
শেষ আপডেট: 21 June 2022 07:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এনসিপি নেতা শরদ পাওয়ারের (Sharad Pawar) দিল্লির বাড়িতে আজ দ্বিতীয়বারের জন্য বৈঠকে বসছেন বিরোধী নেতারা। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের (President Election) জন্য বিরোধী শিবিরের তরফে একজনকে বেছে নিতেই এই উদ্যোগ। তবে প্রধান উদ্যোক্তা বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজকের বৈঠকে থাকছেন না। তৃণমূলের প্রতিনিধিত্ব করবেন দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট নয়, শরদের বাড়ির বৈঠকে কোন কোন দল এবং নেতা অংশ নিচ্ছেন। অনেকে মনে করছেন আরও অনেক নেতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অনুসরণ করে নিজেরা না গিয়ে প্রতিনিধি হিসাবে কাউকে পাঠিয়ে দিতে পারেন।
শরদের বাড়িতে যখন বৈঠক চলবে, তখন বিগত কয়েকদিনের মতো রাহুল গান্ধী হয়তো ইডির প্রশ্নের জবাব দিতে ব্যস্ত থাকবেন। অন্যদিকে, দেশের নানা প্রান্তে চলতে পারে ‘অগ্নিপথ’ বিরোধী আন্দোলন।
গতকাল সনিয়া গান্ধী হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন। চিকিৎসকেরা তাঁকে কিছুদিন বিশ্রাম নিতে বলেছেন। সনিয়ার ইডির মুখোমুখি হওয়ার কথা আগামী বৃহস্পতিবার। হাসপাতাল থেকেই তিনি অগ্নিপথ বিরোধী আন্দোলনতারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। গতকাল বিধানসভায় সরব হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেকও সরব ওই প্রকল্পের বিরুদ্ধে।

এই পরিস্থিতিতে অগ্নিপথ (Agnipath) এবং ‘এজেন্সি রাজ’ নিয়ে আজকের বৈঠকে নিন্দা প্রস্তাব পাশ করানোর ভাবনা নিয়ে এগোচ্ছে কংগ্রেস। বিশেষ করে ‘এজেন্সি রাজ’ তারা বিরোধী দলগুলিকে জোটবন্ধ করতে আগ্রহী। রাহুল, সনিয়াকে ইডি তলব করার পর বিরোধী শিবির থেকে তেমন জোরালো প্রতিবাদ শোনা যায়নি। বিক্ষিপ্তভাবে কয়েকজন মুখ খুলেছেন। রাহুলকে আজ নিয়ে পঞ্চম দিন তলব করেছে ইডি। কংগ্রেস মনে করছে ‘এজেন্সি রাজ’ প্রস্তাব আজকের বৈঠক থেকে পাশ করানো গেলে বিরোধী শিবিরে তারা বিচ্ছিন্ন নয়, এই বার্তা তুলে ধরা যাবে। এই ইস্যুতে কংগ্রেস বিরোধী বলে পরিচিত তৃণমূল কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টির সমর্থন পাওয়া সহজ হবে।
বস্তুত, বিরোধী শিবিরের যে নেতারা বৈঠকে যোগ দেবেন বা গত ১৫ তারিখ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন তাঁদের মধ্যে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ছাড়া অনেকের বিরুদ্ধেই ইডি-সিবিআই বিভিন্ন মামলায় তদন্ত চালাচ্ছে। রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হিসাবে নাম উঠে আসা ফারুক আহদুল্লাহকে দিন দশ আগেই ইডি জিজ্ঞাসাবাদ করে। মাস খানেক আগে তাঁরা তলব করেছিল ফারুক পুত্র, জম্মু-কাশ্মীরের আর এক প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাকে। বৈঠকে ছিলেন শিবসেনার সঞ্জয় রাউত। ইডি তাঁর প্রায় একশো কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে সম্প্রতি। অনেক দিন ধরেই ইডি-আয়কর-সিবিআই তদন্ত চলছে সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবের বিরুদ্ধে। আর স্বয়ং শরদের বিরুদ্ধেও আছে ইডির মামলা। ডিএমকে এবং কর্নাটকের জনতা দল সেকুলার-এর একাধিক নেতার বিরুদ্ধেও তদন্ত চালাচ্ছে সিবিআই-ইডি। বিহারে রাষ্ট্রীয় জনতা দলেরও একই দশা। সব দলেরই বক্তব্য, নরেন্দ্র মোদীর সরকার এজেন্সি দিয়ে বিরোধীদের মোকাবিলা করতে চাইছে। আবার এই সব দলই অগ্নিপথ প্রকল্পের তীব্র বিরোধিতা করে তা প্রত্যাহারের দাবি তুলেছে।
এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের একাংশ এবং কয়েকটি ছোট দলও চাইছে, আজকের বৈঠকে ‘মোদীর এজেন্সি রাজ’ এবং ‘অগ্নিপথ’-এর বিরুদ্ধে বিরোধীরা নিন্দা প্রস্তাব গ্রহণ করুক। গতকাল রাষ্ট্রপতি ভবনে গিয়ে কংগ্রেস রাহুল গান্ধীকে ইডির হেনস্থা নিয়ে নালিশ ঠুকে এসেছে। অগ্নিপথ নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে।
আরও পড়ুন: গুরুতর সংকটের মুখে মহারাষ্ট্রের জোট সরকার, ২৫ বিধায়ক নিয়ে উধাও শিবসেনার মন্ত্রী