
শেষ আপডেট: 9 June 2022 14:41
তিনি কেরলের রাজ্যপাল। বেশ কিছুদিন ধরেই দিল্লির ক্ষমতার অলিন্দে চর্চা চলছে কেরলের রাজ্যপাল আরিফ মহম্মদ খানকে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি অথবা উপরাষ্ট্রপতি করতে পারেন নরেন্দ্র মোদী। বৃহস্পতিবার দুপুরে নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্ঘণ্ট (Presidential Election 2022) ঘোষণা করার পর ফের তাঁর নাম ভেসে উঠেছে। তাতে যুক্ত হয়েছে চলতি পরিস্থিতি। বিজেপি মুখপাত্রের মুখে নবীর অবমাননা ঘিরে দেশে-বিদেশে সমালোচনার সামনে পড়েছে ভারত সরকার। দেশে বিরোধীরা প্রধানমন্ত্রীর নীরবতা নিয়ে সরব। অনেকে মনে করছেন, এই পরিস্থিতিতে গোটা বিশ্ব, বিশেষ করে আরব দুনিয়াকে বার্তা দিতে আরিফ মহম্মদ খানকে রাষ্ট্রপতি বা উপরাষ্ট্রপতি করে সমালোচনার জবাব এবং ভাবমূর্তি মেরামত সম্ভব।
আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ১৮ জুলাই, আপনিও যে ভোটার, জানেন কি
২০০২ সালে তৎকালীন বিজেপি প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করেছিলেন বিজ্ঞানী এপিজে আবদুল কালামকে। অনেকে মনে করছেন, আরিফ হতে পারেন মোদীর কালাম (Presidential Election 2022)। রাষ্ট্রপতি এবং উপরাষ্ট্রপতি পদে বিজেপির ভাবনায় এবার মহিলা এবং আদিবাসী প্রার্থীও রয়েছেন। ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন রাজ্যপাল ওড়িশার বিজেপি নেত্রী দ্রৌপদী মুণ্ডার নাম আছে। বিবেচনায় রয়েছে তেলেঙ্গানার রাজ্যপাল তথা তামিল নেত্রী তামিলিসাই সুন্দররজনের নামও। বর্তমান রাষ্ট্রপতি কোবিন্দ হলেন অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণিভুক্ত। রাজনৈতিক ভাবেও বিজেপি ইতিমধ্যে ওবিসি ভোটে ভাগ বসাতে পেরেছে। উত্তরপ্রদেশের ভোটের ফল তার জলজ্যান্ত উদাহরণ। কোবিন্দ ওই রাজ্যেরই কানপুরের বাসিন্দা।
তবে এদিন দুপুরের পর চর্চা বেশি আরিফ মহম্মদ খানকে নিয়েই (Presidential Election 2022)। প্রাক্তন এই কংগ্রেস নেতা তথা মন্ত্রীকে মোদী সরকার রাজ্যপাল করেছে এবং বিজেপি তথা গেরুয়া শিবিরের সঙ্গে তাঁর আদর্শগত মিল রয়েছে।
কেরলের রাজ্যপাল (Presidential Election 2022) যেমন মনে করেন, সংখ্যালঘুদের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার করে নেওয়া উচিত। একটি স্বাধীন দেশে কারও বিশেষ মর্যাদা থাকতে পারে না। তেমন এও মনে করেন, মাইনরিটি কমিশন, মাইনরিটি ফিনান্স কমিশনের কোনও প্রয়োজন নেই দেশে। উন্নয়নে কেন হিন্দু-মুসলিম করা হবে?
তাঁর কথায়, দেশে মানবাধিকার কমিশন আছে। সংখ্যালঘুদের কারও মানবাধিকার হরণ হয়ে থাকলে তিনি সেখানেই সুবিচার চাইতে পারেন। পৃথক কমিশনের কী প্রয়োজন?
