দ্য ওয়াল ব্যুরো: খাবারের মেনু থেকে মাছ-মাংস-বিরিয়ানি উঠছে না। নিরামিষের সঙ্গেই পাত আলো করবে সুস্বাদু আমিষও। তবে দাম বাড়বে খাবারের। ভর্তুকিতে আর খাওয়াদাওয়া করতে পারবেন না সাংসদ ও সংসদের কর্মী, অফিসার, দর্শনার্থী ও সাংবাদিকরা। সংদস ভবনের ক্যান্টিনে নতুন নিয়ম চালু হবে শীঘ্রই।
এখন সংসদ ভবনের ক্যান্টিনের দায়িত্ব রয়েছে সরকার পরিচালিত সংস্থা আইআরসিটিসির (ইন্ডিয়ান রেলওয়ে কেটারিং অ্যান্ড টুরিজম কর্পোরেশন) হাতে। কিন্তু তাদের খাবারের গুণমান নিয়ে বেশ কয়েক মাস ধরেই অভিযোগ জমা পড়ছিল। দাবি উঠেছিল, অন্য ক্যাটারিং সংস্থার হাতে এই দায়িত্ব তুলে দেওয়া হবে। এমনকি এও শোনা গিয়েছিল, হলদিরাম বা বিকানেরওয়ালার মতো কোনও সংস্থা সেই দায়িত্ব নিতে পারে। সুতরাং স্বভাবতই প্রশ্ন উঠেছিল, এমন রদবদল হলে সস্তায় আর চিকেন-ফিস কাটলেট বা মাটন কারি মিলবে না। নিরামিষেই সন্তুষ্ট থাকবে হবে সংসদের সদস্যদের। তবে এই পরিবর্তনটা এখনই হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা।
নিরামিষ থালির পাশাপাশি, আমিষ পদ থাকবে ঠিকই, তবে সস্তায় ভুরিভোজ আর চলবে না। লোকসভার বিজনেস অ্যাডভাইসরি কমিটির বৈঠকে ভর্তুকি উঠিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব আগেই দিয়েছিলেন স্পিকার ওম বিড়লা। তাঁর পরামর্শ মেনে সব দলের সাংসদরাও সর্বসম্মতভাবে ঠিক করেছেন যে খাবারে এবার ভর্তুকি বন্ধ হওয়া উচিত। হোটেল বা রেস্তোরাঁয় খাবার ও পানীয়ের উপরেও ১৪ শতাংশ পরিষেবা কর দিতে হয়, অথচ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সংসদে খাবারের ওপর কোনও করই নেওয়া হয়। বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম যেভাবে বাড়ছে আর সাংসদ বা সংসদের সদস্যদের যা বেতন, সেক্ষেত্রে ভর্তুকির খাবারের কোনও মানেই হয় না।
স্পিকার ওম বিড়লা বলেছেন, সংসদের খাবার বিষয়ক প্যানেলের (ফুড প্যানেল) সঙ্গে আলোচনার পরে স্থির হয়েছে, এখন সংসদ ভবনের ক্যান্টিনের মেনুতে ৪৮ রকমের পদ রয়েছে। যার মধ্যে অধিকাংশ বিক্রিই হয়না। সেক্ষেত্রে অপ্রোয়জনীয় খাবারের পদ ছেঁটে ফেলে বরং বাকি খাবারের গুণগত মান বাড়ানোর দিকে নজর দেওয়া হবে। আমিষ পদ থাকবে, তবে তার দাম বাড়বে। স্পিকারের কথায়, ‘‘আশা করছি মার্চ মাস থেকে এই বর্ধিত মূল্য চালু করা হবে। খাবারের মেনুতে আসবে বদল।’’

সংসদের ক্যান্টিনে এখন থেকে ভেজ থালির দাম পড়বে ৪০ টাকা, চাপাটির দাম একই থাকতে পারে ২ টাকা। চিকেন কারি, ফিশ কারি আর মটন কারির দাম পড়বে যথাক্রমে ৫০, ৪০ এবং ৪৫ টাকায়। চিকেন কাটলেটরে প্রতি প্লেট মিলবে ৪১ টাকায়। তন্দুরি চিকেন ৬০ টাকা। ধোসা আগে মিলত ১২ টাকায়, দাম বেড়ে হবে ২০ টাকা। আর কিছু আইটেম যেমন পোহা, মাটন কারি নিয়মিত রাখা হবে না।
বাজারের দামের চেয়ে ৮০ শতাংশ সস্তায় সংসদ ভবনের ক্যন্টিনে খাবার মিলছে বলে ২০১৫ সাল থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র সমালোচনা শুরু হয়ে যায়। প্রশ্ন ওঠে, যখন অর্থাভাবে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প দীর্ঘ দিন ধরে আটকে থাকছে, তখন কেন ভর্তুকিতে খাবার দেওয়া হচ্ছে ক্যান্টিনে! আর সংসদের ক্যান্টিনে তো শুধু সাংসদরা খান না, সংসদ ভবনের কর্মচারী, নিরাপত্তা কর্মী, দর্শনার্থী, সাংসদের সঙ্গে দেখা করতে আসা সাধারণ মানুষ এমনকি সাংবাদিকরাও ভর্তুকি মূল্যেই খাবার খান। তার উপর অধিকাংশ সাংসদ সংসদ ভবনে চা-টোস্ট ভিন্ন কিছু খান না। অনেকে মধ্যাহ্নভোজের সময় বাড়ি চলে যান। তাঁদের বাদ দিয়েও প্রতিদিন কম করে সাড়ে চার হাজার পাত পড়ে ক্যান্টিনে। ভর্তুকি বাবদ ১৭ কোটি টাকা দেয় কেন্দ্র।