
শেষ আপডেট: 16 July 2022 10:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আগামী পরশু সোমবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন (Presidential Election)। দুই প্রার্থী বিজেপি তথা এনডিএ শিবিরের দ্রৌপদী মুর্মু (Draupadi Murmu) এবং বিরেধী দলের যশবন্ত সিনহার (Yashwant Sinha) মধ্যে একজনকে দেশের ১৪০ কোটি জনতা ১৫ তম রাষ্ট্রপতি হিবাবে বেছে নেবেন। ভাবছেন, রাষ্ট্রপতি ভোটে আবার আমজনতা কবে ভোট দিল?
ঠিকই ধরেছেন। রাষ্ট্রপতি, উপ-রাষ্ট্রপতি পদের নির্বাচনে ভোটার হলেন লোকসভা ও রাজ্যসভার সাংসদ এবং রাজ্য বিধানসভাগুলির বিধায়কেরা। লোকসভার সাংসদেরা ৫৪৩, রাজ্যসভার ২৩৩ এবং ৪০৩৩জন বিধায়ক রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেবেন। গত বছরের তুলনায় এবার ৮৭ জন ভোটার কম। জম্মু-কাশ্মীরের বিধানসভা বর্তমানে না থাকায় সেখানকার ৮৭ জন বিধায়ক এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। অতীতে এমন নজির নেই।
ভারতের রাষ্ট্রপতি আমেরিকা বা রাষ্ট্রপতি শাসনাধীন অন্যান্য রাষ্ট্রের মতো সরাসরি জনগণের ভোটের দ্বারা নির্বাচিত হন না। তবে বিধায়ক, সাংসদেরা যেহেতু সরাসরি জনগণের রায়ে বিজয়ী তাই বলা চলে দ্রৌপদী এবং যশবন্তর মধ্যে কে বিজয়ী ঘোষিত হবেন তাতে আমার-আপনার মতো সাধারণের মতামতও প্রতিফলিত হবে।
আর পাঁচটা নির্বাচনের মতো রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রেও শিক্ষাকে কোনও মানদণ্ড করা হয়নি। অর্থাৎ রাষ্ট্রপতি হতে গেলে বিরাট ডিগ্রিধারী হতে হবে, এমনটা নয়। তবে ধরেই নেওয়া যায়, রাষ্ট্রপতি যেহেতু দেশের সংবিধানের রক্ষক তাই উচ্চশিক্ষিত হওয়া বাঞ্ছনীয়। তাই বলে বিরাট ডিগ্রিধারী হতে হবে এমন নয়।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হতে বয়স হতে হবে ন্যূনতম ৩৫ এবং তিনি কোনও লাভদায়ক পদের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন না।

নির্বাচন কমিশনের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আবার জানানো হয়েছে, ১৬ তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিধায়কদের ভোটের মূল্য ৫ লাখ ৪৩ হাজার ২৩১। আর এমপি-দের সম্মিলিত ভোটের মূল্য হল ৫ লাখ ৪৩ হাজার ২০০। তারমানে সব মিলিয়ে ভোটের মূল্য হল ১০ লাখ, ৮৬ হাজার ৪৩১।
লোকসভা, বিধানসভার ভোটে প্রত্যেকের ভোটের মূল্য সমান এবং তা হল ১। কিন্তু রাষ্ট্রপতি, উপ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট ছাড়াও ভোটের মূল বলে একটি বিষয় আছে। এই দুই নির্বাচনে প্রতিটি ভোটের মূল ১ নয়। বরং অনেক বেশি এবং তা রাজ্যে রাজ্যে আলাদা। এবার যেমন, এমপি, এমএলএ মিলিয়ে মোট ভোটার ৪৮০৯ জন। কিন্তু তাঁদের ভোটের মূল্য হল ১০ লাখ ৮৬ হাজার ৪৩১। ৪৮০৯ জন ভোটারের মাথাপিছু ভোট মূল্য এবার ৭০০। গতবার ছিল ৭০৮। আগেই বলেছি, জন্মু-কাশ্মীরের ৮৭জন বিধায়ক এবার ভোট দিতে পারবেন না। ফলে ভোটের মূল গতবারের থেকে মাথাপিছু আট কমে ৭০০ হয়েছে। অর্থাৎ এবার একজন বিধায়ক বা সাংসদরা ভোট দিলে প্রতি ভোটের মূল্য হবে ৭০০।
