
শেষ আপডেট: 11 October 2021 12:20
মেরিল্যান্ডের পুজোয় কলকাতার সাবেকিয়ানা, শিকড়ের টানে উদ্যোগী দুই বাঙালি পরিবার
যেই পল্লীর মাটি ছাড়া দুর্গামূর্তির মৃন্ময়ী রূপ ধারণ সম্ভব নয়, সেই পল্লীর মানুষদের তাচ্ছিল্য করে, ব্রাত্য করে কীভাবে শারদোৎসবে মেতে উঠবে বাঙালি, এই প্রশ্নই কুড়ে কুড়ে খাচ্ছিল কলকাতারই বাসিন্দা একদল বন্ধুর। আর সেই প্রশ্ন থেকেই বেরিয়ে এল উপায়। কোনও সংগঠনের ছাতার তলায় না থেকে সম্পূর্ণ নিজেদের উদ্যোগেই পুজোর ঠিক আগে চতুর্থীর দিন তাঁরা কালীঘাট যৌনপল্লীতে আয়োজন করল একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। নাম রাখা হল 'শারদইচ্ছা'। নাট্যাভিনয়, নাচ, গানের পাশাপাশি সেখানকার ৩৩০ জন যৌনকর্মী এবং রূপান্তরকামী যৌনকর্মীর হাতে তুলে দেওয়া হল শাড়ি ও মিষ্টির প্যাকেটও।
অভিষেক কর, নিলয় সাহা, সুচিস্মিতা মণ্ডল, দীর্ঘদিনের বন্ধু। সারাদিন কাজের শেষে রবীন্দ্র সদন চত্বরে রোজের আড্ডাটা তাঁদের জীবনে টাটকা বাতাসের মত, যা পরেরদিন ফের নতুন কাজ শুরুর উদ্যম জোগায়। আর সেই আড্ডার মধ্যেই মাথায় আসে পুজোর সময় যৌনকর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টি। যেমন ভাবনা, তেমন কাজ। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই কথা জানাতেই উপচে উঠল সাহায্যের ডালি।
উল্লেখ্য, এবছর এই 'শারদইচ্ছা' অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় বর্ষ। অনুষ্ঠানের মূল উদ্যোক্তা অভিষেক করের কথায়, "গতবছর লকডাউনের পর যখন সবাই পরিযায়ী শ্রমিকদের, সুন্দরবনের বাস্তুহারাদের সাহায্যে এগিয়ে এসেছিলেন, তখন মনে হয়েছিল যৌনকর্মীদের জন্য তো কেউই এগিয়ে আসে না। লকডাউনের জেরে তো তাঁরাও ক্ষতিগ্রস্ত। ভাঁটা পড়েছে তাঁদের ব্যবসাতেও। এসব ভেবেই বন্ধুদের আড্ডায় তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছাপ্রকাশ করি। তাঁরাও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে আসে। তাই আমি বলতে পারি, এই 'শারদইচ্ছা' কারোর একার চেষ্টায় নয়, সকলের চেষ্টাতেই সফল হয়েছে।
কথায় আছে, ভাল কাজে সৎসঙ্গের অভাব হয় না। এঁদেরও সেই অভাব হয়নি। ফেসবুকে এমন উদ্যোগের কথা জানার পরই পাশে এসে দাঁড়ান কালীঘাটের স্থানীয় সমাজসেবী বাপ্পা ঘোষ। এছাড়াও অভিষেকদের এই 'শারদইচ্ছা' অনুষ্ঠানে সামিল হয়েছিলেন সুদেষ্ণা দে, যিনি দীর্ঘদিন যৌনকর্মীদের দাবি-দাওয়া, সমস্যা নিয়ে কাজ করছেন। সাহায্য এসেছিল বিদেশ থেকেও। সবমিলিয়ে একদল বন্ধুর প্রাণপন উদ্যোগে এবং আরও শত শত মানুষের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় পুজোর আগেই হাসি ফুটল যৌনকর্মীদের মুখে।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'