দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতজুড়ে নাকি ক্রমেই ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে ইসলামভীতি-- এমনই অভিযোগ তুলল ৫৭টি দেশের জোট ওআইসি বা অর্গানাইজেশন অফ ইসলামিক কর্পোরেশন। তাদের আরও দাবি, করোনা পরিস্থিতিতে মুসলিম বিদ্বেষ এতই বেড়েছে ভারতে, যে তাতে রীতিমতো আতঙ্কে ভুগছেন আরব দুনিয়ার সুবিশাল মুসলিম সম্প্রদায়।
শুধু তাই নয়, ভারতের এই প্রবণতা নাকি সেখানকার অন্যতম চর্চার বিষয়ও বটে! তাদের দাবি, ভারতে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে দিচ্ছেন মুসলিমরা-- এমন ভুল ধারণাকে প্রচার করে ছড়ানো হচ্ছে ঘৃণা। এমনকি ভারতের নানা প্রান্তে এই ঘৃণার জেরে আক্রান্তও হয়েছেন মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ!
এই গোটা অভিযোগকেই 'অপপ্রচার' বলে দাবি করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। পাল্টা সমালোচনাও করা হয়েছে এই অপপ্রচারের। কেন্দ্রীয় বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব এই অভিযোগের উত্তরে কড়া ভাষায় জানিয়েছেন, উপসাগরীয় দেশগুলির সঙ্গে ভারতের যথেষ্ট বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। এই সম্পর্ক বজায় রাখতেও সচেষ্ট ভারত, তাই আশা করা হচ্ছে ওআইসি এই দেশের কোনও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না।
শুধু তাই নয়, শ্রীবাস্তব এ-ও বলে দিয়েছেন, যদি কেউ হস্তক্ষেপের চেষ্টাও করে, তবে তা একেবারেই মেনে নেওয়া হবে না। আরবের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক আরও একবার করিয়ে দিয়ে শ্রীবাস্তব আরও বলেন, রমজানের সময়ে আরব মুলুকের দেশগুলিকে খাবার এবং প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করে যাবে ভারত সরকার।
এর পাশাপাশি অনুরাগ শ্রীবাস্তব একথাও বলেন বলেন, "করোনাভাইরাস মহামারীর পরবর্তী অর্থনৈতিক সংকট থেকে ঘুরে দাঁড়াতে ভারতের সঙ্গে ইতিমধ্যেই আলোচনা করতে চাইছে বেশ কয়েকটি উপসাগরীয় দেশ। দেশগুলির সঙ্গে আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক রয়েছে বলেই এই অনুরোধ আসছে। এখন ভারত সম্পর্কে তারা যদি এমন নেতিবাচক অভিযোগ আনে, ভ্রান্ত প্রচার চালায়, তবে তা মেনে নেওয়া হবে না।"
প্রসঙ্গত, মার্চ মাসের মাঝামাঝি দিল্লির নিজামুদ্দিন মার্কেজে মুসলিম সম্প্রদায়ের কয়েক হাজার মানুষের জমায়েত হয় তবলিঘি জামাতের সমাবেশ উপলক্ষে। দেশ-বিদেশ থেকে বহু মানুষ আসেন সেখানে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে সেই সমাবেশে। যদিও দেশে তখনও লকডাউন শুরু হয়নি বা করোনা পরিস্থিতিকে জরুরি বলে ঘোষণা করা হয়নি, তবু অভিযোগ উঠেছিল, ওই জমায়েতে সতর্কতার অভাব ছিল আয়োজকদের মধ্যে। পরে দেশের নানা প্রান্তে জমায়েত-ফেরত মানুষের মধ্যে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে।
অভিযোগ ওঠে, দেশের করোনা পরিস্থিতি এতটা খারাপ হওয়ার পেছনে দায়ী এই জমায়েত। পরিসংখ্যানও বলছে, দেশে যত করোনা আক্রান্ত ধরা পড়েছে, তার পাঁচ ভাগের এক ভাগই জামাত-ফেরত। এর পরেই দেশের নানা প্রান্তে হিংসা মুখে পড়েন মুসলিমরা। কোথাও বয়কট করা হয় তাঁদের, কোথাও সমস্যা হয় ব্যবসায়। এমনকি দেশের শাসক গোষ্ঠীর বহু নেতা-মন্ত্রীরা জামাতের ঘটনাকে ‘করোনা টেররিজ়ম’ বলেও বর্ণনা করেন। প্রচুর ফেক নিউজ়ও ছড়ায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে। তার জেরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রেন্ডিং হয়ে যায় ‘করোনাজিহাদ’ হ্যাশট্যাগ।
গোটা মুসলমান সম্প্রদায়ের উপর ওঠা এই অভিযোগের বিরুদ্ধেই বিভিন্ন আরব দেশ থেকে সমাজকর্মী ও অন্যান্য নাগরিকরা টুইটারে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এই পরিস্থিতিকে ইসলামভীতি ছড়ানোর চেষ্টা বলে বর্ণনা করেছেন।