আরিফ মহম্মদের বক্তব্য, সংবিধানে সংখ্যালঘুদের বিশেষ মর্যাদার কথা বলা আছে ঠিকই। কিন্তু সংখ্যালঘু কীভাবে নির্ধারণ করা হবে তার কোনও ব্যাখ্যা সেখানে নেই।
তাঁর আরও অভিমত, ভারতে সংখ্যালঘু, সংখ্যাগুরুর ধারণা ব্রিটিশের তৈরি করা। তারা ভারতবাসীকে কতগুলি সম্প্রদায়ের সমাহার হিসাবে দেখত। যেমন হিন্দু সম্প্রদায়, মুসলিম সম্প্রদায়, খ্রিস্টান সম্প্রদায় ইত্যাদি। ভারতীয়দের তারা কখনও একটি জাতি হিসাবে বিবেচনা করেনি। স্বাধীনতার পরও সেই ধারণায় আটকে আছে বহু মানুষ। তাই সংখ্যালঘুদের বিশেষ মর্যাদার কথা আসে। তাঁর প্রশ্ন, এই মর্যাদার বিনিময়ে সংখ্যালঘুদের প্রাপ্তি কী?
সব মিলিয়ে বিজেপির রাজনীতির সঙ্গে তাঁর কোনও বিরোধ নেই।
রাষ্ট্রপতি ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশের পর হিন্দুত্ববাদী শিবির থেকেও সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি তোলা হচ্ছে আরিফকে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কিংবা উপরাষ্ট্রপতি করা হোক।
উত্তরপ্রদেশের মানুষ আরিফ মহমদ খান মুসলিমদের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রশ্নে অবস্থানের ক্ষেত্রে বরাবর বাকি মুসলিম নেতাদের থেকে পৃথক অবস্থান নিয়ে চলেছেন। সেই কারণে বরাবর আলোচনায় উঠে আসে তাঁর নাম। নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহরা তাঁকে কেরলের রাজ্যপাল করে পাঠিয়েছেন। সেখানে সিপিএম সরকারের সঙ্গে নানা প্রশ্নে তাঁর বিরোধ বেঁধেছে বারেবারেই।
সেই ধারার সূত্রপাত আটের দশকের মাঝামাঝি সময়ে যখন তিনি রাজীব গান্ধীর মন্ত্রিসভায় ছিলেন। সেই সময় শাহ বানু মামলায় তাঁর সঙ্গে রাজীবের বিরোধ বাধে।
কী ছিল সেই মামলা? ভোপালের তালাকপ্রাপ্ত মহিলা শাহ বানু আদালতে খোরপোষ দাবি করে স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। সুপ্রিম কোর্ট তাঁর দাবি মেনে নেয়।
ওই রায় নিয়ে রে রে করে নেমে পড়ে মুসলিম সমাজের একাংশ। রাজীব গান্ধী মালিকদের খুশি করতে সংসদে বিল এনে মামলার রায় খারিজ করে দেন। রাজীবের সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়ে মন্ত্রিসভা ত্যাগ করেন আরিফ। তাঁর বক্তব্য ছিল, আদালত অসহায় মুসলিম মহিলাদের স্বার্থে রায় দিয়েছে। সরকারের উচিত নয় তা বদলে দেওয়া।
দ্বিতীয় বিরোধ হয় পরের প্রধানমন্ত্রী বিশ্বনাথ প্রতাপ সিংয়ের সঙ্গে। বিশ্বনাথ প্রতাপের সরকার সংখ্যালঘু অর্থ ও বিত্ত নিগম তৈরি করে। বিশ্বনাথ প্রতাপের মন্ত্রিসভার সদস্য আরিফ তাতেও আপত্তি তোলেন। তাঁর বক্তব্য, উন্নয়ন, সরকারি সুবিধা ইত্যাদি প্রদানের ক্ষেত্রে সংখ্যালঘু, সংখ্যাগুরু কেন থাকবে?
এখন দেখার সত্যিই তাঁর রাসিনা হিলসে যাওয়ার সুযোগ আসে কি না!