বের করা হয়। দুর্বারের হয়ে শহরের তিনটি হাসপাতাল ওই পরীক্ষা হচ্ছে। ওই পরীক্ষায় ধরা পরে আসল বয়স। এরপর লিখিত দিতে হয় যে, স্বেচ্ছায় এই পেশায় এসেছে। তারপরই তাঁকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।'
আগামী ২৭ জুলাই মামলাটির শুনানি। দুর্বার মহিলা সমন্বয় সমিতি জানিয়েছে, আদালত যদি যৌনকর্মীদের পেশাকে বৈধ বলে মনে করে, তাহলে কীভাবে শ্রম অধিকার সংক্রান্ত আইনগুলি তাঁদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে তাঁর সঠিক গাইডলাইন তৈরি করে দিক আদালত। টিটাগড়, নৈহাটি, শ্যাওড়াফুলি, ডোমজুড়, দুর্গাপুর, আসানসোল, শান্তিপুর, কালনা–সহ সব যৌনপল্লীগুলির সঙ্গে আলোচনা করে সমিতি পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।