এটাই হল সাধারণ নাগরিকের রাষ্ট্রপতি ভোটে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পরোক্ষ ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থার মূলে আছে জনসংখ্যা। প্রত্যেক রাজ্যের জনসংখ্যার (১৯৭১ জনগণনার পরিসংখ্যান অনুযায়ী) ওপর এটা ঠিক হয়ে থাকে। জনসংখ্যাকে বিধানসভার সংখ্যা এবং এক হাজারের গুণ ফল দিয়ে ভাগ করলে যে সংখ্যা আসবে সেটাই হল বিধায়কদের ভোটের মূল্য।
আসলে জনসংখ্যার ভিত্তিতে ওই বছর নতুন করে লোকসভা ও বিধানসভার আসন সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছিল। ২০০৪ সালে আসনগুলির সীমানা নতুন করে নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু লোকসভা ও বিধানসভার রাজ্যভিত্তিক আসন সংখ্যা অপরিবর্তিত আছে।
পশ্চিমবঙ্গের ভোটের মূল্য ১৫১। সবচেয়ে বেশি হল উত্তরপ্রদেশের, ২০৮। সবচেয়ে কম সিকিমের ৭। বাংলার ২৯৪ আসন মিলিয়ে মোট ভোটের মূল্য এবার ৪৪,৩৯৪। এর বেশিরভাগই শাসক দল তৃণমূলের দখলে।
শাসক শিবির এনডিএ-র হাতে আছে ৪৮ শতাংশ ভোট। এরমধ্যে প্রধান শরিক বিজেপির আছে ৪২ শতাংশ। বাকি ছয় শতাংশ শরিকদের।
অন্যদিকে, কংগ্রেস ও তার সহযোগী দলগুলির হাতে আছে মাত্র ২৪ শতাংশ ভোট। একমধ্যে কংগ্রেসের ভোট ১৩.৫ শতাংশ।

এই দুই শিবিরের বাইরে উল্লেখযোগ্য পরিমান ভোট আছে তৃণমূল কংগ্রেসের হাতে—৫.৪ শতাংশ, ওয়াইএসআর কংগ্রেস—৪ শতাংশ, বিজু জনতা দল—২.৮৫ শতাংশ এবং বামেদের ২.৫ শতাংশ। বাকি আছে জেএমএম-সহ ছোট দলগুলির সঙ্গে। বিজু জনতা দল, ওয়াইএসআর কংগ্রেস প্রভৃতি দলগুলি প্রকাশ্যেই জানিয়ে দিয়েছে তারা দ্রৌপদীকে সমর্থন জানাবে। পরে শিবসেনাও সেই তালিকায় নাম লিখিয়েছে। যেমন, জেএমএম ঝুঁকে দ্রৌপদীর দিকে। এত গেল সাদা চোখের হিসাব।
এরপর জনজাতি এবং মহিলা রাষ্ট্রপতি প্রার্থী বলে ক্রস ভোটিংয়ের সুবাদে দৌপদী মার্জিন কতটা বাড়াতে পারেন সেটাই এখন দেখার। বস্তুত, ক্রস ভোটিংই শেষ পর্যন্ত এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী দলগুলির জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাটে গরু-ছাগল বিক্রির মতো টাকা নিয়ে বিকিয়ে যেতে অভ্যস্থ নেতারা গোপন ব্যালটের ভোটে কে কোন দিকে ছাপ দেবে বলা মুশকিল। যশবন্ত সিনহার দাবি, বিবেকের টানে কেউ তাঁর ডাকে সাড়া দেবেন না, এটা ধরে নেওয়া হচ্ছে কেন?