দ্য ওয়াল ব্যুরো: আপাতত বন্ধই থাকছে প্রিয়া সিনেমা হল। সিনেমা হল কবে খুলবে তা নির্ভর করছে তদন্তকারী দলের রিপোর্টের উপর। সোমবার এমনটাই জানিয়েছেন দমকলের ডিজি। সোমবার সকালেই তিনটি শো বাতিল করা হয়েছে। যাঁরা অগ্রিম টিকিট কেটেছেন তাঁদের টাক ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
রবিবার শো চলাকালীন রাত সাড়ে দশটা নাগাদ আচমকাই আগুন লাগে সিনেমা হলে। কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় একতলার প্রেক্ষাগৃহ। ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের ৫টি ইঞ্জিন। হলের উপরের তলাতেই থাকেন কর্ণধারের পরিবার। আগুন লেগে যাওয়ায় ভিতরে আটকে পড়েন তাঁরা।
প্রাথমিক ভাবে দমকল কর্মীদের অনুমান ছিল অফিস ঘরের একটি হিটার থেকেই আগুন লেগেছে। আচমকাই এ ভাবে আগুন লেগে যাওয়ায় দর্শকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায়। হল থেকে বেরোনোর জন্য হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। কর্ণধারের বাড়ির লোকের উদ্ধার করে প্রথমে ছাদে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে রাত এগারোটা নাগাদ নিরাপদে সবাইকে বের করে আনা হয় বাড়ির বাইরে।।
সোমবার সিনেমা হলে আসে ফরেন্সিক দল। নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে যায় তারা। দমকলের ডিজি জানিয়েছেন, আপাতত বন্ধ রাখা হচ্ছে সিনেমা হল। তদন্ত শুরু করা হয়েছে। কীভাবে এই আগুন লেগেছে সেটাই ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে। গতকাল অবশ্য শোনা যাচ্ছিল, সিনেমা হলের নীচে মোমোর দেকান থেকেই এই আগুন লেগেছে। তবে দমকল আধিকারিকরা জানিয়েছেন, মোমোর দোকান নয় বরং আগুন লেগেছে তিনতলার অফিস ঘর থেকে। মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ও জানিয়েছেন, রবিবার সিনেমা হলের কন্ট্রোলরুম থেকেই আগুন লেগেছিল।
সোমবার সিনেমা হল পরিদর্শন করার পর দমকলের বিশেষ টিম জানিয়েছে, দোতলার জন্য যে সিঁড়ি রয়েছে তা যথেষ্ট চওড়া নয়। সিনেমা হলের জন্য আরও চওড়া সিঁড়ির প্রয়োজন রয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন। এই জন্য নাকি প্রিয়া কর্তৃপক্ষকে নোটিসও পাঠাচ্ছে দমকল। এমনটাই দাবি করেছে দমকল কর্তৃপক্ষ।
তবে প্রিয়ার কর্ণধার জানিয়েছেন, অফিসঘর নয় বরং মোমোর দোকান থেকেই আগুন লেগেছে। সেই জন্য মোমোর দোকানটি তুলে দেওয়ার সিদ্ধন্ত নিয়েছেন তারা। তাদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে প্রিয়া সিনেমা হল কর্তৃপক্ষ।