
শেষ আপডেট: 20 February 2024 15:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জেলখানার বন্দিদের কেমন খাবার দেওয়া হয়, তার গুণমান নিয়ে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার বিধানসভা অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রশ্ন উঠেছিল। সেখানে নিজের জেল জীবনের অভিজ্ঞতার কথা শোনাতে গিয়ে আইএসএফ বিধায়ক নওসাদ সিদ্দিকী দাবি করেছিলেন, “জেলে মাছের সাইজ এতটাই পাতলা যে যিনি মাছে কাটেন তাঁর হাতও কেটে যেতে পারে! এতই পাতলা!”
অভিযোগ খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছিলেন কারামন্ত্রী অখিল গিরি। মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অখিলের দাবি, "নওসাদ ঠিক বলেননি। খোঁজ নিয়ে দেখেছি জেলের বন্দিদের সঠিক পরিমাণের মাছ-সহ অন্যান্য খাবার দেওয়া হয়।"
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, বন্দিদের মাথা পিছু ৭৫ গ্রাম মাছ দেওয়ার কথা। নওসাদের অভিযোগ ছিল, বাস্তবে দেওয়া হয় তার চেয়ে অনেক কম।
এদিন কারামন্ত্রীর ব্যাখ্যা, "মাছের গায় আঁশ না থাকলে তখন তো তার ওজন কিছুটা কমবেই। ফলে মনে হতে পারে সরকারি পরিমাণের চেয়ে কম পরিমাণ মাছ দেওয়া হচ্ছে।নওসাদের অভিযোগের খোঁজ নিয়েছিলাম। রাজ্যের কোনও সংশোধনাগারে বন্দিদের কম পরিমাণ খাবার দেওয়া হয় না। এমন অভিযোগ একেবারেই ঠিক নয়।"
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, বন্দিদের প্রতিদিন মাথাপিছু ২৫০ গ্রাম চাল, ১০০ গ্রাম ডাল, ৩০০ গ্রাম সবজি (তার সাথে ১০০ গ্রাম আলু যুক্ত থাকে) দেওয়া হয়। সপ্তাহে একদিন করে ৭৫ গ্রাম ওজনের মাছ, ৭৫ গ্রাম ওজনের মাংস, ডিম এবং সয়াবিন ২৫ গ্রাম দেওয়া হয়। বিকেলে চারটে বিস্কুট সহ-চা। টিফিনে মুড়ির সাথে বাদাম ও ডাল ভাজা দেওয়া হয়। নিরামিষভোজীদের ২৫০ মিলিলিটার দুধ দেওয়া হয়।
গত বছরের ২১ জানুয়ারি ধর্মতলায় আইএসএফের প্রতিষ্ঠা দিবসের কর্মসূচিতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে আইএসএফ কর্মীদের। ওই ঘটনায় নওসাদ-সহ ২১ জন আইএসএফ নেতা, কর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ৪২ দিনের মাথায় জেল থেকে মুক্তি পান নওসাদ।
বিধানসভায় নওসাদ অভিযোগ করেছিলেন, "খাতায়পত্রে অনেক কিছু লেখা থাকে। সেগুলো কিস্সু হয় না। আসলে বন্দিদের কী কী দেওয়া হয়, তা তিনি নিজে থেকে দেখে এসেছি। এর বিহিত করা জরুরি।" কারামন্ত্রী অবশ্য অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন।